ব্রেকিং
গ্রিনকার্ডে বাধা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সতর্ক করলেন মাইক্রোসফট প্রেসিডেন্টওমান উপসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট নৌযান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র, প্রাণে বাঁচলেন নাবিকেরাউইসকনসিনে ঘন বনে বিমান বিধ্বস্ত, শিশুসহ প্রাণ হারালেন ছয় আরোহীপাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ৩৩ জনের মৃত্যু, নিহতদের অধিকাংশই কোমলমতি শিশুবিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির, কারা পাবেন চাকরি?

ওমান উপসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট নৌযান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র, প্রাণে বাঁচলেন নাবিকেরা

মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর নজরদারি ও লক্ষ্য নির্ধারণের অভিযোগে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি নৌযান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে নাবিকদের আগেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ওমান উপসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট নৌযান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র, প্রাণে বাঁচলেন নাবিকেরা
ওমান উপসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট নৌযান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র, প্রাণে বাঁচলেন নাবিকেরা

ওমান উপসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি নৌযান ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, নৌযানটি ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল এবং সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। গত ৬ অক্টোবর পরিচালিত এই অভিযানে নৌযানটি ধ্বংস করার আগে এর সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে নাবিকদের পরিচয়, জাতীয়তা এবং তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অভিযানের বিষয়টি সামনে আনে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছোট পালতোলা নৌযানটি ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজের ওপর নজরদারি এবং সেগুলোকে লক্ষ্য নির্ধারণের কাজে নিয়োজিত ছিল। নৌযানটি ধ্বংস করার আগে এর আরোহীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানায় মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মার্কিন বাহিনী নৌযানটি ধ্বংস করার কথা জানালেও অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার মতো পর্যাপ্ত বিবরণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। নৌযানটি ঠিক কী ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছিল, কোথা থেকে সেটি যাত্রা করেছিল, এর পরিচালনাকারী কারা ছিলেন এবং কোন তথ্যের ভিত্তিতে সেটিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল—এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে নজরদারি ও লক্ষ্য নির্ধারণের অভিযোগকে আপাতত মার্কিন সামরিক বাহিনীর বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
মার্কিন সামরিক কমান্ডের অভিযোগ, গত সাত মাস ধরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক নাবিকদের পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকেও বারবার লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তা এবং সামরিক জাহাজের সুরক্ষার বিষয়টি এখন ওই অঞ্চলে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে এই নির্দিষ্ট অভিযানের ক্ষেত্রে নৌযানটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে কী কী প্রমাণ রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ওমান উপসাগর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এটি আরব সাগরকে হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই প্রভাব পড়ে না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের খরচেও প্রভাব পড়তে পারে।
এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উপস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামরিক অভিযান এবং জাহাজ চলাচল ঘিরে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড এর আগেও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছিল, মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তারা ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে আঘাত হেনেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ওই জাহাজগুলো ইরানের সামরিক বাহিনীর অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত একটি গোপন বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের অংশ। ওই ঘটনায়ও যুক্তরাষ্ট্র তার পদক্ষেপকে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরেছিল। তবে বর্তমান ছোট নৌযান ধ্বংসের ঘটনাটি আগের তেলবাহী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের থেকে আলাদা।
এরপর ১০ অক্টোবর আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘ওশান মোলিকা’ ইরানের একটি বন্দর থেকে যাত্রা করে মার্কিন নৌ অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করে। বারবার সতর্ক করার পরও জাহাজটির কর্মীরা নির্দেশনা মানেননি বলে অভিযোগ করা হয়। পরে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান নির্ভুল আঘাত হেনে জাহাজটির চালনা ব্যবস্থা অকার্যকর করে দেয়। ওই ঘটনায় জাহাজটির কর্মীদের কেউ আহত হননি বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।
দুটি ঘটনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ‘ওশান মোলিকা’ ছিল বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ, যেটিকে নৌ অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে অচল করা হয়। অন্যদিকে ৬ অক্টোবরের অভিযানে ধ্বংস করা নৌযানটিকে নজরদারি ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য নির্ধারণের কাজে ব্যবহৃত বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ঘটনাগুলো একই আঞ্চলিক উত্তেজনার অংশ হলেও এগুলোকে একই ধরনের অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা ঠিক হবে না।
এই পরিস্থিতিতে নাবিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজের কর্মীরা সাধারণত বিভিন্ন দেশের নাগরিক হয়ে থাকেন। তাঁরা বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে কাজ করেন। সামরিক সংঘাতের মধ্যে তাঁদের জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং পণ্য পরিবহনে বিলম্ব ঘটতে পারে। এ কারণে নৌযান ধ্বংসের আগে সব আরোহীকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তাঁদের উদ্ধারের পদ্ধতি, কোথায় রাখা হয়েছে এবং কখন তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
১৪ অক্টোবর প্রকাশিত আল জাজিরার ভিডিও প্রতিবেদনেও একই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ নৌযানটিকে ইরান-সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেছে এবং এর বিরুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজের ওপর নজরদারি ও লক্ষ্য নির্ধারণের অভিযোগ এনেছে। তবে নৌযানটির সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনীর সম্পর্কের ধরন কিংবা এর আরোহীদের ভূমিকা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য ওই প্রতিবেদনেও নেই।
ঘটনাটির আরেকটি তাৎপর্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র এখন সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রশ্নকে ইরানের বিরুদ্ধে তার বৃহত্তর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, এ ধরনের অভিযানের ধারাবাহিকতা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার এবং সামরিক জাহাজ একই জলপথ ব্যবহার করায় ভুল বোঝাবুঝি কিংবা পাল্টা হামলার আশঙ্কা থেকেই যায়।
তবে এ ঘটনায় ইরানের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট নৌযানটির পরিচয়, অভিযোগের সত্যতা কিংবা অভিযানের বৈধতা নিয়ে কোনো প্রত্যক্ষ বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। একইভাবে নৌযানটি ধ্বংসের সময় কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, কীভাবে সেটিকে অকার্যকর করা হয় এবং অভিযানটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঠিক কোন স্থানে সংঘটিত হয়েছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও সীমিত।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রইরানওমান উপসাগরমার্কিন নৌবাহিনীসামরিক অভিযানইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীনৌযান ধ্বংসমধ্যপ্রাচ্য সংকটসামুদ্রিক নিরাপত্তাআন্তর্জাতিক রাজনীতিনাবিক উদ্ধার

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।