ব্রেকিং
বাংলাদেশ মডেলে সহিংসতার মাধ্যমে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে কংগ্রেস, বিস্ফোরক অভিযোগ ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরঅসুস্থ ছয় বছরের মেয়েকে হ্রদে ফেলে পালানোর অভিযোগ মায়ের, সাহসী তিনজনের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল শিশুট্রাম্পের ওপর ক্ষোভ, ওয়াশিংটনে বড় পরিবর্তন চান অধিকাংশ মার্কিন ভোটারপ্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটালেন প্রতিমন্ত্রী, আজ যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষানেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনে চ্যালেঞ্জ, ইসরায়েলের নির্বাচনে বাড়ছে ডানপন্থী বিরোধীদের শক্তি

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটালেন প্রতিমন্ত্রী, আজ যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষা

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিতের পর নতুন উদ্যোগ, সচিবালয়ে রাত কাটিয়ে নিরাপত্তা তদারক করছেন প্রতিমন্ত্রী, প্রায় তিন লাখ উনিশ হাজার প্রার্থীর অপেক্ষা।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটালেন প্রতিমন্ত্রী, আজ যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষা
প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটালেন প্রতিমন্ত্রী, আজ যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষা

 যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আগের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর এবার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নতুন করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঠেকাতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সচিবালয়ে রাত কাটিয়েছেন। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তদারক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, বিকেল তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়োগে একাদশ গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় তিন লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণের কারণে পরীক্ষাটি ঘিরে আগে থেকেই ব্যাপক আগ্রহ ছিল। কিন্তু গত ১০ অক্টোবর পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। পরে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ার কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। এতে ঢাকায় পরীক্ষা দিতে আসা বহু প্রার্থীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

প্রথমবারের পরীক্ষাটি সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ সামনে আসে। পরীক্ষার্থীদের একাংশ প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি তুলে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণার পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শাহবাগ ও সাতমসজিদ সড়কসহ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। এতে নগরীর যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। দূরবর্তী জেলা থেকে আসা প্রার্থীদের যাতায়াত, থাকা ও অন্যান্য খরচের পাশাপাশি সময় নষ্ট হওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ে।

এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, সংরক্ষণ এবং কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ তদারক করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সচিবালয়ে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। প্রয়োজনে নিজের দপ্তরেই বিশ্রাম নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও প্রকাশিত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পুলিশি পাহারার ব্যবস্থাও নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকার শতাধিক কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর স্থান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো প্রশ্নপত্র যেন নির্ধারিত সময়ের আগে অননুমোদিত ব্যক্তির হাতে না পৌঁছায়।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের আওতায় প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপানো এবং অনুলিপি প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল আলামত সংগ্রহ করেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, কারা এতে জড়িত এবং কোথায় নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবেশপত্র, সিলমোহর ও ব্যাংকের চেক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতার মাত্রা নির্ধারণ করা জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এর আগে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা বাইরের কেউ—প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বক্তব্যের বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের কাছে শুধু পরীক্ষা আয়োজনই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

সরকারি চাকরির একটি পদকে কেন্দ্র করে যখন কয়েক লাখ প্রার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, তখন প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও পরীক্ষার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। সামান্য অনিয়মও যোগ্য প্রার্থীদের প্রতি অবিচার তৈরি করতে পারে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তাই শুধু একটি পরীক্ষার সমস্যা নয়, বরং সরকারি নিয়োগব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

আজকের পরীক্ষায় নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়, প্রশ্নপত্র নির্ধারিত সময়ে ও সুরক্ষিতভাবে কেন্দ্রে পৌঁছায় কি না এবং কোনো নতুন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে কি না সেদিকে নজর থাকবে চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের। একই সঙ্গে আগের ঘটনার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় আজকের পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল বা পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই পরীক্ষার সফল সমাপ্তি কিংবা নতুন কোনো অনিয়মের বিষয়ে নিশ্চিত দাবি করার সুযোগ নেই।



ট্যাগ: বাংলাদেশযুবউন্নয়ননিয়োগপরীক্ষাপ্রশ্নপত্রফাঁসআমিনুলহক

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।