সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
কাতার-ফ্রান্স সম্পর্ক আরও জোরদারে আমির ও ম্যাক্রোঁর বৈঠক, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষায় নতুন সহযোগিতার আশাইরানের শর্ত না মানলে খুলবে না হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা তেহরানেরহ্যালোইনে খরগোশ সাজতে চেয়েছিল ওরেগনের স্কুলে নিহত পাঁচ বছরের শিশু রোয়াম সামারজ্বালানি তেলের চাপ ও ফেডের সুদের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবারও কমল সোনার দামঅভিবাসন আবেদন অনলাইনে জমার সুযোগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কাগজপত্র পাঠানোর ঝামেলা কমবে

ইরানের শর্ত না মানলে খুলবে না হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত প্রত্যাখ্যান করে হরমুজ প্রণালি খুলতে নিজেদের দাবি পূরণের আহ্বান জানিয়েছে ইরান; পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় চলছে পরোক্ষ আলোচনা।

ইরানের শর্ত না মানলে খুলবে না হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা তেহরানের
ইরানের শর্ত না মানলে খুলবে না হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা তেহরানের

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা কমছে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের শর্তগুলো মেনে নিলে প্রণালিটি পুনরায় চালুর বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে ইরান আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চললেও আলোচনায় এখনো বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান প্রণালিটি পুনরায় চালুর জন্য সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে।

ইরানের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ, দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের দাবি। তেহরানের বক্তব্য, আগে বিদ্যমান সমঝোতার শর্তগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে, এরপর অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে। তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা, নিরাপত্তাঝুঁকি এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ১৮ অক্টোবর জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাব এখনো বহাল রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া তেহরান পর্যালোচনা করছে। ইরানের দাবি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিক হলে প্রণালিটি পুনরায় চালু করার পথ তৈরি হতে পারে।

২০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনেও আলোচনার অচলাবস্থা স্পষ্ট হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, নির্দিষ্ট দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইরান প্রস্তুত নয়। দেশটির দাবির মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ করা।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কাতারও দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এবং সংঘাত নিরসনের উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আগেই জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তবে পরোক্ষ যোগাযোগ চলমান থাকলেও দুই দেশের আলোচনার অগ্রাধিকারে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ইরান চায়, প্রথমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হোক, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হোক এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের বিষয়ে অগ্রগতি আসুক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমাধান চায়। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানো এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের সমঝোতার সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এসব শর্তের মধ্যে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং সামরিক সংঘাত বন্ধের বিষয় রয়েছে। তেহরান মনে করে, আগের সমঝোতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে নতুন আলোচনায় অগ্রগতি অর্জন কঠিন।
এই অচলাবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস। ইরানের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, আগের আলোচনার পরও সংঘাত ফিরে এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তেহরান এখন কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা ও সামরিক প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব বোঝার জন্য বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে এর ভূমিকা বিবেচনা করা প্রয়োজন। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদক দেশগুলোর জন্য এটি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান পথ। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি বাজার প্রভাবিত হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে এই জলপথের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়েছে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজের কাছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এবং অন্যটি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি জাহাজের ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও অন্য ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হন। এসব ঘটনা বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকল্প পথ, ছোট আকারের ট্যাংকার এবং নতুন পরিবহন চুক্তির বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে। ২০ অক্টোবরের রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়ার বিভিন্ন শোধনাগার জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পরিবহন কৌশলে পরিবর্তন আনছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এশিয়ায় তেল পরিবহনের ব্যয়ও বেড়েছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানিকারকদের খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তেলের দামেও এই উত্তেজনার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ২০ অক্টোবরের বাজারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং কূটনৈতিক তৎপরতার খবরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম দিনের এক পর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলার ৯৯ সেন্টে উঠলেও পরে কমে ১০৮ ডলার ৭৯ সেন্টে দাঁড়ায়। এই পরিবর্তন দেখায়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা জ্বালানি বাজারে কতটা প্রভাব ফেলছে।

তবে প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে কোনো সমঝোতা হলেই যে সব সমস্যা দ্রুত মিটে যাবে, তা নিশ্চিত নয়। জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, নৌপথের নিয়ন্ত্রণ, সম্ভাব্য সামরিক হামলার ঝুঁকি এবং দুই দেশের পারমাণবিক বিরোধের মতো বিষয়ও সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজের মালিক ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তাঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। তাই কূটনৈতিক সমঝোতা হলেও স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরতে সময় লাগতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে দুই পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর। ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র আগে পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করুক। যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হলো পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে অগ্রগতি অর্জন। এই দুই অবস্থানের মধ্যে সমঝোতা তৈরি না হলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


ট্যাগ: ইরানআব্বাস আরাঘচিহরমুজ প্রণালিযুক্তরাষ্ট্রপাকিস্তানকাতারমধ্যপ্রাচ্য সংকটআন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারতেল রপ্তানিকূটনৈতিক আলোচনানৌ অবরোধবিশ্ব অর্থনীতি

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।