জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি সেন্টার ও সুইমিং পুলের প্রকল্প এগোচ্ছে
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশি পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কমিউনিটি সেন্টার, ইনডোর সুইমিং পুল ও শিশু-কিশোরদের নানা সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা এগোচ্ছে।
নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে শিশু-কিশোর ও স্থানীয় পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি সেন্টার এবং পাবলিক সুইমিং পুল নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উল্লেখযোগ্য বসবাসের এলাকা হিসেবে পরিচিত এই পাড়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এমন সুবিধার দাবি ছিল। ২৩ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রকল্পটির অর্থায়ন ও পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ১৪ অক্টোবর প্রকল্পটির জন্য ১ কোটি ডলারের অনুদান ঘোষণা করেন। এর ফলে প্রকল্পের জন্য নিশ্চিত মোট অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। তবে সম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ৬ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিটি কাউন্সিল সদস্য শেখর কৃষ্ণান।
প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি প্রায় ৩০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে থাকবে ইনডোর সুইমিং পুল, বাস্কেটবল কোর্ট, জিমনেশিয়াম, থিয়েটার, শ্রেণিকক্ষ এবং শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ভ্যারাইটি বয়েজ অ্যান্ড গার্লস ক্লাব অব কুইন্স। নির্ধারিত স্থানটি জ্যাকসন হাইটসের ৭০-০২, ৩৪তম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত।
এই কেন্দ্র বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে। অনেক অভিভাবক কাজের ব্যস্ততার কারণে সন্তানদের খেলাধুলা, সাঁতার শেখা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারেন না। স্থানীয়ভাবে এসব সুবিধা তৈরি হলে শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ বাড়তে পারে।
পরিকল্পনায় স্কুল-পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম, গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচি, সাঁতারের প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক আয়োজন, স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক উদ্যোগ এবং চাকরির প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণও রয়েছে। বয়স্কদের জন্য বিশেষ কর্মসূচির কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, কেন্দ্রটি চালু হলে বছরে প্রায় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার শিশু-কিশোর বিভিন্ন সুবিধা পেতে পারে।
তবে প্রকল্পটির কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। জমি অধিগ্রহণ, নকশা তৈরি, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা এবং বাকি অর্থায়ন নিশ্চিত করার মতো কাজ এগিয়ে নিতে হবে। এসব প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের ওপর নির্মাণকাজ এবং কেন্দ্র চালুর সময় নির্ভর করবে।
জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এটি তাই শুধু একটি ভবন নির্মাণের খবর নয়; শিশুদের বিকাশ, খেলাধুলা, শিক্ষা এবং কমিউনিটির সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি করছে। তবে প্রকল্পটি কবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত উদ্বোধনের তারিখ প্রকাশিত হয়নি।





