সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ভোটের আগে বাড়ি বাড়ি ফেডারেল এজেন্ট, অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ নিউইয়র্কেসাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসে সুস্থ প্রজন্ম গড়ার আহ্বান: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমেরভোটের আগে রিপাবলিকানদের জেতাতে ট্রাম্পের জোরালো প্রচার, চাপে নির্বাচনী কৌশল ও অর্থনীতিক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদনে বিচারকের প্রশ্ন, বাড়ছে আইনি বিতর্কযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে হাজারো পর্যবেক্ষক, নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি

সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসে সুস্থ প্রজন্ম গড়ার আহ্বান: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের

সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে সুস্থ ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে খাবার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ অভ্যাস গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মালালাই আহমাদজাই। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ড. রাজেশ নারওয়াল এবং ইউনিসেফের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি বিভাগের প্রধান পিটার মায়েস।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাতের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে অপরিষ্কার হাতে খাবার গ্রহণ করলে ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে খাবার খাওয়ার আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পর এবং হাত ময়লা হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে সাবান ও নিরাপদ পানি দিয়ে হাত ধোয়া প্রয়োজন। শুধু সচেতনতামূলক দিবস পালন নয়, প্রতিদিনের জীবনে এসব অভ্যাস বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যস্ততা কিংবা বাইরে খাবার গ্রহণের সময় অনেকেই হাত পরিষ্কারের বিষয়টি উপেক্ষা করেন। এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিস্থিতিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে হাত দৃশ্যত ময়লা হলে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়াই সবচেয়ে উপযুক্ত। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হাত পরিষ্কারের পাশাপাশি নখ পরিষ্কার রাখা, নিরাপদ পানি পান করা এবং খাবার ঢেকে রাখার মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাজধানীর পানি সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরবরাহ করা পানির প্রায় ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ২৬ শতাংশ নদীর পানি শোধনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পানির উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার পদ্মা নদী থেকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

রাজধানীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও পানির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিকল্প উৎস থেকে পানি সরবরাহ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন কমানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে পানির স্তর সংরক্ষণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে নতুন প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা, বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও সরবরাহ সক্ষমতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্য প্রকল্পের কার্যকর অবস্থা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পানির অপচয় বন্ধ করার আহ্বান জানান। হাত ধোয়া, দাঁত ব্রাশ করা কিংবা দৈনন্দিন অন্যান্য কাজে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পানির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করাও জরুরি।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শরীরের যত্ন নেওয়া, সুষম খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা উচিত। বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যে ক্লান্তি দেখা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি ভিটামিন ডি ও পুষ্টির বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে ক্লান্তির পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু ভিটামিন ডির ঘাটতিকেই এর একমাত্র কারণ হিসেবে বিবেচনা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. রাজেশ নারওয়াল, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মালালাই আহমাদজাই এবং ইউনিসেফের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি বিভাগের প্রধান পিটার মায়েস। তাঁরা বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে নিয়মিত হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের মূল লক্ষ্য হলো সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার উপকারিতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং দৈনন্দিন জীবনে এ অভ্যাসকে উৎসাহিত করা। বিশেষ করে স্কুল, পরিবার ও জনসমাগমস্থলে স্বাস্থ্যবিধি চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করা হলে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হাত ধোয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাত ধোয়ার মতো সহজ একটি অভ্যাস জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ অভ্যাস কার্যকর করতে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা যথেষ্ট নয়; বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানি, সাবান ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০২৬-এর অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা দিয়ে শেষ হয়। নিয়মিত হাত ধোয়া, নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

ট্যাগ: বিশ্বহাতধোয়াদিবসহাতধোয়াস্বাস্থ্যবিধিজনস্বাস্থ্যনিরাপদপানিস্থানীয়সরকারইউনিসেফডব্লিউএইচওবাংলাদেশস্বাস্থ্যসচেতনতা

প্রতিবেদক

Saifur Rahman

Bangladesh Correspondent

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।