তেহরানের ব্যস্ত চত্বরে খাঁচায় বন্দি ট্রাম্পের ছদ্মবেশী শিল্পী, ছবি তুলতে ভিড় পথচারীদের
ইরানের রাজধানী তেহরানে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্মে কারাগারের পেছনে দেখানো হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছদ্মবেশী এক অভিনয়শিল্পীকে। পথচারীদের কৌতূহল ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনার পরিবেশ।
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরের ব্যস্ত তাজরিশ স্কয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে তৈরি করা হয়েছে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম। সেখানে কারাগারের মতো একটি কাঠামোর ভেতরে ট্রাম্পের মুখোশ পরা এক অভিনয়শিল্পীকে দেখা যাচ্ছে। ব্যস্ত সড়কের ওপর স্থাপিত বিজ্ঞাপনবোর্ডে তৈরি এই পরিবেশনা পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের আদলে পোশাক পরা ওই শিল্পী কারাগারের লোহার শিকের পেছনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করছেন। স্থাপনাটিতে কারাগারের কক্ষের অনুকরণে বিছানা ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পথচারীরা সেখানে থেমে ছবি তুলছেন এবং কেউ কেউ মোবাইল ফোনে দৃশ্যটি ধারণ করছেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ের প্রকাশিত এএফইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্পীটি কখনো ট্রাম্পের পরিচিত নাচের ভঙ্গি অনুকরণ করছেন, আবার কখনো পথচারীদের দিকে নানা অঙ্গভঙ্গি করছেন। অভিনয়টির উদ্দেশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা। এ কারণে ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ রাস্তার পরিবেশনা নয়, বরং রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশের একটি দৃশ্যমান মাধ্যম হিসেবেও সামনে এসেছে।
স্থাপনাটির পেছনে থাকা পর্দায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত শিশুদের ছবি এবং ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকদের বার্তা ও প্রদর্শিত দৃশ্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থাপনাটির সঙ্গে ‘এই দৃশ্য না দেখা অপরাধ’—এমন একটি স্লোগানও যুক্ত করা হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এটি দিনরাত প্রদর্শনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে প্রকল্পটির আয়োজকদের পরিচয় ও অর্থায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
এ ধরনের রাজনৈতিক শিল্পকর্ম ইরানে নতুন নয়। দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও মার্কিন নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যঙ্গচিত্র, দেয়ালচিত্র এবং প্রতীকী প্রদর্শনী দেখা গেছে। এবারের আয়োজনেও ট্রাম্পকে কারাগারের পেছনে দেখানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধ ও সামরিক সংঘাত নিয়ে একটি বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
তাজরিশ স্কয়ার তেহরানের অন্যতম ব্যস্ত জনসমাগমপূর্ণ এলাকা। সেখানে স্থাপনাটি দেখতে মানুষের থামা ও ছবি তোলার কারণে যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে সব পথচারীর প্রতিক্রিয়া এক রকম ছিল না; কেউ কৌতূহল নিয়ে দেখেছেন, কেউ হাসাহাসি করেছেন, আবার কেউ বিরূপ মন্তব্য করেছেন।





