সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের পক্ষে ট্রাম্পের প্রচার তহবিলে ৩০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়ইরানের সঙ্গে আলোচনা নয়, ট্রাম্পের কঠোর ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা বাড়ছেবাংলাদেশের অস্কার কমিটিতে কার নিয়ন্ত্রণ? চলচ্চিত্র নির্বাচন ও অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্নচার বছরের রুশ কারাবাস শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলেন ৭৪ বছর বয়সী শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ডদক্ষিণ আমেরিকার ১১ দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১৯৫ মিলিয়ন ডলার ছাড়াল

ইরানের সঙ্গে আলোচনা নয়, ট্রাম্পের কঠোর ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা বাড়ছে

ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে না বলে জানালেন ট্রাম্প, শিগগিরই চূড়ান্ত পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা।

ইরানের সঙ্গে আলোচনা নয়, ট্রাম্পের কঠোর ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা বাড়ছে
ইরানের সঙ্গে আলোচনা নয়, ট্রাম্পের কঠোর ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব শিগগিরই পরিস্থিতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি কিংবা নতুন সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি জানান, আলোচনা চলছে না। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে খুব শিগগিরই কিছু ঘটতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তাঁর বক্তব্যে আলোচনার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে আসা সাম্প্রতিক বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ২১ অক্টোবর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলছে এবং যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চলমান সংঘাতের অবসান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের দাবি, ইরানকে এমন কোনো অবস্থানে যেতে দেওয়া যাবে না, যেখান থেকে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে তেহরান নিজেদের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অধিকার এবং সামরিক হুমকি বন্ধের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

এই বিরোধের মধ্যে ইরান সাত দিনের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রস্তাবটিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা সম্পদ নিয়ে সমাধানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর পরবর্তী ধাপে বৃহত্তর সমঝোতা নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ও কাতার দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়া রাশিয়াও ইরানের পারমাণবিক বিষয় নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতায় ভূমিকা রাখছে বলে তেহরান জানিয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি কমানো এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ তৈরি করা।

কিন্তু আলোচনার শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এর আগে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি, চাপ এবং নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আলোচনায় ফিরে যাওয়া কঠিন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখে নিজেদের শর্তে সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইছে। এই মতপার্থক্যই কূটনৈতিক উদ্যোগকে জটিল করে তুলেছে।

পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই তথ্যকে নতুন হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নিশ্চিত সময়সূচি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সামরিক পরিকল্পনা থাকা এবং বাস্তবে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য তাই কূটনৈতিক ও সামরিক দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে তিনি আলোচনার অগ্রগতি অস্বীকার করেছেন, অন্যদিকে খুব শিগগিরই কিছু ঘটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তিনি ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপের কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। নতুন আলোচনা, সামরিক পদক্ষেপ, নিষেধাজ্ঞা জোরদার কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত—কোনটি সামনে আসবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, দুই পক্ষ কি নিজেদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে? কারণ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ট্রাম্পের ‘আলোচনা চলছে না’ বক্তব্যের মূল অংশ সাম্প্রতিক সংবাদপ্রতিবেদনে সমর্থিত। তবে ইরানের পক্ষ থেকে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত থাকার দাবি এবং মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা জরুরি। আপাতত কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি কিংবা নতুন সামরিক অভিযানের নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগই পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


ট্যাগ: ইরানযুক্তরাষ্ট্রট্রাম্পআন্তর্জাতিকসংবাদমধ্যপ্রাচ্যযুদ্ধবিরতিবিশ্বসংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।