যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের ২৮ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগ
নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা ভোটার নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করুন, নাগরিকত্বের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ২৮ জন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপের কথা জানায়। অভিযুক্তরা গ্রিন কার্ডধারী; তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, অনাগরিক হয়েও ভোট দেওয়া এবং নাগরিকত্বের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ। তবে অভিযোগ আনা মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা গ্রিন কার্ডধারী, নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন অথবা ভবিষ্যতে আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম এবং সরকারি কাগজপত্রে দেওয়া তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড থাকলেই ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার পাওয়া যায় না। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে হলে মার্কিন নাগরিক হতে হয়। তাই নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া বা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জরুরি।
মামলাগুলোর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ এক রকম নয়। কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনাগরিক অবস্থায় ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে ভোটার নিবন্ধন বা নাগরিকত্বের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণের বিষয়টি এখনো আলাদা।
এ ঘটনার পেছনে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে ফেডারেল সরকার ও অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের বিরোধও রয়েছে। ফেডারেল বিচার বিভাগ প্রায় ২০ হাজার ভোটারের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা ওই তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই বিরোধের নিষ্পত্তি এবং অভিযুক্তদের মামলার ফলাফল এখন গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু অভিযুক্ত বলেছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন বা নবায়নের সময় ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁরা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। তবে প্রত্যেক অভিযুক্তের পরিস্থিতি এক নয়, এবং এ ধরনের বক্তব্য সব মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদনপত্রে ভোটার নিবন্ধন, পূর্ববর্তী ভোট এবং নাগরিকত্বের অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন থাকতে পারে। ভুল তথ্য দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার অভিযোগ গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই কোনো নোটিশ বা অভিযোগ পেলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।





