ব্রেকিং
প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটালেন প্রতিমন্ত্রী, আজ যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষানেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনে চ্যালেঞ্জ, ইসরায়েলের নির্বাচনে বাড়ছে ডানপন্থী বিরোধীদের শক্তিটেক্সাসে ভোটার নিবন্ধনের বিশাল জট কাটল, নির্বাচনের আগে স্বস্তি ফিরল লাখো ভোটারের মনেযে পাঁচ অপরাধে বিদেশিদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ চিরতরে বন্ধ হতে পারেকণ্ঠস্বর হারালে নিজের বদলে রোবট পাঠানোর মজার কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

কণ্ঠস্বর হারালে নিজের বদলে রোবট পাঠানোর মজার কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

দীর্ঘ প্রচার সফরে কণ্ঠস্বর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ট্রাম্প বললেন, তাঁর মতো দেখতে রোবট প্রচারে পাঠিয়ে ঘরে বসে টেলিভিশন দেখতে পারেন।

কণ্ঠস্বর হারালে নিজের বদলে রোবট পাঠানোর মজার কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
কণ্ঠস্বর হারালে নিজের বদলে রোবট পাঠানোর মজার কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের মতো দেখতে একটি রোবট তৈরি করে নির্বাচনী প্রচারে পাঠানোর কথা বলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। কণ্ঠস্বর ঠিক থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এমন একটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন, যাতে তাঁকে প্রচারসভায় সশরীরে উপস্থিত থাকতে না হলেও চলবে। রোবটটি তাঁর মতো দেখতে হবে, মানুষের সঙ্গে কথা বলবে এবং প্রচার কার্যক্রম চালাবে এমন ধারণা নিয়ে রসিকতা করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যে এ ধরনের কোনো রোবট তৈরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছিল না।

১৫ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজের অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ব্যস্ত সফর এবং রাজনৈতিক সমাবেশের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারের জন্য তাঁকে প্রচুর ভ্রমণ করতে হচ্ছে। একের পর এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়া এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে তাঁর কণ্ঠস্বর ঠিক থাকবে কি না, সে বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, তাঁর কণ্ঠস্বর ঠিক থাকলে প্রচারের ক্ষেত্রে সবকিছু ভালোভাবে এগোবে বলে তিনি আশা করেন। এরপর নিজের পরিচিত ভঙ্গিতে রসিকতা করে বলেন, বর্তমানে এমন উন্নত রোবট তৈরি করা সম্ভব, যেটিকে তাঁর মতো দেখতে বানানো যেতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই রোবটকে প্রচার সফরে পাঠানো হলে তিনি নিজে বাড়িতে বসে টেলিভিশনে তা দেখতে পারতেন। তবে প্রচার চালানোর কাজটি তিনি উপভোগ করেন বলেও উল্লেখ করেন।

তাঁর এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার কার্যক্রম। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা বা পুনরুদ্ধার করা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রচার কার্যক্রম রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ তাঁর উপস্থিতি দলীয় সমর্থকদের উৎসাহিত করতে পারে এবং প্রার্থীদের পক্ষে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সাহায্য করতে পারে।

১৫ অক্টোবরের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জানান, তিনি সেদিন ভোরের দিকে হোয়াইট হাউসে ফিরে এসেছেন এবং পর্যাপ্ত ঘুমও হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের কয়েক দিনের সফরসূচি ছিল বেশ ব্যস্ত। এর মধ্যে আলাস্কা, অ্যারিজোনা ও মন্টানায় তাঁর প্রচার কার্যক্রম ছিল। এরপরও আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। এমন পরিস্থিতিতে কণ্ঠস্বরের প্রসঙ্গ তুলে রোবটের কথা বলাটা উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে তাঁর স্বভাবসুলভ রসিকতার অংশ হিসেবেই প্রতীয়মান হয়।

ট্রাম্পের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি রোবটটির চেহারা নিজের মতো হওয়ার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ধারণা, বর্তমানে তৈরি করা রোবট এতটাই বাস্তবসম্মত হতে পারে যে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য বোঝা কঠিন হবে। তবে বক্তব্যটি প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য। বাস্তবে তাঁর আদলে কোনো রোবট তৈরি করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারে সেটি ব্যবহার করা হবে কিংবা এ বিষয়ে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

মানুষের মতো দেখতে যন্ত্র তৈরির প্রযুক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিছু যন্ত্র মানুষের মতো হাঁটতে পারে, হাত ব্যবহার করতে পারে এবং নির্দিষ্ট নির্দেশ অনুসারে কাজ করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এসব যন্ত্রের সঙ্গে কথোপকথনও সম্ভব হচ্ছে। তবে মানুষের চেহারার অনুকরণ, স্বাভাবিক মুখভঙ্গি, কণ্ঠস্বর, তাৎক্ষণিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে জটিল রাজনৈতিক বক্তব্য উপস্থাপন করা এক বিষয় নয়। এসব সক্ষমতা একত্র করে নির্ভরযোগ্যভাবে কোনো রাজনৈতিক নেতার বিকল্প তৈরি করা এখনো বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি নকল ভিডিও ও কণ্ঠস্বরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নেতার চেহারা ও কণ্ঠস্বর নকল করে তৈরি করা দৃশ্য সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া বক্তব্য প্রচার, প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি কিংবা ভোটারদের প্রভাবিত করার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে কোনো রোবট বা কৃত্রিমভাবে তৈরি প্রতিরূপ রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করা হলে সেটি আসল ব্যক্তি কি না, বক্তব্যটি অনুমোদিত কি না এবং দর্শকদের কাছে পরিচয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে কি না এসব প্রশ্ন সামনে আসবে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের ক্ষেত্রে অবশ্য এসব ঝুঁকি নিয়ে তিনি কোনো নীতিগত ঘোষণা দেননি। তিনি মূলত নিজের ব্যস্ত কর্মসূচি এবং কণ্ঠস্বরের স্থায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত বিকল্পের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁর মন্তব্যকে বাস্তব পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করলে ঘটনার প্রকৃত অর্থ বদলে যেতে পারে। তাই বক্তব্যটি উদ্ধৃত করার সময় রসিকতা ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে ঘটনাটি আরও একটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে জনসভা, সরাসরি উপস্থিতি, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং ভোটারদের সঙ্গে নেতার যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো নেতার পরিবর্তে যন্ত্র প্রচারে অংশ নিলে সেই যোগাযোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। সমর্থকেরা প্রযুক্তির ব্যবহারকে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখতে পারেন, আবার সমালোচকেরা সরাসরি উপস্থিতির গুরুত্ব এবং ভোটারদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনতে পারেন।

ট্রাম্পের রোবট পাঠানোর মন্তব্য প্রযুক্তি, রাজনীতি এবং নির্বাচনী প্রচারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতূহল তৈরি করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো বাস্তব রোবট প্রকল্পের ঘোষণা নয়; বরং ব্যস্ত প্রচারসূচি ও কণ্ঠস্বর নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গে করা একটি রসিকতা। ঘটনাটি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য এই পার্থক্যটি স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন।

ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পট্রাম্পেরখবররোবটপ্রযুক্তিকৃত্রিমবুদ্ধিমত্তাযুক্তরাষ্ট্রেররাজনীতি

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।