ব্রেকিং
হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক ফেরত না দিতে লেবাননের প্রেসিডেন্টকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কো রুবিওওরেগনের সিলভার রেইল স্কুলে বন্দুকধারীর তাণ্ডব, রক্তে ভিজলো শিশুদের কোমল শ্রেণিকক্ষট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে ভয়ংকর বোমা হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রেরআমেরিকায় কাজের অনুমতির নিয়মে বড় পরিবর্তন, বিপাকে গ্রিনকার্ডপ্রার্থী ও এইচ-ফোর ভিসাধারীরানিউইয়র্কে আইসিইর গুলিতে আহত অভিবাসী আদালতে, ঘাড়ে গুলি নিয়েই আটক থাকার অভিযোগ

সচিবালয়ে নেপাল দূতের সঙ্গে মন্ত্রী মঈন খানের বৈঠক, সার্ক পুনরুজ্জীবনে সহযোগিতা কামনা

সচিবালয়ে নেপাল রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মন্ত্রী মঈন খানের সৌজন্য সাক্ষাৎ, শিক্ষা বাণিজ্য ও সার্ক পুনরুজ্জীবনে ঐক্যবদ্ধ কাজের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন উভয়ে

সচিবালয়ে নেপাল দূতের সঙ্গে মন্ত্রী মঈন খানের বৈঠক, সার্ক পুনরুজ্জীবনে সহযোগিতা কামনা
সচিবালয়ে নেপাল দূতের সঙ্গে মন্ত্রী মঈন খানের বৈঠক, সার্ক পুনরুজ্জীবনে সহযোগিতা কামনা

বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডক্টর আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার চৌদ্দ অক্টোবর সকালে মন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। ভবিষ্যতে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বৈঠকের শুরুতেই নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক মিল রয়েছে। দুই দেশের মানুষের জীবনযাত্রা, পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্র্য, কৃষি নির্ভরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি অনেক ক্ষেত্রে একই রকম। এই মিলগুলোকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে নেপালের মানুষের আত্মিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।


শিক্ষা খাতে সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আড়াই হাজারের বেশি নেপালি শিক্ষার্থী চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা করছেন। বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার মান অত্যন্ত ভালো এবং খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় নেপালের শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলাদেশ অত্যন্ত পছন্দের গন্তব্য। এই সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। তিনি এই সুযোগ আরও সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে নার্সিং, কারিগরি শিক্ষা এবং কৃষি শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।


এছাড়া রাষ্ট্রদূত নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। তিনি জানান, গত কয়েক সপ্তাহে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাস্তাঘাট, সেতু, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় পাঁচশো কোটি ডলারের বেশি প্রয়োজন। এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের মতো বন্ধু দেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন, খাদ্য সহায়তা এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে বাংলাদেশের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।


এর জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ডক্টর আবদুল মঈন খান বলেন, নেপাল বাংলাদেশের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে প্রতিটি দুর্যোগে দুই দেশ একে অপরের পাশে থেকেছে। বাংলাদেশ সবসময় নেপালের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত। তিনি নেপালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নেপালের মানুষের কষ্ট অনুভব করে।


মন্ত্রী আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময় অঞ্চল। কিন্তু এই অঞ্চলের দেশগুলো যদি এককভাবে বিশ্ব দরবারে কথা বলে, তবে তাদের কণ্ঠ তেমন জোরালো হয় না। বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যদি সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তোলে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের কথা আরও গুরুত্ব দিয়ে শুনবে। এই কারণে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ককে আবার সক্রিয় এবং পুনরুজ্জীবিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সার্ক পুনরুজ্জীবনে নেপালের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।


মন্ত্রী আরও বলেন, নেপাল বর্তমানে সার্কের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে। ফলে সার্ককে সচল করতে নেপালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সার্ককে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নেপালের নেতৃত্বে সার্ক আবার তার হারানো গতি ফিরে পাবে।


দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য হয়, তা সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। আঞ্চলিক এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এই বাণিজ্য বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, যদি আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ে, তবে প্রতিবেশী দেশগুলো তুলনামূলক সুবিধা পাবে। পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বাড়বে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নিজেদের দেশীয় শিল্প এবং অর্থনীতিকে বাইরের অশুভ প্রতিযোগিতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া অনেক সহজ হবে।


মন্ত্রী নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নেপালের বিপুল জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা একে অপরের পরিপূরক। এই খাতে সহযোগিতা বাড়লে দুই দেশই লাভবান হবে। এছাড়া পর্যটন, কৃষি গবেষণা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।


বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ়, বহুমুখী এবং ফলপ্রসূ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই সাক্ষাৎ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন ইতিবাচক অধ্যায়ের সূচনা করবে। সাক্ষাৎকালে মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং নেপাল দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ: বাংলাদেশনেপালসচিবালয়স্থানীয় সরকার মন্ত্রীআবদুল মঈন খানঘনশ্যাম ভান্ডারীসার্কদ্বিপক্ষীয় বৈঠকবাণিজ্যশিক্ষা সহযোগিতাবন্যা পুনর্বাসন

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।