সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, পরমাণু ইস্যু অজুহাত; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কূটনীতির আহ্বানদিল্লির বায়ুদূষণ বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে, দূষণ ঠেকাতে ৩০ সংস্থাকে নিয়ে সরকারের উদ্যোগট্রাম্পের ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে, মুম্বাইয়ে রুবিওর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাবুরকিনা ফাসোতে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল, সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ গুরুতর অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানসুদান-দক্ষিণ সুদান সীমান্তের বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৫৩ জন

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, পরমাণু ইস্যু অজুহাত; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কূটনীতির আহ্বান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের বিরোধের মূল কারণ শুধু পরমাণু কর্মসূচি নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক আদর্শ ও আঞ্চলিক অবস্থান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, পরমাণু ইস্যু অজুহাত; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কূটনীতির আহ্বান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, পরমাণু ইস্যু অজুহাত; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কূটনীতির আহ্বান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ মূল সমস্যার প্রকৃত কারণ নয়; বরং তেহরানের রাজনৈতিক আদর্শ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবের বিরোধিতাই ওয়াশিংটনের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে।

ইরাকের আল-ইখবারিয়া টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, “পরমাণু ইস্যু একটি অজুহাত।” ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত তাঁর বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবস্থান ও আঞ্চলিক নীতিকে মেনে নিতে চায় না।

আরাঘচির দাবি, ইরান এর আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছেছিল এবং তেহরান সেই চুক্তির শর্ত মেনে চলেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরও গভীর হয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের সমঝোতা পরিত্যাগ করেছে এবং একই ধরনের পরিস্থিতি আবারও তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কোনো বিষয়ে আলোচনা শুরুর আগে ওয়াশিংটনকে পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে হবে।

তবে ইরানের এই বক্তব্য তেহরানের নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের বিরোধের ইতিহাস, চুক্তির বাস্তবায়ন এবং প্রতিশ্রুতি পালনের বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে তেহরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে।

এই বিরোধের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা, সামরিক পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নও দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করেছে। ফলে আলোচনার কেন্দ্রে শুধু পারমাণবিক কার্যক্রম নয়, বরং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামরিক সংঘাত বন্ধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে আরাঘচি দাবি করেন, ইরানের সামরিক প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার বিরুদ্ধে প্রধান প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করছে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার সব লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, ইরান সামরিক হুমকি বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। একই সঙ্গে তিনি কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানান।

আরাঘচির বক্তব্যে একদিকে সামরিক প্রস্তুতির বার্তা, অন্যদিকে আলোচনার আহ্বান দুই বিষয়ই উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁর সর্বশেষ অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ জবাব এই প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার শর্তের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনকে আগের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে এবং তেহরানের শর্ত মেনে নিতে হবে।

তিনি জানান, পাকিস্তান ও কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনায় প্রণালিটি পুনরায় চালু করা এবং পরবর্তী সময়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথে চলাচল ব্যাহত হলে তেল ও গ্যাস সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাজার এবং জ্বালানির দাম প্রভাবিত হতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধের কূটনৈতিক সমাধান শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

আরাঘচির সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তেহরান আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পূরণের নিশ্চয়তা চায়। অন্যদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগও দুই দেশের আলোচনায় বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস, সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকায় দ্রুত সমঝোতা হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক শর্ত নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


ট্যাগ: : ইরানযুক্তরাষ্ট্রআব্বাস আরাঘচিডোনাল্ড ট্রাম্পপরমাণু কর্মসূচিইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাহরমুজ প্রণালি

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।