ইলহান ওমরের বাড়িতে এফবিআই নয়, ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি; জিজ্ঞাসাবাদে বোন
মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশির পর তাঁর বড় বোন সাহরা নূরের সঙ্গে কথা বলেছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। নাগরিকত্বের নথি নিয়ে চলমান তদন্ত ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা। তবে এখনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরকে ঘিরে অভিবাসনসংক্রান্ত তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। তাঁর ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনে ফেডারেল তদন্তকারীদের তল্লাশির কয়েক দিন পর তাঁর বড় বোন সাহরা নূরও তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ফক্স নিউজ ডিজিটাল। সংবাদমাধ্যমটির ২০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তের সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, সাহরা গত সপ্তাহে স্বেচ্ছায় তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে তাঁকে কী বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে এবং তাঁর বক্তব্য তদন্তে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গত ১২ অক্টোবর ভোরে ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনে তল্লাশি চালায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বা এইচএসআই। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন একটি তদন্তকারী সংস্থা। আদালতের অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে চালানো এই অভিযানের সঙ্গে ওমরের কয়েক দশক আগের অভিবাসন ও নাগরিকত্বের নথি নিয়ে তদন্তের সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে আসা এবং পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ইলহান ওমর অথবা তাঁর পরিবারের কেউ কোনো তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিলেন কি না। তবে এটি এখনো তদন্তাধীন অভিযোগ। কোনো আদালত ওমরকে এ ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সাহরা নূরও শৈশবে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি কেনিয়ায় বসবাস করেন বলে তাঁর পেশাগত পরিচিতির তথ্য থেকে জানা গেছে। নিজের স্মৃতিকথা ‘সল্ট ইন দ্য স্নো: আ সোমালি ইমিগ্র্যান্ট স্টোরি’ প্রচারের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বইয়ের প্রচার সফরে ছিলেন।
গত ১৫ অক্টোবর মিনেসোটার ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা রচেস্টারে তাঁর একটি বইবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটি বাতিলের কারণ হিসেবে ‘পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতির’ কথা জানানো হয়। পরে ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদনে সাহরা নূরের সঙ্গে তদন্তকারীদের কথোপকথনের বিষয়টি প্রকাশ পায়। তবে অনুষ্ঠান বাতিলের সঙ্গে তদন্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ইলহান ওমর সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সালে তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে আসে এবং ২০০০ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে ২০১৯ সাল থেকে তিনি কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একজন পরিচিত সদস্য এবং তাঁর অভিবাসন-ইতিহাস ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।
রয়টার্সের ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা ওমরের পুরোনো অভিবাসন ও নাগরিকত্বের কাগজপত্র পরীক্ষা করছেন। ওই প্রতিবেদনে তাঁর এক বোনের ফেডারেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের পূর্ণ বিবরণ এখনো জনসমক্ষে আসেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও তদন্তের সব অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
ইলহান ওমর ও তাঁর পক্ষের বক্তব্য এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাঁর কার্যালয় বাড়িতে তল্লাশির নিন্দা জানিয়েছে এবং ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছে। ওমর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে তদন্তকারীদের কাজের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য আইনি পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের প্রক্রিয়া দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছিল—এমন বিষয় প্রমাণিত হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে শুধু তদন্ত শুরু হওয়া, বাড়িতে তল্লাশি চালানো কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে কথা বলার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল হবে বা তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি এবং তাঁর বড় বোন সাহরা নূরের সঙ্গে তদন্তকারীদের কথোপকথন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এখন নজর রয়েছে তদন্তকারীরা কী তথ্য সংগ্রহ করেন, কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কী জানায় এবং পরবর্তী সময়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, তার ওপর। তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ ও প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।





