সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বাড়ছে অসন্তোষ, তবু জ্বালানির দাম ও ইরান যুদ্ধেও পাশে অনড় মাগা সমর্থকেরাট্রাম্পের নজর কাড়ল মিসিসিপির শিক্ষাবিপ্লব, পিছিয়ে থাকা রাজ্য এখন পড়াশোনায় নবম স্থানেজিন সিমন্সের রেডিওতে গান বাজলে শিল্পীদের পারিশ্রমিক দেওয়ার দাবিতে কংগ্রেসে সরব রকতারকযুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে বাড়িতে ঢোকা মুখোশধারী কিশোরকে গুলি করে হত্যা, দ্বিতীয় অভিযুক্ত গ্রেপ্তারট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের রায়, অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত মোরিন কোমি পেলেন বকেয়া বেতন

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বাড়ছে অসন্তোষ, তবু জ্বালানির দাম ও ইরান যুদ্ধেও পাশে অনড় মাগা সমর্থকেরা

জ্বালানির বাড়তি দাম ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ধরে রেখেছেন মিশিগানের কট্টর সমর্থকেরা, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বাড়ছে অসন্তোষ, তবু জ্বালানির দাম ও ইরান যুদ্ধেও পাশে অনড় মাগা সমর্থকেরা
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বাড়ছে অসন্তোষ, তবু জ্বালানির দাম ও ইরান যুদ্ধেও পাশে অনড় মাগা সমর্থকেরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের চাপ সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ধরে রেখেছেন মিশিগান অঙ্গরাজ্যের তাঁর কট্টর সমর্থকেরা। তাঁদের অনেকের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট সাময়িক ত্যাগের বিষয়, যার বিনিময়ে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে পারে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের নীতির প্রতি অনাস্থাও তাঁদের রিপাবলিকানদের পক্ষেই থাকার অন্যতম কারণ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদক পল স্টেইনহাউজার জানান, মিশিগানের পোর্ট হুরনে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে আসা প্রায় ২০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মনোভাব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ট্রাম্পের প্রতি রাজনৈতিক আনুগত্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।

লেক হুরনের তীরবর্তী পোর্ট হুরনে ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে ট্রাম্প স্থানীয় রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালান। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ ধরনের প্রচার রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার প্রশ্ন জড়িত। ক্ষমতাসীন দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে আসন হারানোর ঐতিহাসিক ঝুঁকিও রয়েছে।

সমাবেশে অংশ নেওয়া ওয়ারেন এলাকার বাসিন্দা ক্যারল মোকান বলেন, ট্রাম্পের লক্ষ্য দেশের স্বার্থ রক্ষা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সঠিক পথে ফিরিয়ে নেওয়া। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেন। মেরিসভিলের বাসিন্দা লিন্ডা ট্যাগার্টও বর্তমান মূল্যবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের জন্য সাময়িক কষ্ট হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাঁদের দৃষ্টিতে, তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপের চেয়ে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত লক্ষ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পোর্ট হুরনের বাসিন্দা বব কেম্পের বক্তব্যেও একই ধরনের মনোভাব দেখা গেছে। তাঁর মতে, কোনো ব্যবস্থা ঠিক করতে গেলে শুরুতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বে সিটির বাসিন্দা জেমস ব্লেকও বলেছেন, তিনি ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া নেতা হিসেবে দেখেন। এসব বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সমাবেশে উপস্থিত কিছু সমর্থকের কাছে অর্থনৈতিক অসন্তোষ তাঁদের রাজনৈতিক পছন্দ পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট নয়।

তবে তাঁদের সমর্থনের পেছনে শুধু অর্থনীতি বা ইরান যুদ্ধ নয়, আরও কয়েকটি বিষয় কাজ করছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং করনীতিও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকজন ভোটার অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। কেউ কেউ বকশিশ ও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার আয়ের ওপর করছাড়ের মতো নীতির কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অসন্তোষও স্পষ্ট।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রশ্নে ট্রাম্পের সমর্থকেরা মূলত জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর প্রশাসনের লক্ষ্য ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া। সমর্থকদের কয়েকজন মনে করেন, ইরানকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ কারণে যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ব্যয় এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে তাঁরা বৃহত্তর নিরাপত্তার লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।

তবে এই যুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সব ভোটারের মনোভাবের প্রতিফলন নয়। বরং জনমত জরিপে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। ফক্স নিউজের ৯ থেকে ১২ অক্টোবর পরিচালিত জাতীয় জরিপে ১ হাজার ২০২ জন নিবন্ধিত ভোটারের মতামত নেওয়া হয়। জরিপে ট্রাম্পের সামগ্রিক কর্মসম্পাদনের অনুমোদন ছিল ৩৬ শতাংশ, যা ওই সংবাদমাধ্যমের জরিপে তাঁর সর্বনিম্ন পর্যায়। একই জরিপে স্বঘোষিত মাগা সমর্থকদের মধ্যে তাঁর অনুমোদন ছিল ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ, সামগ্রিক জনমত ও তাঁর সবচেয়ে অনুগত সমর্থকদের অবস্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

জরিপটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ। ফক্স নিউজের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন ভোটারের ছয়জন জীবনযাত্রার ব্যয়কে তাঁদের প্রধান অর্থনৈতিক উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অধিকাংশ উত্তরদাতা দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন। ফলে সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের বক্তব্যকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মতামত হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

রয়টার্স ও ইপসোসের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত আরেক জরিপেও ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন ৩২ শতাংশ দেখানো হয়েছে। জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ এবং ইরান যুদ্ধের পর জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন জরিপে অনুমোদনের হার এক নয়, কারণ জরিপের সময়, নমুনা এবং পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে। তবু সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি নিয়ে জনমনে চাপ থাকার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: পোর্ট হুরনের সমাবেশে কথা বলা প্রায় ২০ জন ভোটার কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক জাতীয় জরিপের নমুনা নন। তাঁদের বক্তব্য ওই সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক মনোভাব তুলে ধরে; মিশিগানের সব ভোটার কিংবা পুরো দেশের নির্বাচনী আচরণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য তা যথেষ্ট নয়। একইভাবে, মাগা সমর্থকদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ অনুমোদনের তথ্যটি একটি নির্দিষ্ট জাতীয় জরিপের ফল, সমাবেশে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তির মনোভাবের পরিমাপ নয়।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সাফল্য নির্ভর করবে শুধু ট্রাম্পের অনুগত সমর্থকদের উপস্থিতির ওপর নয়, বরং স্বতন্ত্র ভোটার, মধ্যপন্থী রিপাবলিকান এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট ভোটারদের আচরণের ওপরও। জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি, অভিবাসন ও ইরান যুদ্ধের প্রশ্নে ভোটারদের অগ্রাধিকার শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

মিশিগানের পোর্ট হুরনের সমাবেশ ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভিত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে। তাঁর সবচেয়ে অনুগত সমর্থকদের একটি অংশ অর্থনৈতিক চাপ ও যুদ্ধের ঝুঁকি সত্ত্বেও তাঁকে সমর্থন করতে প্রস্তুত। কিন্তু জাতীয় জরিপে কম অনুমোদন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ দেখাচ্ছে, এই সমর্থনকে পুরো নির্বাচনী পরিস্থিতির চিত্র হিসেবে দেখা যাবে না। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা কার্যকর থাকবে, তার স্পষ্ট উত্তর মিলবে ভোটের ফল প্রকাশের পর।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রমিশিগান #মধ্যবর্তী_নির্বাচনইরান_যুদ্ধজ্বালানির_দাম #বিশ্বসংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।