ব্রেকিং
হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক ফেরত না দিতে লেবাননের প্রেসিডেন্টকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কো রুবিওওরেগনের সিলভার রেইল স্কুলে বন্দুকধারীর তাণ্ডব, রক্তে ভিজলো শিশুদের কোমল শ্রেণিকক্ষট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে ভয়ংকর বোমা হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রেরআমেরিকায় কাজের অনুমতির নিয়মে বড় পরিবর্তন, বিপাকে গ্রিনকার্ডপ্রার্থী ও এইচ-ফোর ভিসাধারীরানিউইয়র্কে আইসিইর গুলিতে আহত অভিবাসী আদালতে, ঘাড়ে গুলি নিয়েই আটক থাকার অভিযোগ

হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক ফেরত না দিতে লেবাননের প্রেসিডেন্টকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কো রুবিও

লেবাননে জব্দ করা হিজবুল্লাহর বিপুল বিস্ফোরক ফেরত না দেওয়া এবং চালানের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কো রুবিও।

হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক ফেরত না দিতে লেবাননের প্রেসিডেন্টকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কো রুবিও
হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক ফেরত না দিতে লেবাননের প্রেসিডেন্টকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কো রুবিও

লেবাননে সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক জব্দের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে বলেছেন, এই চালানের পেছনে যারা নির্দেশ দিয়েছেন, অর্থ জুগিয়েছেন এবং পরিবহনের ব্যবস্থা করেছেন, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে জব্দ করা বিস্ফোরক হিজবুল্লাহর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয় বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার দুই নেতার ফোনালাপের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন লেবানন সরকার দেশের ভূখণ্ডে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সামরিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত, দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান এবং অস্ত্র সমর্পণ নিয়ে বিরোধ দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিস্ফোরকের চালান জব্দের ঘটনা এখন শুধু একটি নিরাপত্তা অভিযান নয়, বরং লেবাননের সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
গত সপ্তাহে লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানী বৈরুতের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার সংযোগকারী সড়কে একটি বিস্ফোরকবোঝাই যান আটক করে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাহর আল-বাইদার এলাকার একটি নিরাপত্তা তল্লাশিচৌকিতে যানটি থামানো হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা দুজনকে আটক করা হয় এবং বিস্ফোরকের চালানটি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে চালানটির মালিকানা ও সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে বিষয়টি নিয়ে লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
লেবাননের বিচার বিভাগীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জব্দ করা বিস্ফোরকের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৮০ কেজি। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ কেজি টিএনটি এবং আরও প্রায় ২৫০ কেজি সি-ফোর নামের শক্তিশালী বিস্ফোরক ছিল। বাকি অংশে অন্যান্য বিস্ফোরক উপাদান ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চালানের প্রতিটি উপাদানের সুনির্দিষ্ট হিসাব এবং এর চূড়ান্ত ব্যবহার সম্পর্কে তদন্তের সব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চালানটি আটকের পর প্রথম দিকে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, বিস্ফোরকগুলো লেবাননের অভ্যন্তরে গাড়িবোমা হামলা, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষ করে সি-ফোর বিস্ফোরক অতীতে লেবাননের কয়েকটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলোচনায় আসায় উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। তবে বিস্ফোরকগুলো অভ্যন্তরীণ হামলার জন্যই আনা হয়েছিল, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো তদন্তের প্রকাশ্য তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায় না। আশঙ্কা, অভিযোগ এবং প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ প্রকাশ্যে জানান, জব্দ করা বিস্ফোরকগুলো তাঁদের সংগঠনের। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব উপকরণ ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে এসব বিস্ফোরক ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিস্ফোরকগুলো ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়। আটক দুই ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার দাবিও তোলা হয়।

