সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
কাতার-ফ্রান্স সম্পর্ক আরও জোরদারে আমির ও ম্যাক্রোঁর বৈঠক, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষায় নতুন সহযোগিতার আশাইরানের শর্ত না মানলে খুলবে না হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা তেহরানেরহ্যালোইনে খরগোশ সাজতে চেয়েছিল ওরেগনের স্কুলে নিহত পাঁচ বছরের শিশু রোয়াম সামারজ্বালানি তেলের চাপ ও ফেডের সুদের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবারও কমল সোনার দামঅভিবাসন আবেদন অনলাইনে জমার সুযোগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কাগজপত্র পাঠানোর ঝামেলা কমবে

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের উত্তাপ, নির্বাচনের আগে ট্রাম্প-ভ্যান্সের ২৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন পুরস্কার কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট চলছে, আর জালিয়াতির তথ্যদাতাদের পুরস্কার দেওয়ার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প ও ভ্যান্স।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের উত্তাপ, নির্বাচনের আগে ট্রাম্প-ভ্যান্সের ২৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন পুরস্কার কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের উত্তাপ, নির্বাচনের আগে ট্রাম্প-ভ্যান্সের ২৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন পুরস্কার কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ভোটারদের একাংশ ইতিমধ্যে আগাম ভোট দিচ্ছেন, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সরকারি অর্থের অপব্যবহার শনাক্ত করতে নতুন আর্থিক পুরস্কার কর্মসূচি চালু করেছেন। ২০ অক্টোবরের এই ঘোষণা এমন সময় এসেছে, যখন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সরকারি কর্মসূচি ও করদাতাদের অর্থ নিয়ে সম্ভাব্য জালিয়াতির তথ্য দিতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। প্রশাসনের দাবি, নির্ভরযোগ্য তথ্যের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রতারণা শনাক্ত করা গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

নির্বাচন ও এই ঘোষণার সময়কাল কাছাকাছি হলেও কর্মসূচিটি নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই। তবে সরকারি অর্থের অপচয়, করদাতাদের স্বার্থ এবং প্রশাসনের জবাবদিহির মতো বিষয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন কর্মসূচিটির নাম রাখা হয়েছে সরকারি জালিয়াতির তথ্যদাতা পুরস্কার কর্মসূচি। এটি পরিচালনা করবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। কেউ সরকারি অর্থের সম্ভাব্য জালিয়াতি সম্পর্কে এমন তথ্য দিলে, যার ভিত্তিতে জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তিনি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলারের পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে। ফলে এই অর্থ সবার জন্য নিশ্চিত নয়; তথ্যের গুরুত্ব, তদন্তের ফলাফল এবং কর্মসূচির শর্ত পূরণের বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, জালিয়াতি শনাক্ত করতে তথ্যদাতাদের পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা সরকারি অর্থ উদ্ধারে জনগণকে আরও সক্রিয় করতে পারে। তিনি বলেন, কেউ সরকারি অর্থের অপব্যবহার সম্পর্কে কার্যকর তথ্য দিলে সেই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তবে পুরস্কারের অর্থ কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে ঘোষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। ট্রাম্প বলেছেন, একই তথ্যের কৃতিত্ব একাধিক ব্যক্তি দাবি করলে পুরস্কার বণ্টন নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত দেবেন। এ নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প পুরস্কারের পরিমাণ নিয়ে আরও একটি হিসাবের কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যে জালিয়াতির মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া অর্থের এক শতাংশ কমিশন হিসেবে দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। কিন্তু সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলারের ঘোষণার সঙ্গে এই এক শতাংশের হিসাব কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা জরুরি। তাই প্রত্যেক তথ্যদাতা জালিয়াতির অর্থের এক শতাংশ পাবেন, অথবা সবাই ৩০ হাজার ডলার পাবেন—এমন দাবি করা সঠিক হবে না। কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ নিয়ম ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের আগে থেকে চলমান সরকারি জালিয়াতিবিরোধী প্রচেষ্টা। চলতি বছরের মার্চ মাসে ট্রাম্প সরকারি কর্মসূচিতে প্রতারণা ও অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে এর নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুন পুরস্কার কর্মসূচিকে সেই বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, সরকারি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা এবং অন্যান্য খাতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
এই উদ্যোগের আলোচনায় মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র নিয়ে ওঠা অভিযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিক শার্লি নামের এক রক্ষণশীল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্মাতা সেখানে সরকারি অর্থায়ন পাওয়া কিছু শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। ভিডিওতে তিনি কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং পরবর্তী সময়ে তদন্ত শুরু হয়। তবে কোনো ভিডিওতে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান জালিয়াতি করেছে, এমন নয়। অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া প্রমাণ এবং আদালতে প্রতিষ্ঠিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।
প্রতিবেদনগুলোতে ফাহিমা মাহামুদ নামের এক নারীর মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে খাবার পরিবেশনের জন্য অতিরঞ্জিত ব্যয়ের হিসাব দাখিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জালিয়াতির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে এই মামলার ফলাফল থেকে মিনেসোটার সব শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায় আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
নির্বাচনের প্রসঙ্গে আসা যাক। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই ভোটকে মধ্যবর্তী নির্বাচন বলা হয়। এতে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন, সিনেটের একাধিক আসন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ নানা স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের পদে ভোট হবে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। এ কারণে শুধু প্রেসিডেন্টের দল নয়, বিরোধী দলও এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট চলছে। আগাম ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা মূল নির্বাচনের দিনের আগেই নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন। কিছু অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে কোথায় কখন ভোট দেওয়া যাবে, ভোটার নিবন্ধনের শর্ত কী এবং কোন পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া যাবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। তাই সব অঙ্গরাজ্যের জন্য একই সময়সূচি বা নিয়ম প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ভোটারদের নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন দপ্তরের নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।

নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন দপ্তরের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, সেখানে ১৫ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সরাসরি আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মূল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। এটি প্রমাণ করে যে নির্বাচনের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই কিছু এলাকায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে। তবে নর্থ ক্যারোলাইনার সময়সূচিকে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যের সময়সূচি হিসেবে দেখানো যাবে না। ভোটের সময়, কেন্দ্র এবং পদ্ধতি জানতে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি নির্দেশনাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় অনুমোদন, প্রশাসনের নীতিগত পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন তদন্তের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নির্বাচনের ফলাফল আগামী দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের কাজ করার সুযোগ কতটা থাকবে, তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ভোটের আগে কোনো দল নিশ্চিতভাবে জয়ী হবে, এমন দাবি করা সমীচীন নয়। ভোটারদের উপস্থিতি, স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা এবং নির্বাচনী প্রচারের প্রভাব মিলিয়েই চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হবে।
নতুন জালিয়াতিবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ দাখিলের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে। তৃতীয়ত, পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হবে এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে কি না, তা পরিষ্কার হওয়া দরকার। এসব বিষয়ে স্বচ্ছ নিয়ম থাকলে প্রকৃত অনিয়ম শনাক্ত করার পাশাপাশি নির্দোষ ব্যক্তিদের অযথা হয়রানি থেকেও রক্ষা করা সম্ভব হবে।

সরকারি অর্থের জালিয়াতি শনাক্ত করা এবং করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যেকোনো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জনগণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ সেই কাজে সহায়তা করতে পারে। তবে কার্যকর তদন্ত, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়া এবং জবাবদিহি ছাড়া শুধু আর্থিক পুরস্কারের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। কর্মসূচিটির সাফল্য নির্ভর করবে কতটা নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়, কতটি অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয় এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধে বাস্তবে কতটা অগ্রগতি হয় তার ওপর।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনডোনাল্ড ট্রাম্পজে ডি ভ্যান্সআগাম ভোটমধ্যবর্তী নির্বাচনসরকারি জালিয়াতিতথ্যদাতা পুরস্কারমার্কিন রাজনীতিবিচার বিভাগসরকারি অর্থের অপব্যবহার

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।