ব্রেকিং
রুশ ডিজেল চুক্তিতে ট্রাম্পকে চাপে ফেললেন নিজ দলের নেতারা, নিষেধাজ্ঞা ফেরানোর উদ্যোগজ্বালানি ও খাবারের বাড়তি খরচে চাপে মার্কিন পরিবার, নির্বাচনের আগে বাড়ছে অসন্তোষফ্লু থেকে সেরে প্রচারে ফিরলেন তালারিকো, মানসিক চিকিৎসার গুজব উড়িয়ে দিলেনউত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে জাপান সাগরে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়লরিয়াদে হামলাকে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা পাকিস্তানের, সৌদির নিরাপত্তায় সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার

রুশ ডিজেল চুক্তিতে ট্রাম্পকে চাপে ফেললেন নিজ দলের নেতারা, নিষেধাজ্ঞা ফেরানোর উদ্যোগ

রাশিয়ার ডিজেল আমদানিতে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুই দলের আইনপ্রণেতাদের প্রতিবাদ।

রুশ ডিজেল চুক্তিতে ট্রাম্পকে চাপে ফেললেন নিজ দলের নেতারা, নিষেধাজ্ঞা ফেরানোর উদ্যোগ
রুশ ডিজেল চুক্তিতে ট্রাম্পকে চাপে ফেললেন নিজ দলের নেতারা, নিষেধাজ্ঞা ফেরানোর উদ্যোগ

রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল জ্বালানি আমদানির পথ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। তাঁর নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতাও এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান নেতারাও বলছেন, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে ছাড় দেওয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞানীতিকে দুর্বল করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে রুশ তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করতে নতুন আইন আনার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রতিনিধি ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক। অন্যদিকে, ছয়জন দ্বিদলীয় সিনেটর ট্রাম্প প্রশাসনকে সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ডিজেল সরবরাহসংক্রান্ত সমঝোতা। গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ করবে। তাঁর ঘোষণায় বলা হয়, প্রথম ধাপে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করা হবে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ মেট্রিক টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হিসেবে তিনি জ্বালানির উচ্চমূল্য কমানোর কথা তুলে ধরেছেন। তবে চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, সরবরাহের পরিমাণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এর প্রকৃত প্রভাব নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক বিরোধিতা সামনে আসে। সমালোচকদের বক্তব্য, রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তা করতে পারে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মস্কোর আর্থিক সক্ষমতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁদের মতে, জ্বালানির দাম কমানোর যুক্তি দেখিয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির প্রচেষ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রুশ তেল কেনা বন্ধে নতুন আইন আনার উদ্যোগ

পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক গত ১০ অক্টোবর নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানান। প্রস্তাবিত আইনের নাম রাখা হয়েছে ‘রোনাল্ড রিগ্যান পিস থ্রু স্ট্রেংথ অ্যাক্ট’। এর মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করা। ফিটজপ্যাট্রিক প্রতিনিধি পরিষদের ইউক্রেনবিষয়ক ককাসের সহসভাপতি। তিনি বলেছেন, দ্বিদলীয় সমর্থন নিয়ে আইনটি উত্থাপন করা হবে এবং প্রয়োজনে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের ব্যবস্থা করা হবে।

ফিটজপ্যাট্রিকের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুধু বিরোধী দল নয়, ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার নীতির কথা তুলে ধরে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

প্রতিনিধি ডন বেকনও প্রস্তাবিত উদ্যোগে সহপ্রস্তাবক হিসেবে যুক্ত হতে সম্মত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রস্তাবটির পূর্ণাঙ্গ আইনপাঠ, আনুষ্ঠানিক বিল নম্বর এবং প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশিত হয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আইনটি ইতিমধ্যে পাস হয়েছে বা রুশ তেল কেনা বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে—এমন দাবি সঠিক হবে না।

ফিটজপ্যাট্রিক বিশেষ আবেদনপদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদে ভোট বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় এই পদ্ধতিতে সাধারণত ২১৮ জন সদস্যের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। প্রয়োজনীয় সমর্থন পেলে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন বা পরিষদীয় নেতৃত্বের বাধা অতিক্রম করে কোনো প্রস্তাবে ভোটের পথ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও আইন কার্যকর করতে সিনেটের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরসহ প্রযোজ্য সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। বর্তমান অধিবেশনের সময়সীমাও এ উদ্যোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ছয় সিনেটরের আপত্তি, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

রুশ ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন দুই দলের ছয়জন সিনেটর। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান দলের সুসান কলিন্স, লিসা মারকাউস্কি, থম টিলিস ও জন কার্টিস রয়েছেন। ডেমোক্র্যাট দলের জিন শাহিন ও রিচার্ড ব্লুমেনথালও তাঁদের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন।

১১ অক্টোবর প্রকাশিত তাঁদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২২ সালে কংগ্রেস রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল, যাতে মার্কিন অর্থ রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের অর্থায়নে ব্যবহৃত না হয়। তাঁদের দাবি, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া এবং ন্যাটো মিত্রদের প্রতি হুমকি অবসান না হওয়া পর্যন্ত রুশ জ্বালানি আমদানির অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।

সিনেটরদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ওই আইনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাঁরা আরও অভিযোগ করেছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রশাসন কংগ্রেসের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করেনি এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও দেয়নি। তাঁদের বক্তব্য, রাশিয়া যখন ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে, তখন দেশটির সরকারকে নতুন আর্থিক সুবিধা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সিনেটর থম টিলিসও বলেছেন, প্রশাসন পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করলে প্রেসিডেন্ট আইন অনুসরণ করছেন কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এটি তাঁর এবং অন্যান্য আইনপ্রণেতার আইনি মূল্যায়ন; আদালত বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত রায় হিসেবে একে দেখার সুযোগ নেই।

২০২২ সালের আইনে কী বলা আছে

২০২২ সালের ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে ‘এন্ডিং ইমপোর্টেশন অব রাশিয়ান অয়েল অ্যাক্ট’ নামে একটি আইন কার্যকর হয়। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর দেশটির জ্বালানি খাত থেকে আয় কমানোর উদ্দেশ্যে এই আইন করা হয়েছিল। সরকারি আইনসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, আইনটি রুশ ফেডারেশনের নির্দিষ্ট জ্বালানি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে। এর আওতায় অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানিও অন্তর্ভুক্ত।

আইনটিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত ও প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন বন্ধ, ইউক্রেনের সরকার গ্রহণযোগ্য প্রত্যাহার-সমঝোতা এবং ন্যাটো সদস্যদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামরিক হুমকি না থাকার মতো বিষয় রয়েছে। পাশাপাশি কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর সঙ্গে পরামর্শ, প্রতিবেদন দাখিল এবং নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণের বিধানও রয়েছে।

টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি লয়েড ডগেট, যিনি ২০২২ সালের রুশ জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করার আইনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ১২ অক্টোবর ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনের পদক্ষেপ আইনটির বিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও বলেছেন, আইন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ ও প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রমাণ প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ২০২২ সালের আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে—এটি সরকারি নথিতে নিশ্চিত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক অনুমতি ওই আইন ভঙ্গ করেছে কি না, তা নির্ধারণে প্রশাসনের জারি করা অনুমতিপত্র, আইনের ব্যাখ্যা এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা প্রয়োজন।

জ্বালানির দাম কমানোই কি মূল লক্ষ্য

ট্রাম্পের যুক্তি, ডিজেলের সরবরাহ বাড়লে উচ্চমূল্যের চাপ কমতে পারে। কৃষক, পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ডিজেলনির্ভর খাতের জন্য জ্বালানির দাম গুরুত্বপূর্ণ। ডিজেলের দাম বাড়লে কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন এবং সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। সেই ব্যয় শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, সরবরাহপথের বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্প ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলাকেও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ ব্যাখ্যার বিরোধিতা করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের মোট দৈনিক ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় সীমিত হতে পারে। ফলে এ উদ্যোগে বাজারে সামান্য স্বস্তি এলেও ভোক্তাদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সরবরাহের বাস্তব সক্ষমতা, পরিবহনব্যবস্থা, রুশ শোধনাগারগুলোর অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক চাহিদা—সবকিছুই ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব

রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয় বাড়লে দেশটির অর্থনীতি উপকৃত হতে পারে। তবে সেই আয় সরাসরি কতটা বাড়বে এবং তা সামরিক ব্যয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে রপ্তানির পরিমাণ, মূল্য, করব্যবস্থা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। তাই চুক্তির ফলে রাশিয়া নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবে বা যুদ্ধের গতিপথ বদলে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো নেই।

অন্যদিকে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সমর্থনকারী পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য এ সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি রুশ জ্বালানি আমদানির অনুমতি দেয়, তাহলে মিত্রদেশগুলোর কাছে নিষেধাজ্ঞানীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে রাশিয়ার ওপর চাপ কমানোর বার্তা যাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে যুক্তি হলো, জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং বাজার স্থিতিশীল করা জরুরি।

এ বিতর্কে সম্প্রতি পাস হওয়া রাশিয়া ও ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা আইনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রুশ জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতার কথা রয়েছে। ফলে একদিকে রাশিয়ার জ্বালানি থেকে আয় কমানোর নীতি, অন্যদিকে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ—দুটি অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে।

এখন কী হতে পারে

পরবর্তী সময়ে নজর থাকবে ফিটজপ্যাট্রিকের প্রস্তাবিত আইন আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয় কি না, প্রতিনিধি পরিষদে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া যায় কি না এবং সিনেটে সেটি কতটা সমর্থন পায়। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা অনুমতিপত্রের আইনি ভিত্তি, আমদানির বাস্তব অগ্রগতি এবং জ্বালানির দামে এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ট্রাম্পের রুশ ডিজেল-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিরল ধরনের দ্বিদলীয় বিরোধিতার জন্ম দিয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একাংশ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষে একমত হয়েছেন। তবে প্রস্তাবিত আইন পাস হবে কি না, প্রশাসন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে কি না এবং আমদানির অনুমতি শেষ পর্যন্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত।


ট্যাগ: ডোনাল্ড ট্রাম্পরাশিয়াযুক্তরাষ্ট্রডিজেল আমদানিব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিকমার্কিন কংগ্রেসরুশ তেল নিষেধাজ্ঞাইউক্রেন যুদ্ধআন্তর্জাতিক রাজনীতিজ্বালানি সংকট

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।