সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের খবর, যুদ্ধের নতুন আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগযুক্তরাষ্ট্রে আগাম ভোট ২ কোটি ছাড়াল, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনাপশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নজিরবিহীন অভিযান, ১৫ শহরে তল্লাশি, আটক কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নাগরিকরিপাবলিকানরা জিতলেই ৫ হাজার ডলার! ট্রাম্পের এই চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতির পেছনে কী?বিশ্বজুড়ে সাইবার আতঙ্ক, নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, স্বাভাবিক ব্যাংকিং সংযোগ

রিপাবলিকানরা জিতলেই ৫ হাজার ডলার! ট্রাম্পের এই চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতির পেছনে কী?

রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প, তবে অর্থপ্রাপ্তি এখনো নিশ্চিত নয়।

রিপাবলিকানরা জিতলেই ৫ হাজার ডলার! ট্রাম্পের এই চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতির পেছনে কী?
রিপাবলিকানরা জিতলেই ৫ হাজার ডলার! ট্রাম্পের এই চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতির পেছনে কী?

যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশটির প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আবারও জোর দিয়ে ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে তাঁর এই ঘোষণা দেশটির রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সরকারি ব্যয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাধারণ নাগরিকেরা বাস্তবে এই অর্থ পাবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিলিপি অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি আবারও পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলেন। এর আগে অক্টোবরের শুরুতেও তিনি একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে জয়ী হলে তিনি প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে এই অর্থ দেবেন। তিনি একে দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের সুফল নাগরিকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া এবং মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই প্রত্যেকে এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন না। তবে কারা চূড়ান্তভাবে যোগ্য বিবেচিত হবেন, বয়স নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম কী হবে এবং অর্থ বিতরণের আবেদনপ্রক্রিয়া কেমন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়নি।

প্রস্তাবটির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো অর্থের উৎস। ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আসছে এবং তাঁর প্রশাসনের অর্থনৈতিক সাফল্যের কারণে নাগরিকদের এই অর্থ দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি প্রস্তাবটির নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প লভ্যাংশ’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ব্যয় করতে হবে। তবে কীভাবে এই শর্ত কার্যকর করা হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার ডলার করে দিলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় এক লাখ বিশ হাজার কোটি ডলার। এই হিসাব থেকেই বোঝা যায়, এটি সাধারণ কোনো আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি নয়; বরং দেশটির সরকারি ব্যয়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি প্রস্তাব।

ট্রাম্প শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করে এই ব্যয় মেটানোর কথা বললেও বর্তমান রাজস্ব দিয়ে এত বড় অঙ্কের অর্থ বিতরণ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য ব্যয় ও ঋণসংক্রান্ত দায়ও রয়েছে। ফলে শুধু শুল্কের আয়ের কথা বললেই প্রস্তাবটির আর্থিক বাস্তবতা নিশ্চিত হয় না।

প্রস্তাবটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদনও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তাই প্রেসিডেন্টের ঘোষণা থাকলেও অর্থ বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বাজেট অনুমোদনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। বিশেষ করে সিনেটে আইন পাসের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী অনেক প্রস্তাবে ৬০ ভোটের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। রিপাবলিকানরা উভয় কক্ষে জয়ী হলেও প্রস্তাবটি সহজেই অনুমোদিত হবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

এই বিপুল অর্থ মানুষের হাতে পৌঁছালে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। একদিকে নাগরিকেরা অর্থ পেলে কেনাকাটা, ঋণ পরিশোধ এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বস্তি পেতে পারেন। অন্যদিকে, অল্প সময়ে বাজারে বিপুল অর্থ প্রবেশ করলে পণ্য ও সেবার চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। উৎপাদন সেই অনুপাতে না বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সরকারি ঋণ বেড়ে গেলে ভবিষ্যতে করদাতাদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করেছেন।

ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের আসনে ভোট হবে। নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্টের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনিক নীতির বাস্তবায়নে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারের একটি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

তবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। আগেও ট্রাম্প শুল্কের আয় থেকে নাগরিকদের অর্থ দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। সেই ধরনের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে অর্থের উৎস, আইনি অনুমোদন এবং সরকারি ব্যয়ের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। এবার পাঁচ হাজার ডলারের ঘোষণার ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত আইন, অর্থের উৎস এবং বিতরণের সময়সূচি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের হাতে অর্থ পৌঁছানোর বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

ট্রাম্পের পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতির খবর সত্য বলে দাবি করা হলেও এই অর্থ ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে বা নাগরিকেরা নিশ্চিতভাবে পাবেন এমন দাবি করা যাবে না। নির্বাচনের ফলাফলের পাশাপাশি কংগ্রেসের অনুমোদন, সরকারি অর্থের সংস্থান এবং বাস্তবায়নবিধি নির্ধারণের ওপরই প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।


ট্যাগ: ট্রাম্পডোনাল্ড ট্রাম্পপাঁচ হাজার ডলারমার্কিন রাজনীতিযুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনমধ্যবর্তী নির্বাচনরিপাবলিকান দল

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।