ব্রেকিং
হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক ফেরত না দিতে লেবাননের প্রেসিডেন্টকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কো রুবিওওরেগনের সিলভার রেইল স্কুলে বন্দুকধারীর তাণ্ডব, রক্তে ভিজলো শিশুদের কোমল শ্রেণিকক্ষট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে ভয়ংকর বোমা হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রেরআমেরিকায় কাজের অনুমতির নিয়মে বড় পরিবর্তন, বিপাকে গ্রিনকার্ডপ্রার্থী ও এইচ-ফোর ভিসাধারীরানিউইয়র্কে আইসিইর গুলিতে আহত অভিবাসী আদালতে, ঘাড়ে গুলি নিয়েই আটক থাকার অভিযোগ

ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে ভয়ংকর বোমা হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানে সামরিক স্থাপনায় হামলার জন্য ভয়ংকর শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর, তবে চূড়ান্ত নির্দেশ এখনো আসেনি।

ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে ভয়ংকর বোমা হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের
ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে ভয়ংকর বোমা হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে হামলার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী প্রচলিত বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরি করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে পরিকল্পনা তৈরি করা হলেও ইরানে এই বোমা ব্যবহারের চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

বোমাটির নাম জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। এটি সাধারণভাবে ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় প্রচলিত, অর্থাৎ পারমাণবিক নয় এমন বোমা হিসেবে এটি পরিচিত। এর বিশাল বিস্ফোরণক্ষমতা বিস্তৃত এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করা হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নির্দেশ এলে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য এই বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। একই সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোও সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষাসচিবের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযান সফল করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ বিভিন্ন ধরনের সম্ভাব্য অভিযান পরিকল্পনা করে থাকে। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সামরিক বাহিনী একাধিক পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখে। তবে কর্মকর্তার বক্তব্যে ইরানে বোমাটি ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার জন্য সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখছেন। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেনি। তবে প্রকাশ্যে দেওয়া এই বক্তব্যকে সরাসরি হামলার অনুমোদন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

বোমাটির ইতিহাসও বেশ আলোচিত। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের আচিন জেলায় ইসলামিক স্টেটের খোরাসান শাখার ব্যবহৃত গুহা ও সুড়ঙ্গের একটি এলাকায় প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে এই বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীটির অবস্থান ও তাদের ব্যবহৃত অবকাঠামো ধ্বংস করা। আফগান কর্মকর্তারা সে সময় ৩৬ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
আফগানিস্তানে বোমাটি ব্যবহারের সময়ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। কারণ, এটি সাধারণ বোমার তুলনায় অনেক বড় এবং এর বিস্ফোরণে সৃষ্ট চাপ ও ধ্বংসের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা তাই নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
বিভিন্ন সামরিক তথ্যসূত্রে বোমাটির ওজন প্রায় ২১ হাজার থেকে ২১ হাজার ৭০০ পাউন্ডের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সিবিএস নিউজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এর ওজন ৩০ হাজার পাউন্ডের বেশি বলা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানের পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভরযোগ্য সামরিক অস্ত্রবিষয়ক তথ্যসূত্রে জিবিইউ-৪৩/বি বোমার ওজন প্রায় ২১ হাজার ৬০০ পাউন্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ৩০ হাজার পাউন্ডের বেশি ওজনের দাবিটি সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

বোমাটির নির্মাণব্যয় নিয়েও তথ্য রয়েছে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রতি ইউনিটের নির্মাণব্যয় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার বলা হয়েছিল। তবে এই অঙ্কটি পুরোনো হিসাব; বর্তমান উৎপাদনব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সামরিক অভিযানের মোট খরচ এর সঙ্গে এক নয়। বোমাটির প্রকৃত মজুতসংখ্যা ও বর্তমানে ব্যবহারের উপযোগী ইউনিটের সংখ্যা সম্পর্কেও প্রকাশ্যে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায় না।

এই অস্ত্রের বিশেষত্ব হলো, এটি বিস্তৃত এলাকার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি। এটি আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা হয় এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য এলাকায় পৌঁছানোর জন্য উপগ্রহনির্ভর দিকনির্দেশনা ব্যবহার করে। বিস্ফোরণের সময় মাটির কাছাকাছি বা তার ওপরের অংশে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে আশপাশের স্থাপনা ও অবস্থান ধ্বংস করতে পারে। গুহা, সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ এবং বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে থাকা সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে এর ব্যবহার বিবেচনা করা হয়। তবে একে গভীর ভূগর্ভে প্রবেশ করে শক্ত পাথরে ঘেরা স্থাপনা ধ্বংস করার উপযোগী বিশেষ বোমার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক স্থাপনায় এই বোমার কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও সামরিক পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গভীর ভূগর্ভে অবস্থিত এবং শক্তিশালী পাথর ও অন্যান্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে বোমাটির সক্ষমতা সীমিত হতে পারে। বিশাল বিস্ফোরণ ঘটাতে পারলেও তা যে ভূগর্ভের গভীরে থাকা সব স্থাপনা ধ্বংস করতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
এই সীমাবদ্ধতা ইরানের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির কিছু পারমাণবিক স্থাপনা পাহাড়ি এলাকায় বা ভূগর্ভে নির্মিত বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি রয়েছে। এসব স্থাপনায় আঘাত হানতে শুধু বিস্ফোরণের শক্তি নয়, স্থাপনার গভীরতা, ভূতাত্ত্বিক গঠন, সুরক্ষাব্যবস্থা এবং অস্ত্রের অনুপ্রবেশক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হয়। ফলে বোমাটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিলেই যুক্তরাষ্ট্র তার ঘোষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা। সামরিক স্থাপনার আশপাশে বসতবাড়ি, হাসপাতাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, যোগাযোগব্যবস্থা বা অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো থাকলে বড় বিস্ফোরণের প্রভাব সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বোমাটি ইরানের জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছে ব্যবহার করা হলে প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান, বিস্ফোরণের ধরন এবং আশপাশের পরিবেশের ওপর।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ার কথাও বলেছিলেন। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাননি। ফলে একদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা বলা হলেও অন্যদিকে সামরিক বিকল্প প্রস্তুত রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনায় এমন শক্তিশালী অস্ত্রের অন্তর্ভুক্তি ইরানকে চাপ দেওয়ার কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তবে শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনো দেশকে আলোচনায় বাধ্য করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং বড় ধরনের হামলা পাল্টা আক্রমণ, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং সংঘাতের বিস্তার ঘটাতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ, মিত্রদেশগুলোর নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে জাহাজ চলাচল, বীমা ব্যয় ও তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে। তবে বোমাটি ব্যবহারের পরিকল্পনার খবর প্রকাশিত হওয়া মাত্রই এসব অর্থনৈতিক প্রভাব ঘটেছে—এমন দাবি করার ভিত্তি নেই।


ট্যাগ: ইরানযুক্তরাষ্ট্রডোনাল্ড ট্রাম্পপেন্টাগনহোয়াইট হাউসভয়ংকর বোমাসামরিক হামলামধ্যপ্রাচ্য সংকটইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাপারমাণবিক স্থাপনাআন্তর্জাতিক রাজনীতি।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।