সৌদি আরবে নিরাপত্তা সংকট, ফ্লাইট বাতিলে চরম ভোগান্তিতে ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী
সৌদি আরবে নিরাপত্তা সংকট, ফ্লাইট বাতিলে চরম ভোগান্তিতে ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী সৌদি আরবের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত; ভোগান্তিতে প্রবাসী কর্মী ও অন্যান্য যাত্রী।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী, চাকরিপ্রত্যাশী, ওমরাহযাত্রী এবং দেশে ফিরতে ইচ্ছুক যাত্রীরা। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ১০০টি সরাসরি ও সংযোগকারী ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) তথ্যের বরাত দিয়ে দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এ তথ্য জানিয়েছে।
ইয়েমেনের হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা এবং সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাত্রী পরিবহন ও বিভিন্ন এয়ারলাইনসের সময়সূচি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল, স্থগিত অথবা বিকল্প পথে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিএএবির তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি ছিল বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট। বাকি ৫৯টি ছিল বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাতায়াতের সংযোগকারী ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, রিয়াদ এয়ারের সাতটি এবং সৌদিয়ার সাতটি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে।
সংযোগকারী ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, সালামএয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে বলে আগের হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সময় ও পরিসংখ্যানের পার্থক্য রয়েছে; তাই যাত্রীর সংখ্যা ও বাতিল ফ্লাইটের হিসাব সংশ্লিষ্ট সময়ের সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে তাদের ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার খবর প্রকাশিত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে।
যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে হলে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরের ফ্লাইট বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তবে বিকল্প ফ্লাইটে আসন পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাত্রীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন সৌদি আরবে কর্মরত বা কাজে যোগ দিতে যাওয়া বাংলাদেশি শ্রমিকেরা। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারলে চাকরি, ছুটি এবং ভিসার মেয়াদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ব্যক্তিদেরও ভ্রমণসূচি পরিবর্তন করতে হচ্ছে। যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, তাঁদের জন্য দ্রুত বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করা বিশেষভাবে জরুরি হয়ে উঠেছে।
এর আগে ১২ অক্টোবর সিএএবি এয়ারলাইনসগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের নিয়মিত তথ্য দেওয়া, ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি জানানো, টিকিট পরিবর্তন ও ফেরতের নিয়ম পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার, পানি ও চিকিৎসাসহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে।





