ব্রেকিং
বাংলাদেশ মডেলে সহিংসতার মাধ্যমে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে কংগ্রেস, বিস্ফোরক অভিযোগ ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরঅসুস্থ ছয় বছরের মেয়েকে হ্রদে ফেলে পালানোর অভিযোগ মায়ের, সাহসী তিনজনের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল শিশুট্রাম্পের ওপর ক্ষোভ, ওয়াশিংটনে বড় পরিবর্তন চান অধিকাংশ মার্কিন ভোটারপ্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটালেন প্রতিমন্ত্রী, আজ যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষানেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনে চ্যালেঞ্জ, ইসরায়েলের নির্বাচনে বাড়ছে ডানপন্থী বিরোধীদের শক্তি

ট্রাম্পের ওপর ক্ষোভ, ওয়াশিংটনে বড় পরিবর্তন চান অধিকাংশ মার্কিন ভোটার

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে; মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিবর্তনের জোরালো দাবি উঠছে।

ট্রাম্পের ওপর ক্ষোভ, ওয়াশিংটনে বড় পরিবর্তন চান অধিকাংশ মার্কিন ভোটার
ট্রাম্পের ওপর ক্ষোভ, ওয়াশিংটনে বড় পরিবর্তন চান অধিকাংশ মার্কিন ভোটার

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও জনমত গবেষণা প্রতিষ্ঠান নরকের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, দেশের পরিচালনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন চান বিপুলসংখ্যক ভোটার। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তাঁদের নির্বাচনী সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

জরিপে অংশ নেন ১ হাজার ১১৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ৯২৫ জন ছিলেন নিবন্ধিত ভোটার। গত ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রেসিডেন্টের কর্মদক্ষতা এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের অগ্রাধিকার সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়। নিবন্ধিত ভোটারদের ক্ষেত্রে নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। ফলে জরিপটি জনমতের গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা তুলে ধরলেও একে প্রত্যেক ভোটারের মতামতের নির্ভুল প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাবে না।

জরিপের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, দেশের বর্তমান পরিচালনব্যবস্থায় পরিবর্তন চাওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রায় অর্ধেক ভোটার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার দেশ পরিচালনার ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ ও আমূল পরিবর্তন চান। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার বিদ্যমান ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন অথবা ব্যাপক রদবদলের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই ফলাফল থেকে বোঝা যায়, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ ও উদ্বেগ ব্যাপক।

দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ভোটারদের মতামতে অবশ্য পার্থক্য রয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে আমূল পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তুলনামূলক বেশি। তবে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও পরিবর্তনের দাবি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান ভোটারদের ৪৫ শতাংশ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চান এবং ১৩ শতাংশ সম্পূর্ণ রদবদলের পক্ষে। অর্থাৎ, ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক শিবিরেও এমন মানুষ রয়েছেন, যাঁরা দেশের বর্তমান পরিচালনপদ্ধতি নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন।

অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের উদ্বেগের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে। জরিপে ৮৫ শতাংশ ভোটার অর্থনীতিকে এবং ৮৪ শতাংশ ভোটার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবার ব্যয়কে আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন ৬৯ শতাংশ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন ৬৪ শতাংশ ভোটার। অভিবাসন ও অপরাধের মতো বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন ৪৫ শতাংশ ভোটার। এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক চাপ নির্বাচনী আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা নিয়েও অসন্তোষ ব্যাপক। তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩৬ শতাংশ ভোটার, বিপরীতে ৬৪ শতাংশ ভোটার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ভোটারের হার ৭৯ শতাংশ। অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রায় ৭৪ শতাংশ ভোটার তাঁর কাজের সমালোচনা করেছেন। নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক স্বস্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারার অভিযোগ ট্রাম্পের দলের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।

রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও অর্থনৈতিক প্রশ্নে অসন্তোষের ইঙ্গিত রয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর প্রতি সমর্থন ছিল ৫৪ শতাংশ। অপরাধ মোকাবিলার মতো কিছু বিষয়ে তাঁর সমর্থন তুলনামূলক বেশি থাকলেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একই ধরনের ঐকমত্য দেখা যাচ্ছে না। মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ পরিবারের বাজেটকে চাপে ফেললে রাজনৈতিক আনুগত্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জরিপে রিপাবলিকান ভোটারদের ৬৯ শতাংশ ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থাৎ, তাঁর দলের সমর্থকদের মধ্যেও এ বিষয়ে সম্পূর্ণ ঐকমত্য নেই। যুদ্ধের দীর্ঘায়িত হওয়া, জ্বালানির মূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক উদ্বেগ বাড়াতে পারে। তবে জরিপটি জনমতের অবস্থান তুলে ধরে; অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য এককভাবে কোনো একটি নীতিকে দায়ী করার প্রমাণ এটি নয়।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভোটারদের পছন্দও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জরিপে প্রায় অর্ধেক নিবন্ধিত ভোটার প্রতিনিধি পরিষদ অথবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে দেখতে চেয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটার তখনো সিদ্ধান্তহীন ছিলেন। সংখ্যাগুলো ডেমোক্র্যাটদের জন্য সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও নিশ্চিত নির্বাচনী জয়ের পূর্বাভাস দেয় না। নির্বাচনী এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটার উপস্থিতি চূড়ান্ত ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভোট দেওয়ার আগ্রহের ক্ষেত্রেও দুই দলের মধ্যে ব্যবধান দেখা গেছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়া তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোট দেওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে এই হার প্রায় ৬০ শতাংশ। ভোটদানের এই আগ্রহ বাস্তবে কতটা উপস্থিতিতে রূপ নেয়, সেটিই নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ভোটারদের উপস্থিতি আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় না।

ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষের অর্থ এই নয় যে ডেমোক্র্যাটরা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। জরিপে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছেন, আর প্রায় অর্ধেক নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। রিপাবলিকান দলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটারের। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের প্রতি বিরূপ মনোভাব তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। তবু উভয় দলের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অনেক ভোটার পরিবর্তন চান, কিন্তু সেই পরিবর্তন বাস্তবায়নে কোন দল বেশি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সবার আস্থা নেই।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য জনসমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সামলানো এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত মোকাবিলায় প্রশাসনের পদক্ষেপ ভোটারদের মূল্যায়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদেরও প্রমাণ করতে হবে যে তাঁরা ক্ষমতা পেলে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারবেন। জরিপের ফলাফল পরিবর্তনের জোরালো আকাঙ্ক্ষা দেখালেও নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে ভোটারদের বাস্তব অংশগ্রহণ ও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর।


ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পমার্কিনরাজনীতিমার্কিননির্বাচনজনমতজরিপ

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।