ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে নতুন উদ্যোগ, ভারত সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও
ভারত সফরে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ভেনেজুয়েলার তেল শোধন ও সম্ভাব্য উৎপাদন নিয়ে রিলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।
ভারত সফরে জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল আরও বেশি পরিমাণে শোধন এবং দেশটিতে সম্ভাব্য তেল উৎপাদন নিয়ে ভারতের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও এ বিষয়ে তাঁর সরকারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
রিলায়েন্স অতীতেও ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল শোধন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির জামনগর শোধনাগার কমপ্লেক্সে দুটি বড় শোধনাগার রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত দৈনিক প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল। ভেনেজুয়েলার ভারী ধরনের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতাও এসব শোধনাগারের রয়েছে। ফলে দেশটির তেল উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটির জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রুবিও জানিয়েছেন, রিলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনায় ভেনেজুয়েলার তেল আরও বেশি পরিমাণে শোধনের বিষয়টি তোলা হবে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। রিলায়েন্স বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সরাসরি তেল উৎপাদন করছে না বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এই উদ্যোগের পেছনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত তার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। দেশটির শিল্প, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাত সচল রাখতে অপরিশোধিত তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার তেল ভারী প্রকৃতির হওয়ায় সব শোধনাগারে তা সহজে প্রক্রিয়াকরণ করা যায় না। যেসব শোধনাগার এ ধরনের তেল প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম, সেগুলোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহের উৎস হতে পারে।
রুবিওর ভারত সফরে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত দীর্ঘদিন ধরে একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চাপ ও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার তেল কেনার কারণে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার কিছু বিধান স্থগিত করেছেন। এতে বাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
ভারত একই সঙ্গে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য উৎপাদক দেশের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেলও দেশটির জ্বালানি সরবরাহের হিসাবের অংশ। তবে নতুন করে কত পরিমাণ তেল শোধন করা হবে, কী ধরনের উৎপাদন সহযোগিতা গড়ে উঠবে কিংবা এসব উদ্যোগের জন্য কী শর্ত নির্ধারণ করা হবে—তা এখনো আলোচনার বিষয়।
রুবিওর সফর তাই শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। রিলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি হলে তা ভেনেজুয়েলার তেল বাজারজাতকরণ এবং ভারতের শোধনাগার খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এটিকে পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য সহযোগিতা হিসেবেই দেখা উচিত।





