সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইরানের সঙ্গে আলোচনা নয়, ট্রাম্পের কঠোর ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা বাড়ছেবাংলাদেশের অস্কার কমিটিতে কার নিয়ন্ত্রণ? চলচ্চিত্র নির্বাচন ও অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্নচার বছরের রুশ কারাবাস শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলেন ৭৪ বছর বয়সী শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ডদক্ষিণ আমেরিকার ১১ দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১৯৫ মিলিয়ন ডলার ছাড়াল‘হাতেও বড়, পরিকল্পনাতেও এগিয়ে’, ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ মিশিগানের সিনেটপ্রার্থী এল-সায়েদের

চার বছরের রুশ কারাবাস শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলেন ৭৪ বছর বয়সী শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ড

রাশিয়ার কারাগারে চার বছরের বেশি সময় বন্দি থাকার পর দেশে ফিরেছেন সাবেক শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ড। তাঁর মুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

চার বছরের রুশ কারাবাস শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলেন ৭৪ বছর বয়সী শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ড
চার বছরের রুশ কারাবাস শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলেন ৭৪ বছর বয়সী শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ড

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৪ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্টিফেন জেমস হাবার্ড দীর্ঘ চার বছরের বেশি বন্দিজীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজ দেশে ফিরেছেন। ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের পর আটক হওয়া এই মার্কিন নাগরিককে ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর রাশিয়া মুক্তি দেয়। মুক্তির পর তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সান আন্তোনিওতে অবস্থিত ল্যাকল্যান্ড বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায় বলে প্রকাশিত আলোকচিত্র ও সংবাদ প্রতিবেদনে জানা গেছে। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘ বন্দিজীবনের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রক্রিয়া এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

হাবার্ডের মুক্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক যোগাযোগ এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের রাশিয়া সফরের সময় এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। উইটকফ ২১ অক্টোবর রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে হাবার্ডের মুক্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে। পুতিন জানান, হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরে উইটকফের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের ছবিও প্রকাশিত হয়। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প সরাসরি পুতিনের কাছে হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

হাবার্ডের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বিগ র‍্যাপিডসে। তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ২৫ বছর জাপানে বসবাস করে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তী সময়ে সাইপ্রাসে থাকার পর ২০১৪ সালে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ইজিউম শহরে চলে যান। সেখানে তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে বসবাস শুরু করেছিলেন। রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর পূর্ব ইউক্রেনের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। একই বছরের এপ্রিলে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় হাবার্ড আটক হন।

হাবার্ড কেন আটক হয়েছিলেন, তা নিয়ে রাশিয়ার অভিযোগ এবং তাঁর পরিবারের বক্তব্যের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। রুশ সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি ছিল, হাবার্ড ইউক্রেনের একটি সামরিক প্রতিরক্ষা ইউনিটে যোগ দিয়েছিলেন এবং রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে সামরিক প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ দেওয়া হয়েছিল এবং মাসে এক হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে মস্কোর একটি আদালত তাঁকে ছয় বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দেয়। বিচারটি রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তবে হাবার্ডের পরিবার ও আইনজীবীরা রাশিয়ার অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মার্কিন আইনজীবী মার্টিন ডি লুকা এর আগে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, হাবার্ড তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং কোনো সামরিক ইউনিটে যুদ্ধ করেননি বলে দাবি করেছেন। তাঁর বোন প্যাট্রিসিয়া হাবার্ড ফক্সও ভাইয়ের সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, হাবার্ডের বয়স, জীবনযাপন এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে রাশিয়ার অভিযোগের সামঞ্জস্য নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ফলে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত ও সর্বসম্মত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।

হাবার্ডের আটক থাকার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন তাঁকে অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে। এর ফলে তাঁর মুক্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর সুযোগ আরও জোরদার হয়। তাঁর আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ায় আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি মুক্তির প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর মুক্তির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। অবশেষে ২০২৬ সালের অক্টোবরে রাশিয়া তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে হাবার্ডের মুক্তিকে মানবিক বিবেচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তাঁকে দেশে ফেরাতে রাশিয়ার সঙ্গে কোনো বন্দিবিনিময় চুক্তির প্রয়োজন হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কাউকে বিনিময়ে মুক্তি দিতে হয়নি। তবে এই মুক্তির পেছনে দুই দেশের আলোচনার সুনির্দিষ্ট সব শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। তাই ঘটনাটিকে কোনো বৃহত্তর সমঝোতার নিশ্চিত ফল হিসেবে বর্ণনা করার মতো পর্যাপ্ত প্রকাশ্য তথ্য নেই। বরং বলা যায়, সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ, কূটনৈতিক বৈঠক এবং দীর্ঘ আইনি প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে হাবার্ডের মুক্তির পথ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ বন্দিজীবনের পর দেশে ফিরে হাবার্ডের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁর শারীরিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁর মুক্তিতে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তাঁরা হাবার্ডের সুস্থ হয়ে ওঠা এবং স্বজনদের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ব্যক্তিগত পরিসর চেয়েছেন। তাঁর চিকিৎসা, মানসিক সুস্থতা এবং স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কী ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কর্মসূচির সব তথ্য প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা যায়নি।

হাবার্ডের মুক্তি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। তাঁর মুক্তির প্রায় দুই মাস আগে, ২০২৬ সালের আগস্টে, আরেক মার্কিন নাগরিক রবার্ট গিলম্যানও রুশ হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। তবে রাশিয়ায় অন্য মার্কিন নাগরিকদের আটক থাকার বিষয়টি এখনো উদ্বেগের কারণ। হাবার্ডের প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একজন প্রবীণ শিক্ষকের ঘরে ফেরার ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা আটকসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে কূটনীতি ও আইনি প্রচেষ্টার গুরুত্বও সামনে এনেছে।

সস্টিফেন হাবার্ডের মুক্তি তাঁর পরিবার ও স্বজনদের জন্য বড় স্বস্তির ঘটনা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, আটক হওয়ার পরিস্থিতি এবং বন্দিজীবনে কী ঘটেছিল এসব বিষয়ে রাশিয়া ও তাঁর পরিবারের বক্তব্যে পার্থক্য রয়ে গেছে। নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন ও প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, তিনি চার বছরের বেশি সময় রুশ হেফাজতে থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন এবং ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন। এখন তাঁর সুস্থতা, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


ট্যাগ: স্টিফেনহাবার্ডরাশিয়াযুক্তরাষ্ট্রইউক্রেনযুদ্ধবন্দিমুক্তিআন্তর্জাতিকসংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।