সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জর্জিয়া ও টেনেসিতে ভয়াবহ বন্যা, সড়ক বন্ধ, পানিবন্দি পরিবার, চলছে জরুরি উদ্ধার অভিযানইরান যুদ্ধের খেসারত দিল রিপাবলিকানরা, নির্বাচনী পরাজয়ের দায় স্বীকার করলেন ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ পতন, ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী জয়ের জন্য ভোটারদের দায়ী করলেন ট্রাম্প‘মৃত্যুর ভয় নেই, ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরব’ এপিকে জানালেন শেখ হাসিনা১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে মিলল নয় বছর নিখোঁজ ছেলের খোঁজ, বাড়ি ফিরেও মাকে পেলেন না তিনি

ট্রাম্পের নতুন জনশুমারি পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে অভিবাসীদের জীবনে

যুক্তরাষ্ট্রের ২০৩০ সালের জনশুমারিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সংবাদ সম্মেলনে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল।
সংবাদ সম্মেলনে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখো অভিবাসীর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০৩০ সালের জাতীয় জনশুমারির নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও অনেক অভিবাসীকে জনসংখ্যার সরকারি হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে অভিবাসী জনগোষ্ঠী বেশি বসবাস করেন—এমন অঙ্গরাজ্য ও শহরগুলোতে।

৫ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ডেভেনপোর্টের নেতৃত্বে ২৪টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং দুই গভর্নর এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন নিয়ম চালু হলে লাখো মানুষের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রতিফলিত হবে না। এর ফলে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ বরাদ্দে পরিবর্তন আসতে পারে।

নিউ জার্সির কর্মকর্তাদের হিসাবে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে অঙ্গরাজ্যটিতে অন্তত ছয় লাখ মানুষ জনশুমারির হিসাব থেকে বাদ পড়তে পারেন। দেশজুড়ে এই সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৬১ লাখ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জোটের আশঙ্কা। তবে এটি সম্ভাব্য হিসাব, চূড়ান্ত সরকারি সংখ্যা নয়।

প্রস্তাবটির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বাইরে থাকা অনেক মানুষকে জনসংখ্যা গণনার বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে অনিয়মিতভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের পাশাপাশি সাময়িক কাজের অনুমতিতে থাকা কর্মী, শিক্ষার্থী এবং কিছু বৈধ অভিবাসীও পড়তে পারেন।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করছেন বা পড়াশোনা করছেন—এমন কিছু মানুষও এই প্রস্তাবের কারণে জনসংখ্যার হিসাব থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। তবে বিষয়টি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। এটি চূড়ান্ত আইন বা কার্যকর নিয়ম নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১০ বছর পরপর জনশুমারি করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য ও এলাকায় কত মানুষ বসবাস করেন, তার হিসাব তৈরি করা হয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে কংগ্রেসে অঙ্গরাজ্যগুলোর আসনসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক, গণপরিবহন, আবাসন ও অন্যান্য জনসেবার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়।

নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় সরকারি অর্থ বরাদ্দের হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে। কারণ জনসংখ্যার সরকারি হিসাবে মানুষ কম দেখানো হলে ভবিষ্যতে ওই এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ও সেবা পরিকল্পনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী বসবাস করেন। এসব এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটিরও বড় উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি অর্থায়ন কমে গেলে বা জনসংখ্যার হিসাব পরিবর্তিত হলে স্থানীয় স্কুল, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গণপরিবহন ও আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনই এসব সেবা বন্ধ হয়ে যাবে বা কারও ব্যক্তিগত সুবিধা বাতিল হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

প্রস্তাবটিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। জনশুমারির প্রশ্নপত্র থেকে জাতিগত পরিচয় ও বর্ণসংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এসব তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অবস্থার পার্থক্য বোঝা হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে স্থানীয় প্রশাসন ও গবেষকদের জন্য এসব তথ্য সংগ্রহ কঠিন হতে পারে।

এ ছাড়া মানুষ কোথায় বসবাস করেন, তা নির্ধারণের নিয়মেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে সাধারণত মানুষ যেখানে বেশির ভাগ সময় বসবাস ও রাত কাটান, সেই ঠিকানাকে তাঁদের বসবাসের স্থান হিসেবে ধরা হয়। নতুন প্রস্তাবে বছরের নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থান এবং করসংক্রান্ত তথ্য বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। এ নিয়েও অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্মকর্তারা আপত্তি জানিয়েছেন।

নিউ জার্সির কর্মকর্তারা বলছেন, জনশুমারির হিসাব থেকে মানুষ বাদ পড়লে শুধু অভিবাসীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, স্থানীয় নাগরিকদের সেবাও প্রভাবিত হতে পারে। কারণ স্কুল, হাসপাতাল, সড়ক ও অন্যান্য সরকারি সেবা পরিকল্পনা করা হয় এলাকার মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে।

এদিকে প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জনশুমারি থেকে কাউকে বাদ দেওয়ার নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে—এমন তথ্য নেই। তাই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসম্পূর্ণ তথ্য দেখে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞ ও অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জনশুমারি ও অভিবাসনসংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করা। কোনো গুজবের ভিত্তিতে সরকারি সেবা গ্রহণ বন্ধ করা বা ব্যক্তিগত অভিবাসনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে অভিবাসন আইনজীবী বা অনুমোদিত পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের সংখ্যা, তাঁদের অধিকার এবং স্থানীয় উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা—সবকিছুই এখন ২০৩০ সালের জনশুমারি বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রট্রাম্পজনশুমারিঅভিবাসীঅভিবাসনবাংলাদেশিকমিউনিটিনিউজার্সি

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।