বুকে তীব্র ব্যথায় হাসপাতালে মঈন খান, দেখতে গেলেন রিজভী
বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মঈন খানকে দেখতে গিয়ে চিকিৎসকদের কাছে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার, ২১ অক্টোবর রাতে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় হৃদ্রোগ পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের কাছ থেকে মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানতে চান।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড. আব্দুল মঈন খান হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে নিবিড় হৃদ্রোগ পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। তবে তাঁর অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ, পরীক্ষার ফলাফল এবং চিকিৎসার বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিএনপির সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে মঈন খানের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসকেরা তাঁকে মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে একই দিন সকালে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান। তিনিও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ড. আব্দুল মঈন খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, মন্ত্রীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং আগের দিনের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। আবার কিছু প্রতিবেদনে তাঁর অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একাধিক বিভাগের সমন্বয়ে চিকিৎসা চলার কথা বলা হয়েছে। তাই চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক ও হালনাগাদ বক্তব্য ছাড়া তাঁর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
বুকে তীব্র ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে হৃদ্যন্ত্রের রক্ত চলাচলে বাধা, হৃদ্যন্ত্রের অন্যান্য সমস্যা, ফুসফুসের অসুস্থতা কিংবা অন্য শারীরিক জটিলতা থাকতে পারে। তবে শুধু বুকে ব্যথার তথ্যের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করা যায় না। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। মঈন খানের ক্ষেত্রে কী কারণে এমন উপসর্গ দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে চিকিৎসকদের পরীক্ষা ও মূল্যায়নের ফলাফল প্রয়োজন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ড. আব্দুল মঈন খান দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি নাম। তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সমবায় খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তাঁর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতাভুক্ত।
তাঁর অসুস্থতার খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন তিনি একই সঙ্গে দলীয় ও সরকারি দায়িত্ব পালন করছেন। একজন মন্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর চিকিৎসা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাঁর দায়িত্বের আওতাধীন সরকারি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতাও তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তাঁর অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের কাজে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
রুহুল কবির রিজভীর হাসপাতালে যাওয়ার ঘটনাটি বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে অসুস্থ নেতার খোঁজখবর নেওয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে তিনি মঈন খানের চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তথ্য নিয়েছেন। তবে এ সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে মঈন খানের চিকিৎসা, শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আগ্রহ রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা জরুরি, যাতে অপ্রমাণিত খবর বা অতিরঞ্জিত বক্তব্য মানুষের মধ্যে অযথা উদ্বেগ সৃষ্টি না করে।
এ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, ২১ অক্টোবর রাতে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করার পর ড. আব্দুল মঈন খানকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরদিন রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা তাঁকে দেখতে যান। চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সর্বশেষ নিশ্চিত তথ্যের জন্য পরিবার, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক কিংবা দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।





