সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
শাহজালাল বিমানবন্দরের স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন, কয়েক মিনিটেই নিয়ন্ত্রণেযুক্তরাষ্ট্রের ৭ কোটি শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার উপহারের ঘোষণা ইলন মাস্কের, মূল্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারধর্ম বদলেছে, বেঁচে গেছে ইতিহাস—যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা থেকে মসজিদ হওয়ার অনন্য কাহিনিমধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আগুন, বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাল জ্বালানি তেলের দামহিজাব বিতর্কে শিক্ষিকার বিদায়, কান্নায় ভাসল বাকুর বিদ্যালয়, ভাইরাল হৃদয়বিদারক দৃশ্য

ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বেড়ে ৭৩ জন, নিখোঁজ ১৪ জন

ইয়েমেনে প্রশিক্ষণ শিবিরে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বেড়ে ৭৩ জন। আহত দুই শতাধিক, নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৪ জন।

ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বেড়ে ৭৩ জন, নিখোঁজ ১৪ জন
ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বেড়ে ৭৩ জন, নিখোঁজ ১৪ জন

ইয়েমেনে নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে সংঘাত। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং আরও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের হামলার পর হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্ধার, চিকিৎসা ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানের বিষয়টি এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

শাবওয়া প্রদেশের গভর্নর আওয়াদ বিন আল-ওয়াজির মঙ্গলবার আহতদের অবস্থা পর্যালোচনা এবং নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার পর হতাহতের হালনাগাদ সংখ্যা জানান। তিনি হামলার নিন্দা জানিয়ে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাবওয়া প্রদেশের আল-আলাম প্রশিক্ষণ শিবিরে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার সময় সেখানে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলছিল। প্রাথমিক প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ৫৩ জন বলা হলেও পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে ৭৩ জনে পৌঁছায়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে নিখোঁজ ১৪ জনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

ইয়েমেনের সরকারি পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ শিবিরে থাকা সদস্যরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁদের অনেকেই নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। হামলার ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজদের সন্ধান এখন স্থানীয় প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হয়ে উঠেছে।

হামলার দায় ও লক্ষ্যবস্তু নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাঁদের বাহিনী সৌদি বাহিনীর পরিচালনাধীন একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে শিবিরটি পরিচালনা এবং সেখানে কারা অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে হুথিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ফলে হামলার লক্ষ্যবস্তু নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যকে আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে লড়াই তীব্র হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থন পেয়ে থাকে। অন্যদিকে হুথিরা রাজধানী সানাসহ দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সহিংসতা কিছুটা কমেছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন করে সামরিক তৎপরতা বাড়ায় পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

সরকারি বাহিনী চলতি মাসে হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনর্দখলের লক্ষ্যে অভিযান জোরদার করেছে। এতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকাগুলোও সংঘাতের কেন্দ্রে চলে এসেছে। একই সময়ে হুথিরা তায়েজ শহরকে ঘিরে চাপ বজায় রেখেছে। এসব সামরিক পদক্ষেপের ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশের গুরুত্ব শুধু সামরিক অবস্থানের কারণে নয়, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পদের কারণেও। উপসাগরীয় এডেনের উপকূলসংলগ্ন এই প্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদ রয়েছে। এখানে অবস্থিত বালহাফ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প অবকাঠামো। প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে জ্বালানি অবকাঠামো, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এ পথের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। এর আশপাশে সংঘাত বাড়লে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পণ্য পরিবহন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের ওপর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে শাবওয়ার প্রশিক্ষণ শিবিরে হামলার ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথে কী ধরনের সরাসরি প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না।

এই নতুন হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের অন্য এলাকাতেও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে তায়েজে পৃথক এক হুথি হামলায় দুই কিশোরীর নিহত ও ছয়জনের আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধানও তায়েজে বেসামরিক মানুষের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। ঘটনাটি শাবওয়ার প্রশিক্ষণ শিবিরে হামলা থেকে আলাদা হলেও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের মানবিক প্রভাব যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট করে।

দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের বহু মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি সহায়তার সংকটে রয়েছেন। নতুন করে সংঘর্ষ বাড়লে আহতদের চিকিৎসা, হাসপাতালের ওপর চাপ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো আরও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান নিশ্চিত করা এখন জরুরি।

শাবওয়া প্রদেশের প্রশিক্ষণ শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭৩ জনের মৃত্যু ইয়েমেনের সংঘাতের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। দুই শতাধিক আহত এবং ১৪ জন নিখোঁজ থাকার ঘটনায় হতাহতের চূড়ান্ত চিত্র এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। এখন পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সামরিক পদক্ষেপ এবং উত্তেজনা কমাতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, তার ওপর।

ট্যাগ: ইয়েমেনহুথিশাবওয়াক্ষেপণাস্ত্রহামলামধ্যপ্রাচ্যযুদ্ধসংঘাতমানবিকসংকট

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।