ব্রেকিং
রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা, আগুনের খবর জানাল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটসায়মা ওয়াজেদ পারিবারিক ট্র্যাজেডি স্মরণ করে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন বক্তব্য দিলেনজ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আলজেরিয়া থেকে তরল গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশসৌদি আরবগামী ফ্লাইটে বড় ধাক্কা, ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদে উড়োজাহাজ চলাচল বাতিলরাশিয়ার ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্তে অনড় ট্রাম্প, ইউরোপের জ্বালানি কেনার যুক্তি তুলে বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক

সৌদি আরবগামী ফ্লাইটে বড় ধাক্কা, ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদে উড়োজাহাজ চলাচল বাতিল

আঞ্চলিক উত্তেজনায় সৌদি আরবের আকাশপথে অচলাবস্থা, রিয়াদগামী ফ্লাইট ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল ইতিহাদের, দোহা থেকেও রিয়াদ ও দাম্মামে উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত।

সৌদি আরবগামী ফ্লাইটে বড় ধাক্কা, ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদে উড়োজাহাজ চলাচল বাতিল
সৌদি আরবগামী ফ্লাইটে বড় ধাক্কা, ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদে উড়োজাহাজ চলাচল বাতিল

সৌদি আরবকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইতিহাদ উড়োজাহাজ সংস্থা আবুধাবি ও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ফ্লাইট ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করেছে। অন্যদিকে কাতারভিত্তিক কাতার এয়ারওয়েজ রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ফলে এই দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি শুধু একটি উড়োজাহাজ সংস্থা বা একটি গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং আকাশপথ ব্যবহারের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের সময়সূচি পরিবর্তন করছে। তবে সব সংস্থার ক্ষেত্রে বাতিলের মেয়াদ এক নয়। তাই একটি রুটের সিদ্ধান্ত দিয়ে পুরো সৌদি আরবের সব ফ্লাইটের অবস্থা নির্ধারণ করা যাবে না।

ইতিহাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবুধাবি থেকে রিয়াদ এবং রিয়াদ থেকে আবুধাবির ফ্লাইট ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের দাম্মাম ও জেদ্দাগামী কিছু ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের মনে রাখতে হবে, নির্দিষ্ট তারিখে একটি রুটের ফ্লাইট বাতিল হওয়া মানেই সৌদি আরবের সব বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়।

অন্যদিকে কাতার এয়ারওয়েজ রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে। কাতারের সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনেও এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে স্থগিতাদেশ কত দিন বহাল থাকবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে ইতিহাদের ঘোষিত ১৯ অক্টোবরের সময়সীমা কাতার এয়ারওয়েজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

এই বিঘ্নের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বিধিনিষেধের বিষয়টি উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, উড়োজাহাজ চলাচল এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

রিয়াদের বিমানবন্দরকে ঘিরে হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে হতাহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সংখ্যা চূড়ান্ত হিসেবে উল্লেখ করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে আকাশপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থাও তাদের কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কিছু সংস্থা রিয়াদগামী ফ্লাইটের সময়সীমা বাড়িয়ে বাতিল করেছে। অন্যদিকে কয়েকটি সংস্থা সৌদি আরবের নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাতায়াত সীমিত করেছে। এসব পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলছে। তবে প্রতিটি সংস্থার সিদ্ধান্ত ও সময়সীমা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।

বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্যও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী, ওমরাহযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া যাত্রীরা সরাসরি অথবা অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে ভ্রমণ করে থাকেন। রিয়াদ, দাম্মাম কিংবা জেদ্দাগামী যাত্রার সঙ্গে অন্য ফ্লাইটের সংযোগ থাকলে একটি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে পরবর্তী যাত্রাও ব্যাহত হতে পারে। তবে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের সব ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত তথ্য নেই।

যাদের ইতিমধ্যে টিকিট কাটা হয়েছে, তাদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। ফ্লাইটের সময়সূচি, বাতিলের অবস্থা, বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা এবং অর্থ ফেরতের নিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সংস্থার পাঠানো বার্তা, সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও বিমানবন্দরের হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমানো সম্ভব।

সৌদি আরবের বিমান চলাচলে বর্তমান বিঘ্নের ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্ব নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। ইতিহাদের ক্ষেত্রে রিয়াদ রুট ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিলের তথ্য প্রকাশিত হলেও কাতার এয়ারওয়েজের স্থগিতাদেশের শেষ তারিখ নিশ্চিত নয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরোনো ঘোষণা বা যাচাইহীন খবরের ওপর নির্ভর না করে যাত্রার দিন সংশ্লিষ্ট সংস্থার সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ট্যাগ: সৌদিআরবফ্লাইটবাতিলইতিহাদকাতারএয়ারওয়েজ

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।