ব্রেকিং
নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহে পাঁচ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে জ্বালানি কেনার সুপারিশ অনুমোদন কমিটিরবাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ১৬ বছরের রেকর্ড ছুঁতে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২ শতাংশেগ্রিনল্যান্ডে তেল গ্যাস খনিজ অনুসন্ধান শুরুর ঘোষণা ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কসৌদির ফ্লাইট বিপর্যয়ে বিপাকে বাংলাদেশিরা, তিন দিনে বাতিল ৮২ ফ্লাইট, দুর্ভোগে ১৩ হাজার যাত্রীনিউইয়র্কে অ্যামাজন কেন্দ্রের বাইরে গুলিতে আহত দুই কর্মী, সন্দেহভাজনরা পালিয়েছে সাদা গাড়িতে

সৌদির ফ্লাইট বিপর্যয়ে বিপাকে বাংলাদেশিরা, তিন দিনে বাতিল ৮২ ফ্লাইট, দুর্ভোগে ১৩ হাজার যাত্রী

সৌদি আরবে বিমানবন্দর বন্ধে ঢাকা থেকে ৮২টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত, ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সৌদির ফ্লাইট বিপর্যয়ে বিপাকে বাংলাদেশিরা, তিন দিনে বাতিল ৮২ ফ্লাইট, দুর্ভোগে ১৩ হাজার যাত্রী
সৌদির ফ্লাইট বিপর্যয়ে বিপাকে বাংলাদেশিরা, তিন দিনে বাতিল ৮২ ফ্লাইট, দুর্ভোগে ১৩ হাজার যাত্রী

ঢাকা: সৌদি আরবের বিমানবন্দর কার্যক্রম বন্ধ ও আকাশপথে অস্থিরতার প্রভাবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত সৌদিগামী বিভিন্ন ফ্লাইটে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। এতে গত তিন দিনে ৮২টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল বা যাত্রা ব্যাহত হওয়ায় ১৩ হাজার ৭১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাতে এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৩২টি ছিল সরাসরি এবং ৫০টি ছিল ট্রানজিট ফ্লাইট। সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর ফলে শুধু ঢাকা থেকে রিয়াদগামী যাত্রীরাই নন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবগামী বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজের সন্ধানে দেশটিতে যান। তাঁদের অনেকেরই নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং ভিসার মেয়াদসংক্রান্ত বিষয় সামলানোর বাধ্যবাধকতা থাকে। ফ্লাইট বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে এসব পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। যাঁরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিভিন্ন উড়োজাহাজ সংস্থা তাদের ফ্লাইট পরিচালনায় পরিবর্তন আনে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, আকাশসীমার ব্যবহার এবং বিকল্প রুটের ওপর নির্ভর করে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর বন্ধ থাকলে সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি সংযোগকারী ফ্লাইটেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ৮২টি ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি সৌদিগামী ফ্লাইটের পাশাপাশি তৃতীয় কোনো দেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে পৌঁছানোর ফ্লাইটও ছিল। ফলে সমস্যাটি শুধু একটি বিমান সংস্থা বা একটি রুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। একাধিক বিমান সংস্থার যাত্রীরা এর প্রভাবের মুখে পড়েন। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রা ব্যাহত হওয়ার তথ্যের উপস্থাপনায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই ৮২টি ফ্লাইটের সব কটিকে একই ধরনের বাতিল হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়া। যাঁদের টিকিট কাটা রয়েছে, তাঁদের নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইট নম্বর, যাত্রার সময় এবং গন্তব্য বিমানবন্দরের কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। ফ্লাইট বাতিল হলে বিকল্প তারিখে যাত্রা, টিকিট পুনর্নির্ধারণ অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অর্থ ফেরতের বিষয়ে বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

যাত্রীদের আরও উচিত টিকিট, পাসপোর্ট, ভিসা এবং বিমান সংস্থার পাঠানো বার্তা সংরক্ষণ করা। বিদেশে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ থাকলে নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি জানানোও গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে খাবার, পানি, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সামগ্রীর ব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখা দরকার। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ যাত্রীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তি এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সময়সূচি নির্ভর করবে সৌদি আরবের বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়া, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। তাই যাত্রীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অসমর্থিত তথ্যের পরিবর্তে বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুসরণ করা উচিত।

সৌদি আরবের বিমানবন্দর কার্যক্রমে বিঘ্নের প্রভাব বাংলাদেশের আকাশপথেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৮২টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটের সমস্যায় ১৩ হাজার ৭১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট সময়ের হিসাব; পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে পরিস্থিতির চিত্র পরিবর্তিত হতে পারে। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়, দ্রুত তথ্য প্রকাশ এবং বিমান সংস্থাগুলোর কার্যকর সহায়তা এখন অত্যন্ত জরুরি।

ট্যাগ: শাহজালালবিমানবন্দর ফ্লাইটবাতিল সৌদিআরব প্রবাসীযাত্রী বাংলাদেশেরখবর

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।