যুক্তরাজ্যে বিদেশি কর্মীদের ভিসার সুযোগ, তালিকায় প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তির পেশা
যুক্তরাজ্যের অস্থায়ী কর্মী সংকটের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন কারিগরি, প্রযুক্তি ও সৃজনশীল পেশা। তবে ভিসা পেতে চাকরি, বেতন ও স্পনসরশিপের শর্ত পূরণ জরুরি।
যুক্তরাজ্যে কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু পেশায় দক্ষ কর্মী ভিসার সুযোগ রেখেছে দেশটির সরকার। প্রকৌশল ও নির্মাণসংশ্লিষ্ট কারিগরি কাজ, তথ্যপ্রযুক্তি, হিসাবরক্ষণ, পরিবহন এবং সৃজনশীল শিল্পের কিছু পেশা দেশটির অস্থায়ী কর্মী সংকটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই তালিকায় পেশার নাম থাকলেই কোনো বিদেশি নাগরিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতি বা ভিসা পাবেন না। চাকরির প্রস্তাব, নিয়োগকর্তার অনুমোদন, নির্ধারিত বেতন এবং অভিবাসনবিধির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
যুক্তরাজ্য সরকারের অভিবাসনবিষয়ক নির্দেশনায় এই তালিকার নাম ‘টেম্পোরারি শর্টেজ লিস্ট’। নির্দিষ্ট কিছু মাঝারি দক্ষতার পেশায় কর্মী নিয়োগের জন্য এটি একটি সীমিত ও সময়সাপেক্ষ ব্যবস্থা। তালিকাভুক্ত যোগ্য পেশায় থাকা ব্যক্তিরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে থাকা ব্যক্তিরা ভিসার ধরন পরিবর্তন অথবা বিদ্যমান দক্ষ কর্মী ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও করতে পারেন। তবে এসব সুযোগ নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও প্রযোজ্য অভিবাসনবিধির ওপর নির্ভরশীল।
সরকারি তালিকায় বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশল প্রযুক্তিবিদ, পরীক্ষাগার প্রযুক্তিবিদ, মান নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিবিদ, নির্মাণ ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তিবিদ এবং নকশা ও স্থাপত্যসংক্রান্ত প্রযুক্তিবিদের মতো পেশা রয়েছে। এসব কাজে প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি জ্ঞান, সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
নির্মাণ ও উৎপাদন খাতের চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই পেশার সঠিক পরিচিতি এবং সরকারি তালিকায় উল্লেখ করা কাজের ধরন যাচাই করতে হবে। একই ধরনের নামের সব চাকরি তালিকার আওতায় পড়ে না। ফলে কোনো ব্যক্তি ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ঝালাই কর্মী বা নির্মাণকর্মী হিসেবে কাজ করলেই যে এই নির্দিষ্ট তালিকার মাধ্যমে ভিসার যোগ্য হবেন, তা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট পেশাটি কোন কোডের আওতায় রয়েছে এবং সেখানে কী ধরনের কাজ অন্তর্ভুক্ত, তা যাচাই করা জরুরি।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আইটি পরিচালনাকর্মী, ব্যবহারকারী সহায়তাকর্মী এবং তথ্যভান্ডার প্রশাসন ও ওয়েব বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু পেশা তালিকায় রয়েছে। প্রযুক্তি খাতে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিদের জন্য এসব পদ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে চাকরির ধরন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত দক্ষতা, পূর্বের অভিজ্ঞতা এবং নিয়োগকর্তার চাহিদা ভিন্ন হতে পারে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পেশার সাধারণ নাম এবং সরকারি অভিবাসন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পেশাগত কোড সব সময় এক নয়। তাই আবেদন করার আগে নিজের প্রকৃত দায়িত্ব ও কাজের বিবরণ অনুযায়ী সঠিক পেশাগত কোড খুঁজে নিতে হবে।
অস্থায়ী কর্মী সংকটের তালিকায় হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক প্রযুক্তিবিদ, বিমা-সংশ্লিষ্ট কিছু পেশা, মূল্যায়নকারী, তথ্য বিশ্লেষক এবং নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক সহায়তামূলক কাজও রয়েছে। সৃজনশীল খাতে লেখক, অনুবাদক, নৃত্যশিল্পী, আলোকচিত্র ও সম্প্রচার সরঞ্জাম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং পোশাক ও পণ্য নকশার নির্দিষ্ট কিছু পেশা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তবে এসব ক্ষেত্রে যোগ্যতা যাচাইয়ের সময় পেশার নামের পাশাপাশি কাজের প্রকৃত দায়িত্ব দেখা প্রয়োজন। কোনো পেশার একটি নির্দিষ্ট অংশ তালিকাভুক্ত থাকলে একই পেশার অন্য কাজের জন্য সেই সুবিধা প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট পেশার অধীনে কী কী কাজ গ্রহণযোগ্য, তা মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
দক্ষ কর্মী ভিসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত স্পনসর নিয়োগকর্তার কাছ থেকে যোগ্য চাকরির প্রস্তাব পাওয়া। নিয়োগকর্তাকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী স্পনসরশিপ সনদ দিতে হয়। পাশাপাশি চাকরির বেতন সংশ্লিষ্ট পেশার জন্য প্রযোজ্য সীমা পূরণ করছে কি না, আবেদনকারীর ইংরেজি ভাষার দক্ষতা এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্তও যাচাই করা হয়।
শুধু কোনো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব পেলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। নিয়োগকর্তার স্পনসর লাইসেন্স বৈধ কি না, চাকরিটি ভিসার উপযোগী কি না এবং আবেদনকারীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা নিয়মের সঙ্গে মেলে কি না, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের সরকারি অভিবাসনবিধিতে অস্থায়ী কর্মী সংকটের তালিকার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, এই তালিকার আওতায় আবেদন করতে নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ সনদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ইস্যু করা থাকতে হবে। এটি সনদ ইস্যুর সময়সীমা—শুধু ওই তারিখের মধ্যে চাকরির আবেদন করলেই শর্ত পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে না।
সময়সীমার আগে সনদ ইস্যু হলেও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। ভবিষ্যতে তালিকা বা অভিবাসনবিধি পরিবর্তিত হলে নিয়মও বদলাতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোনো সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে ভিসার যোগ্যতা নিশ্চিত ধরে না নেওয়া। নিজের পেশার কোড, বেতনের শর্ত, নিয়োগকর্তার অনুমোদন এবং আবেদন করার সময় কার্যকর নিয়ম সরাসরি যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করতে হবে।
যুক্তরাজ্যের অস্থায়ী কর্মী সংকটের তালিকা নির্দিষ্ট কিছু পেশায় বিদেশি কর্মীদের জন্য সীমিত সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু এটি সব খাতের সব কর্মীর জন্য উন্মুক্ত কোনো সাধারণ ভিসা কর্মসূচি নয়। সঠিক পেশা নির্বাচন, বৈধ স্পনসর নিয়োগকর্তা এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করাই আবেদন প্রক্রিয়ার মূল বিষয়।





