স্কুলে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের থামাল অভিবাসন কর্মকর্তারা, নর্থ বার্গেনে ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে স্কুলে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের থামানো নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছে, উদ্বেগ জানিয়েছেন মেয়র, তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় শিক্ষাপ্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নর্থ বার্গেন এলাকায় স্কুলে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের অভিবাসন কর্মকর্তারা থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৯ অক্টোবর সোমবার সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক ভিডিও। ভিডিওতে মুখ ঢাকা কয়েকজন কর্মকর্তাকে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এক নারী শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সে অপ্রাপ্তবয়স্ক। জবাবে এক কর্মকর্তা ওই নারীকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি দেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিবাসন অধিকারকর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
নর্থ বার্গেনের মেয়র নিকোলাস সাক্কো এবং নগর প্রশাসনের কমিশনাররা সোমবার সন্ধ্যায় যৌথ বিবৃতিতে ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা জানান। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন সকালে একটি সরকারি বিদ্যালয়ের বাইরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তাদের কথাকাটাকাটি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। স্থানীয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।
মেয়র ও কমিশনারদের বিবৃতিতে বলা হয়, মুখ ঢাকা অভিবাসন কর্মকর্তাদের এলাকায় উপস্থিতি নর্থ বার্গেনের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ভয় ও ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। স্থানীয় প্রশাসনের হাতে কেন্দ্রীয় সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত হলেও বাসিন্দাদের উদ্বেগ তাঁরা ভাগ করে নিচ্ছেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় প্রয়োজন হলে সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যথাযথ বিচারিক পরোয়ানা বা আইনসম্মত অনুমোদন ছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের বিদ্যালয়ের ভবনে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসন বিবেচনা করবে। তবে বিদ্যালয়ের বাইরে রাস্তায় সংঘটিত কথাকাটাকাটি এবং বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের নিয়ম এক বিষয় নয়। তাই প্রশাসনের বক্তব্যকে সব ধরনের কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হাডসন টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৌর প্রশাসনের বিবৃতিতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের নাম, ঘটনার পূর্ণ স্থান কিংবা কথাকাটাকাটির সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, তা উল্লেখ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমটি ঘটনাস্থল ও ভিডিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি বলেও জানিয়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ঘটনার প্রতিটি দিক এখনো স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
ভিডিওতে কী দেখা গেছে
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হাডসন কাউন্টি ভিউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এসতামোস উনিদোস এনজে ১৯ অক্টোবর সকালে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে সকাল সাতটার দিকে একটি খাবারের দোকানের বাইরে বসে থাকা এক শিক্ষার্থীর কাছে কয়েকজন অভিবাসন কর্মকর্তাকে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় শিক্ষার্থীটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।
ভিডিও ধারণকারী এক নারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বারবার বলেন, ছেলেটি অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাকে ছেড়ে দেওয়া উচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক কর্মকর্তা ওই নারীকে সরে যেতে বলেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কুকুরটিকেও সরিয়ে নিতে বলেন। পরে তাঁকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে ভিডিওর বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দুই কর্মকর্তাকে একজনের ব্যাগ খুলে বা সরিয়ে পরীক্ষা করতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে ব্যাগটি কার ছিল, কেন সেটি পরীক্ষা করা হয়েছিল, তল্লাশির জন্য কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল কি না এবং এর পর কী ঘটেছিল—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। শুধু ভিডিওর সংক্ষিপ্ত অংশ দেখে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য বা পুরো ঘটনার আইনগত বৈধতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রব মেনেনডেজও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হাডসন কাউন্টি ভিউয়ের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, স্কুলে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের থামানো ও জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, বিদ্যালয় বা স্কুলগামী শিশুদের লক্ষ্য করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত নয়। তিনি এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোকে তাঁর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
নিউ জার্সির আইনপ্রণেতা ল্যারি ওয়াইনস্টাইনও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো শিশুর স্কুলে যাওয়ার পথে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করা উচিত নয় এবং অভিভাবকদেরও সন্তান বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কে থাকা উচিত নয়। তবে এসব রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ঘটনার বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের অবস্থান তুলে ধরে; এগুলো নিজেরাই অভিযোগের প্রতিটি অংশের স্বাধীন প্রমাণ নয়।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন নিয়ে প্রশ্ন
