সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
তল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরবিএনপির আইসিটি ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, অভিনন্দন জানাল সাইবার ইউজার দলট্রাম্পের সমর্থনে রামাস্বামীর বিতর্কিত প্রচারণা, প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবার নিয়ে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতিব্বতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ১৬, আহত ৬৫, ধসে পড়েছে শতাধিক বাড়িঘরযুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে নতুন উত্তাপ: ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজারের বেশি ব্যালট ঘিরে আইনি লড়াই!

ইরানের নতুন ড্রোন ঘিরে তোলপাড়, দ্বিগুণ বিস্ফোরক বহনের দাবি নিয়ে বাড়ছে রহস্য

ইরানের নতুন একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন নিয়ে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে, তবে দ্বিগুণ বিস্ফোরক বহনের তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ইরানের নতুন ড্রোন ঘিরে তোলপাড়, দ্বিগুণ বিস্ফোরক বহনের দাবি নিয়ে বাড়ছে রহস্য
ইরানের নতুন ড্রোন ঘিরে তোলপাড়, দ্বিগুণ বিস্ফোরক বহনের দাবি নিয়ে বাড়ছে রহস্য

ইরানের নতুন একমুখী আক্রমণকারী চালকবিহীন উড়োজাহাজ নিয়ে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির আলোচনা আবারও সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবিতে বলা হচ্ছে, দেশটি এমন একটি নতুন আক্রমণকারী উড়োজাহাজ প্রকাশ করেছে, যার বিস্ফোরক বহনক্ষমতা আগের তুলনায় দ্বিগুণ এবং এতে শত্রুপক্ষের নজরদারি এড়ানোর উন্নত ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এই দাবির সবকটি অংশের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রযুক্তিগত নথি পাওয়া যায়নি।

ইরানের সাম্প্রতিক চালকবিহীন উড়োজাহাজ কর্মসূচি সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে নতুন দাবি এবং আগে থেকেই পরিচিত সামরিক প্রযুক্তির মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি হয়ে পড়ে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইরানের হাদিদ-১১০ নামের একটি জেটচালিত একমুখী আক্রমণকারী উড়োজাহাজ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উড়োজাহাজটি দালাহু নামেও পরিচিত। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর নকশায় রাডারে শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এতে ছোট জেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় এবং উৎক্ষেপণের সময় সহায়ক রকেটের সাহায্য নেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর উন্মুক্ত সামরিক সরঞ্জাম তথ্যভান্ডারে এই উড়োজাহাজ সম্পর্কে কিছু বিবরণ রয়েছে। সেখানে এর বিস্ফোরক ওয়ারহেডের ওজন ৩০ কেজি এবং পাল্লা প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই তথ্যের সঙ্গে নতুন দাবিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। হাদিদ-১১০-এর পরিচিত সংস্করণে ৩০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক ওয়ারহেডের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নতুন কোনো সংস্করণে বিস্ফোরক বহনক্ষমতা দ্বিগুণ করা হয়েছে এমন নির্ভরযোগ্য, স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই নতুন উড়োজাহাজটির নাম, প্রকৃত বহনক্ষমতা এবং আগের সংস্করণের সঙ্গে এর পার্থক্য নিশ্চিত না করে দ্বিগুণ সক্ষমতার দাবিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না।

ইরানের চালকবিহীন উড়োজাহাজের বহরে একাধিক ধরনের আক্রমণকারী ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে শাহেদ-১৩১ এবং শাহেদ-১৩৬ বিশেষভাবে পরিচিত। এগুলো তুলনামূলকভাবে ধীরগতির, দীর্ঘপাল্লার এবং একবারের আক্রমণে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শাহেদ-১৩৬-এর বিস্ফোরক বহনক্ষমতা সংস্করণ ও তথ্যসূত্রভেদে প্রায় ২০ থেকে ৫০ কেজির মধ্যে হতে পারে। এর পাল্লা সম্পর্কেও বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, হাদিদ-১১০-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গতি। প্রকাশিত সামরিক তথ্য অনুযায়ী, এটি ঘণ্টায় প্রায় ৫১০ থেকে ৫১৭ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। এর পাল্লা শাহেদ-১৩৬-এর তুলনায় কম হলেও দ্রুতগতির কারণে প্রতিপক্ষের শনাক্তকরণ, লক্ষ্য অনুসরণ এবং প্রতিরোধের জন্য হাতে থাকা সময় কমে যেতে পারে। অর্থাৎ, ইরানের বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজের সক্ষমতা এক নয়। কোনোটি দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের জন্য তৈরি, আবার কোনোটি তুলনামূলকভাবে কম দূরত্বে দ্রুত আঘাত হানার উপযোগী।

নজরদারি এড়ানোর বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক প্রযুক্তিতে এ ধরনের নকশার উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের রাডারে উড়োজাহাজটির প্রতিফলন কমানো, যাতে সেটিকে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। তবে রাডারে কম দৃশ্যমান হওয়া মানেই সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নয়। আবহাওয়া, উড়ানের উচ্চতা, দূরত্ব, রাডারের ধরন এবং অন্যান্য শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ওপর ফলাফল নির্ভর করে। ফলে কোনো উড়োজাহাজকে অপ্রতিরোধ্য বা নিশ্চিতভাবে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদে সক্ষম বলে দাবি করার জন্য পরীক্ষার ফলাফল ও স্বাধীন মূল্যায়ন প্রয়োজন।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে চালকবিহীন উড়োজাহাজের উৎপাদন ও উন্নয়নে কাজ করছে। দেশটি তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি করা যায় এমন একমুখী আক্রমণকারী উড়োজাহাজের পাশাপাশি দ্রুতগতির জেটচালিত ব্যবস্থাও তৈরি করেছে। এসব প্রযুক্তি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং আকাশ প্রতিরক্ষার কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে কোনো নতুন মডেল প্রকাশ করা, সেটিকে সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বাস্তব সংঘাতে কার্যকর প্রমাণিত হওয়া এই তিনটি আলাদা বিষয়।

ইরানের নতুন উড়োজাহাজ নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় বিবেচনা করা দরকার। সামরিক বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত সক্ষমতার বিবরণ সব সময় স্বাধীন পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হয় না। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি পুরোনো উড়োজাহাজের হতে পারে, অথবা আগের কোনো মডেলের পরিবর্তিত সংস্করণকে নতুন বলে উপস্থাপন করা হতে পারে। তাই ছবির প্রকাশের তারিখ, নির্মাতার পরিচয়, মডেলের নাম এবং প্রযুক্তিগত বিবরণ মিলিয়ে দেখা জরুরি।

ইরানের আক্রমণকারী চালকবিহীন উড়োজাহাজের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা বাস্তব এবং হাদিদ-১১০-এর মতো জেটচালিত মডেলের অস্তিত্ব সম্পর্কে তথ্য রয়েছে। কিন্তু বিস্ফোরক বহনক্ষমতা দ্বিগুণ হওয়ার নির্দিষ্ট দাবিটি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। নতুন সংস্করণটির পরিচয় ও নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সামরিক সক্ষমতার প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ভর করবে যাচাইযোগ্য তথ্য, পরীক্ষার ফলাফল এবং বাস্তব ব্যবহারের প্রমাণের ওপর শুধু প্রচারিত দাবি বা উত্তেজনাপূর্ণ শিরোনামের ওপর নয়।


ট্যাগ: ইরানইরানের_ড্রোনহাদিদ১১০শাহেদ১৩৬সামরিক_প্রযুক্তি

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।