সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের জোয়ার, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইটেক্সাসে ডেমোক্র্যাট তালারিকোর পাশে বুশ পরিবারের দুই সদস্য, চাপে ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকান শিবিরনির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের পক্ষে ট্রাম্পের প্রচার তহবিলে ৩০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়ইরানের সঙ্গে আলোচনা নয়, ট্রাম্পের কঠোর ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা বাড়ছেবাংলাদেশের অস্কার কমিটিতে কার নিয়ন্ত্রণ? চলচ্চিত্র নির্বাচন ও অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট তালারিকোর পাশে বুশ পরিবারের দুই সদস্য, চাপে ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকান শিবির

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর পাশে দাঁড়িয়েছেন বুশ পরিবারের দুই সদস্য। এতে রিপাবলিকান শিবিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট তালারিকোর পাশে বুশ পরিবারের দুই সদস্য, চাপে ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকান শিবির
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট তালারিকোর পাশে বুশ পরিবারের দুই সদস্য, চাপে ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকান শিবির

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সিনেট নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী রিপাবলিকান বুশ পরিবারের দুই সদস্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের একজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের মেয়ে বারবারা বুশ, অন্যজন তাঁর ছোট ভাই নিল বুশ। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বারবারা বুশ গত ২৩ সেপ্টেম্বর তালারিকোকে সমর্থনকারী লোন স্টার রাইজিং নামের একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কমিটিতে দুই হাজার পাঁচ শ ডলার অনুদান দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অর্থায়নসংক্রান্ত সরকারি নথিতে এই অনুদানের তথ্য পাওয়া গেছে। হিউস্টন পাবলিক মিডিয়ার প্রতিবেদনেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে অর্থটি সরাসরি তালারিকোর ব্যক্তিগত নির্বাচনী প্রচার তহবিলে দেওয়া হয়নি; তাঁর প্রার্থিতাকে সমর্থনকারী একটি রাজনৈতিক কমিটিতে দেওয়া হয়েছে। এই পার্থক্যটি তথ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, নিল বুশ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, প্রকাশ্য বক্তব্যের মাধ্যমেও তালারিকোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, আগাম ভোটের সময় তিনি তালারিকোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। রিপাবলিকান পরিবারের সদস্য হয়েও প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ এবং তালারিকোর ব্যক্তিত্ব ও নীতির প্রতি প্রশংসার কথা উল্লেখ করেন।

নিল বুশ বলেন, প্যাক্সটনের বিচারবুদ্ধি ও আচরণ নিয়ে তাঁর গভীর উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতায় ধরে রাখার প্রচেষ্টায় প্যাক্সটনের ভূমিকা তাঁকে উদ্বিগ্ন করেছে। নিলের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে সততা, জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রিপাবলিকান হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দলের প্রচলিত রক্ষণশীল আদর্শের অনেক কিছুর প্রতি এখনো তাঁর বিশ্বাস রয়েছে। তবে তাঁর বিবেচনায়, রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে একজন নেতার চরিত্র ও দায়িত্বশীলতার মূল্যায়নকে উপেক্ষা করা যায় না। তিনি তালারিকোর মধ্যে বিনয়, সহনশীলতা, অন্যের মতামত শোনার মানসিকতা এবং সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করার আগ্রহ দেখতে পেয়েছেন বলেও জানান।

বুশ পরিবারের এই অবস্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে টেক্সাসের রাজনৈতিক ইতিহাস বিবেচনা করা প্রয়োজন। একসময় অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী প্রভাব ছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ ডেমোক্র্যাট গভর্নর অ্যান রিচার্ডসকে পরাজিত করার পর রিপাবলিকানদের উত্থান আরও জোরালো হয়। পরবর্তী সময়ে দলটি অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচিত পদ এবং আইনসভায় নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে।

জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং তাঁর ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশ—দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ফলে বুশ পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সেই পরিবারের সদস্যদের একজনের প্রকাশ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দেওয়া এবং আরেকজনের সমর্থনকারী কমিটিতে অর্থ দেওয়া দলীয় আনুগত্যের বাইরে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

এই ঘটনার পেছনে রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও রয়েছে। কেন প্যাক্সটন টেক্সাসের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট রিপাবলিকান প্রার্থী। তিনি চলতি বছরের দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে দীর্ঘদিনের সিনেটর জন কর্নিনকে পরাজিত করে মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। এর আগে ২০২২ সালে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জর্জ পি বুশকে হারিয়েছিলেন প্যাক্সটন। জর্জ পি বুশ হলেন সাবেক ফ্লোরিডা গভর্নর জেব বুশের ছেলে এবং নিল ও জর্জ ডব্লিউ বুশের ভাতিজা।

প্যাক্সটনের রাজনৈতিক জীবন বিতর্কমুক্ত নয়। ২০১৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণাসংক্রান্ত অভিযোগে মামলা হয়েছিল, যা পরে একটি বিশেষ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে মীমাংসিত হয়। ২০২৩ সালে ঘুষ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে টেক্সাসের রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ তাঁকে অভিশংসিত করে। তবে অঙ্গরাজ্যের সিনেটে অনুষ্ঠিত বিচারে তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান। এসব অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক তাঁর বিরোধীদের প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার ফল বিবেচনা করা জরুরি।

অন্যদিকে, জেমস তালারিকো টেক্সাসের একজন ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি। তিনি এবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের আসনটি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটের আসনে জয়ী হননি। তাই তালারিকোর সম্ভাব্য জয় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়, অঙ্গরাজ্যটির দীর্ঘদিনের দলীয় ভারসাম্য পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত হতে পারে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তালারিকো ও প্যাক্সটনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি বলে উঠে এসেছে। তবে জরিপের ফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত করে না। ভোটার উপস্থিতি, স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থীদের প্রচার, অর্থায়ন এবং দলীয় সমর্থকদের ভোটদানের প্রবণতা ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

বুশ পরিবারের সমর্থন তালারিকোর জন্য প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শুধু এই সমর্থনের কারণে নির্বাচনের ফল বদলে যাবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি নেই। বারবারা বুশের অনুদানের পরিমাণও বড় অঙ্কের নির্বাচনী ব্যয়ের তুলনায় সীমিত। তবু প্রকাশ্য ও নথিভুক্ত এই অনুদান এবং নিল বুশের সরাসরি ভোট দেওয়ার ঘোষণা রক্ষণশীল ভোটারদের একাংশের মনোভাব নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

টেক্সাসের এই সিনেট নির্বাচন এখন কেবল দুই দলের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য, রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি এবং দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রশ্নও সামনে এনেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটেই বোঝা যাবে, বুশ পরিবারের এই ব্যতিক্রমী অবস্থান বৃহত্তর ভোটারসমাজে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।


ট্যাগ: জেমসতালারিকোবারবারাবুশনিলবুশটেক্সাসনির্বাচনমার্কিননির্বাচনসিনেটনির্বাচনডেমোক্র্যাটরিপাবলিকানযুক্তরাষ্ট্রেররাজনীতিনির্বাচন২০২৬

প্রতিবেদক

Tasfiq Azad

International Broadcast Journalist

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।