সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নিউইয়র্কের বেসরকারি খাতে দুই মাসে ৩০ হাজারের বেশি চাকরি কমেছে, বাড়ছে উদ্বেগজ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি সেন্টার ও সুইমিং পুলের প্রকল্প এগোচ্ছেবার্গার কিংয়ের পার্কিংয়ে বাবার বন্দুক থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ গেল ৩ বছরের শিশুরইরানের হামলা পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তীব্রনিউইয়র্কে বন্দুক সহিংসতা ঠেকাতে তিন এলাকায় কর্মসূচি সম্প্রসারণ করলেন মেয়র জোহরান মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় বাড়ায় ডাক্তার ও ওষুধ এড়াচ্ছেন লাখো মানুষ, চাপে পরিবার

চিকিৎসার ব্যয় ও স্বাস্থ্যবিমার খরচ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বহু মানুষ চিকিৎসা পিছিয়ে দিচ্ছেন, ওষুধ নিতে পারছেন না, বাড়ছে পারিবারিক আর্থিক চাপ।

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় বাড়ায় ডাক্তার ও ওষুধ এড়াচ্ছেন লাখো মানুষ, চাপে পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় বাড়ায় ডাক্তার ও ওষুধ এড়াচ্ছেন লাখো মানুষ, চাপে পরিবার

চিকিৎসার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, নির্ধারিত ওষুধ কেনা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো পিছিয়ে দিচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিমার মাসিক প্রিমিয়াম, বিমার আওতার বাইরে থাকা খরচ এবং হাসপাতালের বিল সাধারণ পরিবারের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার আগে তাঁদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসার ব্যয় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত বিষয়। দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাব্যয়সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট স্বাস্থ্যব্যয় বেড়ে প্রায় ৫ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। মাথাপিছু এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৪৭৪ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের ১৮ শতাংশের সমান ছিল স্বাস্থ্যব্যয়। চিকিৎসাসেবার চাহিদা বৃদ্ধি, হাসপাতালের ব্যয় এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা খাতের খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে এই প্রবণতা সম্পর্কিত।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্রের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হাসপাতালসেবায় ব্যয় বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। চিকিৎসক ও ক্লিনিকভিত্তিক সেবায় ব্যয় ছিল প্রায় ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ব্যবহৃত ওষুধের খরচও বেড়েছে। এসব পরিসংখ্যান দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরে। তবে মোট স্বাস্থ্যব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া মানেই প্রত্যেক রোগীর ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় একই হারে বেড়েছে, এমন নয়।

চিকিৎসার খরচের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমার শর্তও রোগীদের আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে। অনেক বিমা পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত চিকিৎসার ব্যয় রোগীকেই প্রথমে বহন করতে হয়। এই ব্যবস্থাকে ডিডাক্টিবল বলা হয়। এর বাইরে চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষাগার পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের জন্যও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও অনেক পরিবারকে চিকিৎসার উল্লেখযোগ্য ব্যয় নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করতে হয়।

কমনওয়েলথ ফান্ডের ২২ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত স্বাস্থ্যবিমা জরিপে দেখা গেছে, ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেক ২০২৬ সালে খরচের কারণে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নেননি। ২০২২ সালে এই হার ছিল ৪৬ শতাংশ। জরিপে চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া, ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ না কেনা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা চিকিৎসা বাদ দেওয়া এবং বিশেষজ্ঞের সেবা না নেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই ফলাফল চিকিৎসার ব্যয় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে কীভাবে বাধা তৈরি করছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।

স্বাস্থ্যবিমার আওতায় না থাকা মানুষের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান কেন্দ্রের হিসাবে, ২০২৪ সালে দেশটির সব বয়সের প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ মানুষ সাক্ষাৎকারের সময় স্বাস্থ্যবিমাহীন ছিলেন। এটি মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ দশমিক ২ শতাংশ। বিমা না থাকলে চিকিৎসকের ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং হাসপাতালের ব্যয়ের বড় অংশ সরাসরি রোগীকে বহন করতে হতে পারে। তবে বিমাহীন মানুষের সংখ্যা ও চিকিৎসার খরচের কারণে চিকিৎসা এড়িয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা এক বিষয় নয়।

স্বাস্থ্যসেবার এই ব্যয়বহুল পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব পরিবারে একাধিক সদস্যের স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে, তাদের মাসিক প্রিমিয়াম, চিকিৎসকের ফি, ওষুধ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় একসঙ্গে সামলাতে হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু, বয়স্ক সদস্য কিংবা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে, তাদের জন্য চিকিৎসার খরচ পারিবারিক বাজেটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

কর্মজীবী বাংলাদেশি অভিবাসীদের অনেকেই নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা পান। আবার কেউ কেউ নিজেরাই বিমা কেনেন। বিমার ধরন ও শর্ত অনুযায়ী চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক, ডিডাক্টিবল, সহপরিশোধ এবং ওষুধের আওতা ভিন্ন হতে পারে। তাই বিমা নেওয়ার আগে কোন চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত, কোন হাসপাতাল বা চিকিৎসক নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছেন এবং জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য, তা জানা জরুরি।

চিকিৎসার ব্যয় বহনে সমস্যা হলে হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগ, স্বাস্থ্যবিমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা যোগ্য স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আয় ও পারিবারিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারি স্বাস্থ্যবিমা বা অন্যান্য বৈধ সহায়তার জন্য যোগ্যতা যাচাই করাও উপকারী হতে পারে।

তবে আর্থিক সংকটের কারণে জরুরি চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নির্ধারিত ওষুধ বন্ধ করা বিপজ্জনক হতে পারে। ওষুধের খরচ বহন করা কঠিন হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিকল্প সম্পর্কে জানা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যব্যয়ের ব্যাপকতা এবং সাম্প্রতিক জরিপে চিকিৎসা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা সাধারণ পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। স্বাস্থ্যবিমা থাকলেও চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করা সহজ নয়। চিকিৎসাসেবার সামর্থ্য বাড়াতে ব্যয়, বিমার আওতা এবং আর্থিক সহায়তার সুযোগ নিয়ে সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থাচিকিৎসার ব্যয়স্বাস্থ্যবিমাচিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধিওষুধের খরচহাসপাতালের বিলচিকিৎসাসেবা

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।