হিজবুল্লাহর এই বক্তব্য চালানের মালিকানা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও বিস্ফোরক পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে সব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। কে চালানটি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল, অর্থ কোথা থেকে এসেছিল, কারা পরিবহনের ব্যবস্থা করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় এগুলো পৌঁছানোর কথা ছিল—এসব বিষয় এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রুবিও যে জবাবদিহির দাবি তুলেছেন, তার মূল লক্ষ্য এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এবং কেবল চালক বা পরিবহনকারীদের মধ্যে তদন্ত সীমাবদ্ধ না রাখা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, রুবিও প্রেসিডেন্ট আউনকে চালানটির নির্দেশদাতা, অর্থদাতা এবং পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জব্দ করা বিস্ফোরক হিজবুল্লাহকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত হবে না বলে তিনি জোর দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন ঘটনাটিকে শুধু অবৈধভাবে বিস্ফোরক পরিবহনের ঘটনা হিসেবে দেখছে না; বরং লেবাননে অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্টের দপ্তরও ফোনালাপের বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, আউন জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী সশস্ত্র তৎপরতা প্রতিরোধ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ এবং চোরাচালান বন্ধে দায়িত্ব পালন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপগুলোও এই প্রচেষ্টার অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, বিচার বিভাগে পাঠানো মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চলবে এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না বলে তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে দুই নেতার ফোনালাপের আলোচ্য বিষয় শুধু বিস্ফোরকের চালানে সীমাবদ্ধ ছিল না। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়েও কথা হয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে দক্ষিণাঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলোতে হামলা বন্ধের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিদ্যমান সমঝোতার শর্ত মানা, জমি পরিষ্কার করার নামে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা এবং কৃষকদের নিজেদের জমিতে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন। ফলে একই ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে হিজবুল্লাহর অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণে চাপ দিয়েছে, অন্যদিকে লেবানন ইসরায়েলি হামলা বন্ধে মার্কিন ভূমিকা চেয়েছে।

এই বিরোধের পেছনে রয়েছে লেবাননে অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। দেশটির সরকার চায়, নিরাপত্তা ও সামরিক শক্তির ওপর রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখেছে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইকে সেই সক্ষমতার প্রধান যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে। সংগঠনটি মনে করে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে অস্ত্র ত্যাগ করা সম্ভব নয়। বিপরীতে সরকার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের একাংশ মনে করে, রাষ্ট্রের অনুমোদনের বাইরে কোনো সশস্ত্র সংগঠনের সামরিক কার্যক্রম দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
২০২৬ সালের ২ মার্চ লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে। এর আগে সংগঠনটি ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করেছিল, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে লেবাননকে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান এবং পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। সরকারের সিদ্ধান্তের পরও হিজবুল্লাহ অস্ত্র ত্যাগে সম্মত হয়নি। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, অস্ত্র জব্দ এবং সামরিক তৎপরতা বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে সরকারের সঙ্গে সংগঠনটির বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাও চলছে। এর লক্ষ্য হলো লেবাননের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যায়ক্রমে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পথ তৈরি করা। কিন্তু দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকা এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্র ত্যাগে অনীহার কারণে সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিস্ফোরকের চালান জব্দের ঘটনা এই প্রক্রিয়ায় নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
ফোনালাপে রুবিও লেবাননের ১৯৫৫ সালের বর্জন আইন নিয়েও আলোচনা করেছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই আইন ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনটিকে বাস্তবতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে সমালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত কমাতে লেবানন ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ওয়াশিংটনের মতে, এ ধরনের যোগাযোগ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সমঝোতা বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, লেবাননের সরকার বিস্ফোরকের চালানের তদন্ত কত দূর এগিয়ে নিতে পারে এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয়। শুধু বিস্ফোরক জব্দ ও পরিবহনকারীদের আটক করাই যথেষ্ট হবে না, যদি নির্দেশদাতা ও অর্থের উৎস শনাক্ত করা না যায়। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী বিস্ফোরকগুলো ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আনা হয়ে থাকলেও তা লেবাননের প্রচলিত আইন ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রশ্নকে এড়িয়ে যায় না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তদন্তে পাওয়া প্রমাণ, বিচার বিভাগের পদক্ষেপ এবং সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।


ট্যাগ: লেবাননমার্কো রুবিওজোসেফ আউনহিজবুল্লাহবিস্ফোরক জব্দলেবানন সংকটযুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিমধ্যপ্রাচ্য সংঘাতইসরায়েল-লেবানন সম্পর্কনিরাপত্তা তদন্ত

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।