অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
জনসমর্থনে চাপে ট্রাম্প, তবু নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রিপাবলিকানদের
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন জরিপে ট্রাম্পের সামনে জনসমর্থন বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ। তবে জাতীয় জরিপই শেষ কথা নয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন, ভোটার উপস্থিতি ও রিপাবলিকানদের প্রচারকৌশল নির্ধারণ করবে নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিয়েছে রয়টার্স–ইপসোসের সাম্প্রতিক জনমত জরিপ। ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের প্রতি সমর্থন ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে। একই জরিপে কংগ্রেস নির্বাচনের জাতীয় ভোট-ইচ্ছার হিসাবে ডেমোক্র্যাটরা ৪৭ শতাংশ এবং রিপাবলিকানরা ৩৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। তবে এই ফলাফলকে নির্বাচনের চূড়ান্ত পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটে স্থানীয় পরিস্থিতি, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জরিপের ফল রিপাবলিকানদের জন্য সতর্কবার্তা হলেও নির্বাচনের আগে জনমত পরিবর্তনের সুযোগ এখনো রয়েছে। রাজনৈতিক প্রচারণার শেষ পর্যায়ে অর্থনীতি, জ্বালানির দাম, কর্মসংস্থান এবং সরকারের নীতির ব্যাখ্যা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প ও তাঁর দলের জন্য বড় কাজ হবে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগের জবাব দেওয়া এবং তাঁদের নীতির সুফল সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
রয়টার্স–ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের সামগ্রিক কাজের প্রতি সমর্থন দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় এক শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। জরিপ অনুযায়ী, অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর কার্যক্রমকে ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন করেছেন, আর ৬৮ শতাংশ অসমর্থন জানিয়েছেন। জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব ভোটারদের মনোভাবের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয় রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
ট্রাম্পের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রশাসনের নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করা। তাঁর সমর্থকদের কাছে অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, সীমান্তনীতি, নিরাপত্তা এবং সরকারের কার্যক্রমের মতো বিষয় তুলে ধরে নির্বাচনী প্রচার জোরদার করার সুযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ১২ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান জাতীয় পর্যায়ের ভোট-ইচ্ছার একটি চিত্র তুলে ধরে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হয় পৃথক নির্বাচনী এলাকা ও অঙ্গরাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে। ফলে জাতীয় জরিপে পিছিয়ে থাকা মানেই সব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে পরাজয় নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট আসনের লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের কিছু কাঠামোগত সুবিধা রয়েছে। তবে সেই সুবিধা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী জয়ে রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
জরিপটি অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ২৭৯ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। সব উত্তরদাতার ক্ষেত্রে নমুনাগত ত্রুটির সীমা প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্ট এবং নিবন্ধিত ভোটারদের ক্ষেত্রে প্রায় তিন শতাংশ পয়েন্ট। অর্থাৎ জরিপের সংখ্যাগুলো জনমতের একটি পরিমাপ; এগুলো প্রতিটি ভোটারের সিদ্ধান্ত বা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করে না।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠছে। রিপাবলিকানদের সামনে চ্যালেঞ্জ যেমন রয়েছে, তেমনি নির্বাচনী প্রচার, স্থানীয় প্রার্থীদের অবস্থান এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগও রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে ভোটারদের বাস্তব সিদ্ধান্ত—শুধু একটি জাতীয় জনমত জরিপ নয়।

ডেমোক্র্যাটদের জয় মানেই যুক্তরাষ্ট্রে অস্থিরতা, ফ্রান্সের উদাহরণ টেনে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

হ্যারিস কাউন্টিতে আগাম ভোট শুরু, ৩ নভেম্বরের নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের প্রস্তুতি

হ্যারিস কাউন্টিতে আগাম ভোট শুরু, ৩ নভেম্বরের নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের প্রস্তুতি