নর্থ বার্গেনের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের ধরন নিয়ে বিতর্ক চলছে। অভিবাসন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হলো প্রযোজ্য কেন্দ্রীয় আইন বাস্তবায়ন করা। অন্যদিকে, বিদ্যালয়গামী শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষার পরিবেশ এবং পরিবারের উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়াও স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
নিউ জার্সির শিক্ষা বিভাগ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রবেশের বিষয়ে নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। হাডসন টিভির প্রতিবেদনে ওই নির্দেশনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি না থাকলে বিদ্যালয়ের কর্মীদের প্রথমে জেলা পর্যায়ের প্রধান প্রশাসকের নির্দেশনা নিতে হবে। বিচারকের স্বাক্ষরযুক্ত বিচারিক তল্লাশি পরোয়ানা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকলে এবং জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দিতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। শুধু প্রশাসনিক অভিবাসন পরোয়ানা বিদ্যালয়ে প্রবেশ নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয় বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের অপ্রকাশ্য বা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের নিয়ম এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাস্তায় কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কর্মকর্তাদের কথা বলার আইনগত ভিত্তি এক নয়। বিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষার্থীকে থামানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই বিদ্যালয়ে প্রবেশের নিয়ম দিয়ে রাস্তার ঘটনাটির বৈধতা এককভাবে নির্ধারণ করা যাবে না। সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয়, তাঁদের কার্যক্রমের উদ্দেশ্য, কথোপকথনের সম্পূর্ণ বিবরণ এবং প্রযোজ্য আইন যাচাই করা প্রয়োজন।
নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্য ২০২৬ সালে অভিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। অঙ্গরাজ্যের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চে স্বাক্ষরিত আইনগুলোর মধ্যে আইন প্রয়োগকারীদের পরিচয় প্রকাশ এবং গ্রেপ্তার বা আটক করার আগে যথাযথ পরিচয় দেওয়ার বিধান রয়েছে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে। একই সময়ে অঙ্গরাজ্য সরকার অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকা অবস্থায় দায়িত্ব পালনের বিষয়েও আইনগত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে আইন ভঙ্গ হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য ঘটনার পরিস্থিতি ও আইনের প্রযোজ্য বিধান আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
অঙ্গরাজ্যের নিরাপদ সম্প্রদায় আইন বিদ্যালয়, হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবাস্থলে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রবেশ করতে চাইলে কীভাবে সাড়া দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নীতিমালা তৈরির ব্যবস্থা করেছে। এই বিধানগুলোর লক্ষ্য হলো জরুরি জনসেবা অব্যাহত রাখা, মানুষের আস্থা বজায় রাখা এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করা। তবে এ ধরনের নীতিমালা কেন্দ্রীয় সরকারের সব ধরনের আইন প্রয়োগকারী ক্ষমতা বাতিল করে না।
স্থানীয় প্রশাসনের করণীয় ও তদন্তের গুরুত্ব
মেয়র সাক্কো ও কমিশনাররা জানিয়েছেন, নর্থ বার্গেনের বিদ্যালয় জেলা ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তে শিক্ষার্থীর বক্তব্য, ভিডিও ধারণকারী নারীর সাক্ষ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয় ও বক্তব্য এবং আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঘটনার সময় কোনো আইনগত পরোয়ানা ছিল কি না, শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করা হয়েছিল কি না, ব্যাগ পরীক্ষা করার কারণ কী ছিল এবং কর্মকর্তাদের আচরণ প্রযোজ্য বিধি মেনে হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হতে পারে।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বিবৃতি থেকে জানা যায় না যে শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না কিংবা তাকে কোনো আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল কি না। তাই তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একইভাবে, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। স্থানীয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের ঘোষণা এবং সম্ভাব্য আইনগত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে—এ দুটিকে ইতিমধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
মেয়র ও কমিশনাররা তাঁদের বিবৃতিতে হাডসন কাউন্টিতে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, নর্থ বার্গেনকে সবার জন্য নিরাপদ রাখতে প্রশাসন সতর্ক থাকবে। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান; বাস্তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার কার্যক্রমের ওপর স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা সীমিত। এ কারণেই সম্ভাব্য আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো, অভিবাসী পরিবারের শিশুরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেতে পারে। অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, মানসিক স্বস্তি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনার কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমেছে বা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নির্দিষ্ট প্রভাব পড়েছে—এমন কোনো পরিমাপযোগ্য তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। এসব সম্ভাব্য প্রভাবকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে নয়, বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা উচিত।
অন্যদিকে, অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বক্তব্যও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ টুয়েলভ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের কাছে বক্তব্য চেয়েছে এবং তখনো জবাবের অপেক্ষায় ছিল। হাডসন টিভিও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে মন্তব্য চেয়েছিল বলে জানিয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে সংস্থাটির বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে কর্মকর্তারা কেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের কার্যক্রমের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।





