সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
শাহজালাল বিমানবন্দরের স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন, কয়েক মিনিটেই নিয়ন্ত্রণেযুক্তরাষ্ট্রের ৭ কোটি শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার উপহারের ঘোষণা ইলন মাস্কের, মূল্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারধর্ম বদলেছে, বেঁচে গেছে ইতিহাস—যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা থেকে মসজিদ হওয়ার অনন্য কাহিনিমধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আগুন, বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাল জ্বালানি তেলের দামহিজাব বিতর্কে শিক্ষিকার বিদায়, কান্নায় ভাসল বাকুর বিদ্যালয়, ভাইরাল হৃদয়বিদারক দৃশ্য

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি নির্মাণে বড় ধাক্কা, ঋণের সুদ বাড়ায় বাড়ি কেনা কঠিন হচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্য

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি নির্মাণ ও অনুমোদন কমেছে। প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গৃহঋণের সুদ, বাড়ি কেনা নিয়ে বাড়ছে সাধারণ পরিবারের উদ্বেগ।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি নির্মাণে বড় ধাক্কা, ঋণের সুদ বাড়ায় বাড়ি কেনা কঠিন হচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্য
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি নির্মাণে বড় ধাক্কা, ঋণের সুদ বাড়ায় বাড়ি কেনা কঠিন হচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্য

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে নতুন করে দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। উচ্চ গৃহঋণের সুদ, বাড়ি নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের সীমিত সামর্থ্যের কারণে সেপ্টেম্বরে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি কমেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নির্মাণের জন্য একক পরিবারের বাড়ির অনুমোদনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যানের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আবাসন খাতের এই পরিস্থিতি দেশটির অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে একক পরিবারের নতুন বাড়ি নির্মাণ শুরুর হার আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৮ লাখ ৫৯ হাজারে নেমেছে। এই হিসাবের অর্থ হলো, সেপ্টেম্বরে দেখা গতি পরবর্তী ১২ মাস ধরে চললে বছরে প্রায় এতগুলো বাড়ির নির্মাণ শুরু হতো। একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে এটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়। তবে গত বছরের একই মাসের তুলনায় এই নির্মাণ শুরুর হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি ছিল। ফলে মাসিক পতনকে বছরের তুলনায় সামগ্রিক পতন হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।

নতুন বাড়ি নির্মাণের ভবিষ্যৎ গতি বোঝার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো নির্মাণ-অনুমোদন। সেপ্টেম্বরে একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন আগের মাসের তুলনায় ৪ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৮ লাখ ৪৫ হাজারে নেমেছে। ২০২৩ সালের মার্চের পর এটি সর্বনিম্ন পর্যায়। অনুমোদন কমে যাওয়ার অর্থ, নির্মাতারা ভবিষ্যতে নতুন বাড়ির প্রকল্প শুরু করার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। তবে অনুমোদন কমলেই সব প্রকল্প বাতিল হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

সব ধরনের আবাসিক নির্মাণ একত্রে হিসাব করলে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি নির্মাণ শুরুর হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে প্রায় ১২ লাখ ২১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এই পতন অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল। অ্যাপার্টমেন্টসহ একাধিক পরিবারের আবাসন প্রকল্পের নির্মাণেও দুর্বলতা দেখা গেছে। আবাসন খাতের এই মন্থরতা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির উচ্চমূল্য এবং বাড়ি কেনার ব্যয় সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য বড় বাধা হয়ে আছে।

এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ গৃহঋণের সুদের হার বৃদ্ধি। ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর মেয়াদি স্থির সুদের গৃহঋণের গড় হার ৭ দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ঋণের সুদ বাড়লে একই দামের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও ক্রেতাকে দীর্ঘ মেয়াদে বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এতে মাসিক কিস্তি বেড়ে যায় এবং অনেক পরিবারের পক্ষে ঋণের যোগ্যতা অর্জন করা কিংবা নিজেদের বাজেটের মধ্যে বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়ে।

বাড়ির দামও ক্রেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ঋণের সুদের পাশাপাশি সম্পত্তি কর, বাড়ির বিমা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হয় বাড়ির মালিকদের। ফলে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু বিক্রয়মূল্য বিবেচনা করলেই চলে না; দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ও হিসাব করতে হয়। বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহী পরিবারগুলোর জন্য অগ্রিম অর্থ জমা করা এবং নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ক্রেতাদের চাহিদা দুর্বল হওয়ায় বিক্রির জন্য থাকা কিছু নতুন বাড়ি বাজারে অবিক্রীত অবস্থায় জমে থাকছে। এতে নির্মাতাদের নতুন প্রকল্প শুরু করার আগ্রহ কমতে পারে। অন্যদিকে নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং শ্রমিকসংকট নির্মাণ খাতের খরচ আরও বাড়াচ্ছে। অভিবাসনসংক্রান্ত কঠোর নীতির মধ্যে শ্রমিক পাওয়া নিয়ে উদ্বেগও নির্মাণশিল্পের পরিস্থিতিকে জটিল করছে বলে নির্মাতাদের সংগঠন জানিয়েছে।

ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হোম বিল্ডার্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে একক পরিবারের বাড়ি নির্মাতাদের আস্থা কমে ২০১২ সালের জুনের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম, ঋণের ব্যয় এবং শ্রমিকসংকট নিয়ে উদ্বেগ এই আস্থা কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। নির্মাতাদের আস্থা কমে গেলে ভবিষ্যতের প্রকল্প পরিকল্পনা ও বিনিয়োগেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সুদের হার, নির্মাণব্যয়, ক্রেতাদের সামর্থ্য এবং বাড়ির চাহিদা কীভাবে পরিবর্তিত হয় তার ওপর।

আবাসন বাজারে দুর্বলতার পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্যও রয়েছে। নতুন বাড়ি অবিক্রীত অবস্থায় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিকভাবে বাড়ির সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। অর্থাৎ নির্মাণের গতি কমে যাওয়া একদিকে স্বল্পমেয়াদে অবিক্রীত বাড়ির সংখ্যা সামলাতে সহায়তা করতে পারে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি সরবরাহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই নির্মাণ কমে যাওয়াকে বাড়ির দাম দ্রুত কমে যাওয়ার নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে উচ্চ ঋণব্যয় ও নির্মাণ খরচের চাপ স্পষ্ট হচ্ছে। নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি কমা এবং নির্মাণ-অনুমোদন নিম্নমুখী হওয়া দেখাচ্ছে, ক্রেতা ও নির্মাতা—দুই পক্ষই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। আগামী মাসগুলোতে গৃহঋণের সুদ কমে কি না, নির্মাণব্যয় স্থিতিশীল হয় কি না এবং ক্রেতাদের সামর্থ্য বাড়ে কি না, তার ওপর আবাসন খাতের পরবর্তী গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রবাড়ি নির্মাণআবাসনবাজারগৃহঋণঋণের সুদবাড়ির দামঅর্থনীতি

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।