ব্রেকিং
প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটালেন প্রতিমন্ত্রী, আজ যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষানেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনে চ্যালেঞ্জ, ইসরায়েলের নির্বাচনে বাড়ছে ডানপন্থী বিরোধীদের শক্তিটেক্সাসে ভোটার নিবন্ধনের বিশাল জট কাটল, নির্বাচনের আগে স্বস্তি ফিরল লাখো ভোটারের মনেযে পাঁচ অপরাধে বিদেশিদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ চিরতরে বন্ধ হতে পারেকণ্ঠস্বর হারালে নিজের বদলে রোবট পাঠানোর মজার কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

চীন ও উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে খুলল দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা বৃহত্তম সীমান্ত সেতু

এক দশকের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর নতুন সেতু চালু হলো; দুই দেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ।

চীন ও উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে খুলল দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা বৃহত্তম সীমান্ত সেতু
চীন ও উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে খুলল দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা বৃহত্তম সীমান্ত সেতু

চীন ও উত্তর কোরিয়া তাদের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকা আমনোক নদীর ওপর নতুন সেতুটি গত ১৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এই সেতু চীনের দানদং শহরের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু শহরকে যুক্ত করেছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন এই যোগাযোগপথ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য পরিবহন সহজ করা এবং মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সেতুটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। চীনের অংশের কাজ ২০১৪ সালেই সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার দিকে সংযোগ সড়ক, শুল্ক পরীক্ষা কেন্দ্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত না থাকায় প্রকল্পটি কার্যকর করা যায়নি। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের ওঠানামা, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মহামারির সময় সীমান্তে বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি দীর্ঘদিন প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে পারেনি।

নতুন সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় তিন হাজার ছাব্বিশ মিটার এবং প্রস্থ প্রায় ২৮ দশমিক ৫ মিটার। এতে দুই দিকের যান চলাচলের জন্য চারটি লেন রয়েছে। সেতুটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে এর নিচ দিয়ে তিন হাজার টন শ্রেণির নৌযান চলাচল করতে পারে। নদীর ওপর নির্মিত তারে ঝোলানো এই সেতুর দুটি উঁচু স্তম্ভ এবং আধুনিক কাঠামো সীমান্ত এলাকার পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে এর প্রকৃত বাণিজ্যিক সুফল নির্ভর করবে সীমান্তের শুল্ক কার্যক্রম, যানবাহন চলাচল এবং দুই দেশের প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থে সং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন। দুই দেশের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। চীনা প্রধানমন্ত্রী সেতুটিকে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীও সেতুটির মাধ্যমে দুই দেশের সমৃদ্ধি, জনগণের কল্যাণ এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নতুন সেতুর গুরুত্ব বোঝার জন্য পুরোনো চীন–উত্তর কোরিয়া মৈত্রী সেতুর দিকে তাকানো প্রয়োজন। ১৯৪৩ সালে চালু হওয়া পুরোনো সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে প্রধান স্থল যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেখানে সড়ক ও রেল যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকলেও সড়কপথে চলাচলের সক্ষমতা সীমিত। ফলে নতুন সেতুটি ভারী পণ্যবাহী যান চলাচল এবং সীমান্তের পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লিয়াওনিং প্রদেশে অবস্থিত দানদং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। অন্যদিকে সিনুইজু উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর। নতুন সেতু চালুর ফলে দুই শহরের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রী, শিল্পকারখানার সরঞ্জাম, ভোগ্যপণ্য এবং অন্যান্য বৈধ বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে নতুন পথটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গুদাম, পরিবহন, পণ্য খালাস এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে সেতু চালু হওয়া মানেই দুই দেশের বাণিজ্য রাতারাতি বহুগুণ বেড়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। এসব বিধিনিষেধের আওতায় পড়া পণ্য ও কার্যক্রম নতুন সেতুর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যাবে না। বাণিজ্যের প্রকৃত সম্প্রসারণ নির্ভর করবে নিষেধাজ্ঞার বিধান মেনে চলা, শুল্ক তদারকি, অর্থনৈতিক চাহিদা এবং দুই দেশের বাস্তব নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।

দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ায় চীনের রপ্তানি প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ২৩০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এই পরিমাণ ২০১৭ সালের আগের বাণিজ্যিক স্তরের তুলনায় কম ছিল। নতুন সেতুটি সীমান্তে পণ্য পরিবহন সহজ করতে পারে, তবে মোট বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি কতটা হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

কূটনৈতিক দিক থেকেও উদ্বোধনটি তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিং ও পিয়ংইয়ং নিজেদের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন সেতুটি সেই সহযোগিতার দৃশ্যমান অবকাঠামোগত নিদর্শন। তবে এর মাধ্যমে কোনো নতুন সামরিক চুক্তি হয়েছে, কিংবা দুই দেশের নিরাপত্তা নীতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন এসেছে এমন তথ্য উদ্বোধনসংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। সেতুটির ঘোষিত প্রধান উদ্দেশ্য হলো যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং জনগণের পারস্পরিক বিনিময় বৃদ্ধি করা।দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নতুন সীমান্ত সেতুটি চালু হওয়া চীন ও উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক যোগাযোগে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।



ট্যাগ: চীনউত্তরকোরিয়াসীমান্তসেতুআমনোকনদীবিশ্বসংবাদআন্তর্জাতিকবাণিজ্য

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।