ব্রেকিং
গোপন ক্যামেরায় ধরা সহকর্মীর পানিতে বিষ মেশানোর দৃশ্য, দণ্ড বাতিলের আবেদন অভিযুক্তেররুশ ডিজেল চুক্তিতে ট্রাম্পকে চাপে ফেললেন নিজ দলের নেতারা, নিষেধাজ্ঞা ফেরানোর উদ্যোগজ্বালানি ও খাবারের বাড়তি খরচে চাপে মার্কিন পরিবার, নির্বাচনের আগে বাড়ছে অসন্তোষফ্লু থেকে সেরে প্রচারে ফিরলেন তালারিকো, মানসিক চিকিৎসার গুজব উড়িয়ে দিলেনউত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে জাপান সাগরে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ল

ইরানের দিকে অভিযোগ তুলল যুক্তরাজ্য, ষড়যন্ত্রের শঙ্কায় ঘাঁটি ছাড়ল মার্কিন বোমারু বিমান

যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিতে কথিত হামলার পরিকল্পনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, সাত সন্দেহভাজন জামিনে মুক্ত, নিরাপত্তার কারণে সরানো হয়েছে মার্কিন বোমারু বিমান।

ইরানের দিকে অভিযোগ তুলল যুক্তরাজ্য, ষড়যন্ত্রের শঙ্কায় ঘাঁটি ছাড়ল মার্কিন বোমারু বিমান
ইরানের দিকে অভিযোগ তুলল যুক্তরাজ্য, ষড়যন্ত্রের শঙ্কায় ঘাঁটি ছাড়ল মার্কিন বোমারু বিমান

যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটিকে কেন্দ্র করে কথিত সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দাবি করেছেন, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে ঘটে যাওয়া নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাটি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নির্দেশে পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান। সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং ইরানও তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিমানঘাঁটির আশপাশে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালায়। ওই ঘটনায় প্রথমে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলে মোট সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়ায় সাত। তাঁদের সবাইকে তদন্ত চলাকালে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ১২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।

ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে অবস্থানরত বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেয়। মার্কিন কর্মকর্তারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, ঘটনাটি এখন শুধু স্থানীয় নিরাপত্তার বিষয় নয়; বরং যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

২৭ সেপ্টেম্বর ঠিক কী ঘটেছিল?

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ার অঞ্চলে অবস্থিত ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছাকাছি একটি গ্রামীণ এলাকায় সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের উপস্থিতি নজরে আসে। স্থানীয় একজন বাসিন্দার সতর্কবার্তার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। ওই এলাকায় তিনটি ভ্যানের উপস্থিতি নিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিককে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে আটক করা হয়।

ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ এলাকায় বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান শুরু করে। আশপাশের ওয়েলফোর্ড গ্রামের কয়েক ডজন বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিছু প্রতিবেদনে প্রায় ৮৫টি বাড়ি খালি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দলও ঘটনাস্থলে কাজ করে। নিরাপত্তার স্বার্থে সড়কে তল্লাশিচৌকি বসানো হয় এবং সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সম্পর্কিত তিনটি ভ্যান পরীক্ষা করে পেট্রল বা দাহ্য জ্বালানি উদ্ধার করেন। তবে পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে কার্যকর বিস্ফোরক যন্ত্র পাওয়া যায়নি। এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাটি বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচিত হলেও উদ্ধার করা বস্তু এবং সম্ভাব্য হামলার ধরন সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রথম পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়। ১ অক্টোবর লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকা থেকে ২৫ বছর বয়সি এক যুক্তরাজ্য-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ৬ অক্টোবর একই তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ২২ বছর বয়সি এক ব্রিটিশ নাগরিককে আটক করা হয়। যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এভাবে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের সবাইকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়, তবে তদন্ত বন্ধ করা হয়নি।

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন?

১২ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, সরকারের মূল্যায়নে ঘটনাটি ইরানের ভেতর থেকে সমন্বিত হয়ে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এর নির্দেশ দিয়ে থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে এ ধরনের হুমকি সহ্য করা হবে না এবং বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থান আগের তুলনায় আরও স্পষ্ট। তদন্তের প্রথম দিকে কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য বিদেশি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতাসহ একাধিক দিক খতিয়ে দেখার কথা বলেছিল। পরে সরকারের বক্তব্যে ইরানের ভূমিকার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে প্রকাশ্যে আসা তথ্যের ভিত্তিতে হামলার পরিকল্পনার পুরো নকশা, অর্থায়নের পথ, নির্দেশদাতাদের পরিচয় কিংবা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সরাসরি যোগাযোগের পূর্ণ বিবরণ এখনো স্পষ্ট নয়।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পার্লামেন্টে জানান, ইরানে অবস্থানরত একজন পরিচিত ব্যক্তির এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা থাকার সন্দেহ রয়েছে। তবে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তদন্তকারীরা বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য নির্দেশদাতার দিকেও নজর দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সেয়েদ আলী মুসাভি বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তেহরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ব্রিটিশ সরকারের কাছে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করারও আহ্বান জানিয়েছে ইরান। ফলে এ ঘটনায় দুই দেশের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। ব্রিটিশ সরকার ইরানের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা তুলে ধরলেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করছে।

মার্কিন বোমারু বিমান কেন সরিয়ে নেওয়া হলো?

ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি যুক্তরাজ্যে অবস্থিত হলেও এটি মার্কিন বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে দীর্ঘপাল্লার বোমারু বিমান মোতায়েন এবং সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ঘাঁটিটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ ও বি-৫২ ধরনের বোমারু বিমান বিভিন্ন সময়ে এই ঘাঁটি ব্যবহার করেছে।

চলমান ইরান-সংঘাতের সময়ও ঘাঁটিটি মার্কিন সামরিক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখেছে। ফলে সেখানে কোনো হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন করা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানগুলো নিয়মিত সামরিক প্রস্তুতি ও কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ওই ঘাঁটির জন্য হুমকির কথা উল্লেখ করেছিলেন।

মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগের একটি সম্ভাব্য কারণ ছিল ড্রোন ব্যবহার করে জটিল হামলার পরিকল্পনা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমন সন্দেহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঠিক কী ধরনের হামলার আশঙ্কা ছিল এবং সন্দেহভাজনরা বাস্তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তাই একটি সতর্কতামূলক নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে ঘাঁটিতে হামলা বাস্তবে ঘটেছিল। বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদকে নিরাপদ রাখাই এ ধরনের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক পদক্ষেপ

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ইরানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে। ১২ অক্টোবর ব্রিটিশ সরকার ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে অপরাধী নেটওয়ার্ক, সহযোগী গোষ্ঠী এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত গোপন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে ইরানের কাছে অসন্তোষ জানানো হয়।

একই দিনে যুক্তরাজ্যসহ প্রায় ৩০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে সহিংস হামলা, অগ্নিসংযোগ, অন্তর্ঘাত, সাইবার হামলা এবং অন্যান্য গোপন তৎপরতার অভিযোগ তুলে নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে যুক্তরাজ্যের মূল্যায়নের প্রতি সমর্থনও জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকার ইরানের দুই নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রমের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যজনের বিরুদ্ধে অপরাধী নেটওয়ার্কের কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হিসেবে যুক্তরাজ্য ইরান-সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা নেটওয়ার্কগুলোর কার্যক্রম ও অর্থায়ন সীমিত করার কথা বলেছে।

তবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা কূটনৈতিক অভিযোগ নিজে থেকে কোনো ব্যক্তির কিংবা রাষ্ট্রের অপরাধ প্রমাণ করে না। তদন্তের ফলাফল, প্রকাশিত প্রমাণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্টতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা সম্ভব।

সন্দেহভাজনদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার অর্থ কী?

সাতজনের সবাই জামিনে মুক্তি পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে যুক্তরাজ্যের আইনি ব্যবস্থায় তদন্ত চলাকালে জামিনে মুক্তি পাওয়া মানেই সন্দেহভাজনদের নির্দোষ ঘোষণা করা নয়। একইভাবে গ্রেপ্তার হওয়ার অর্থও এই নয় যে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনদের মুক্তি দেওয়া হলেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তাঁদের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে চলাফেরা ও অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তদন্তকারীরা ঘটনাটির উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য বিদেশি সংশ্লিষ্টতা এবং সন্দেহভাজনদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনটি ভ্যানে পেট্রল পাওয়া গেলেও কোনো কার্যকর বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়নি। পাশাপাশি কথিত হামলার পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণও পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এর সম্ভাব্য প্রভাব

ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবং পশ্চিমা দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্র। যুক্তরাজ্যের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ঘটনাটি বিদেশি রাষ্ট্রের নির্দেশে অন্য দেশে হামলার পরিকল্পনা পরিচালনার একটি গুরুতর উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইউরোপে সামরিক ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং বিদেশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করার চাপ বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, অভিযোগের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ প্রকাশ না হলে কূটনৈতিক বিরোধ আরও গভীর হতে পারে। ইরান ইতিমধ্যে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

যুক্তরাজ্যের জন্য এই ঘটনার আরেকটি দিক হলো, দেশের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। স্থানীয় বাসিন্দার সতর্কবার্তার পর অভিযান শুরু হওয়া এবং আশপাশের বাড়ি খালি করার ঘটনা দেখিয়েছে, সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দ্রুত বড় ধরনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, স্থানীয় পুলিশের প্রস্তুতি এবং সামরিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির ঘটনায় যুক্তরাজ্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মিত্ররাও ব্রিটিশ সরকারের মূল্যায়নের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে হামলার পরিকল্পনার প্রকৃতি, কথিত নির্দেশদাতাদের ভূমিকা এবং ইরানের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্রের পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তাই ঘটনাটিকে আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের গুরুতর অভিযোগ ও চলমান সন্ত্রাসবাদবিরোধী তদন্ত হিসেবে বর্ণনা করাই তথ্যগতভাবে যথাযথ।


ট্যাগ: যুক্তরাজ্যইরানমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসামরিক ঘাঁটিসন্ত্রাসবাদবিরোধী তদন্তআন্তর্জাতিক রাজনীতিনিরাপত্তাকূটনৈতিক উত্তেজন

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।