ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তে আগ্নেয়াস্ত্র নিবন্ধনের কেন্দ্রীয় নিয়মে বড় পরিবর্তন
ট্রাম্প প্রশাসন আগ্নেয়াস্ত্রের নিবন্ধনসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নিয়ম প্রয়োগে পরিবর্তন এনেছে, তবে পটভূমি যাচাই ও কেনাকাটার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নিয়ম বহাল থাকছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আদালতের একটি রায়ের পর নির্দিষ্ট ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের নিবন্ধনসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বিধান প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর প্রকাশিত এই সিদ্ধান্তের ফলে আগ্নেয়াস্ত্রের দমনকারী যন্ত্র, ছোট নলবিশিষ্ট রাইফেল এবং নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্রের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নিবন্ধনবিধি প্রয়োগের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের নিবন্ধন, ক্রয়সংক্রান্ত নিয়ম কিংবা নিরাপত্তা যাচাই বাতিল হয়ে গেছে।
সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাসের একটি আদালত গত আগস্টে জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র আইনটির কয়েকটি বিধানকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছিলেন। ওই রায়ে অস্ত্রের নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির জন্য নিবন্ধন ও অনুমতিসংক্রান্ত ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিধান প্রয়োগের বিষয়ে নতুন অবস্থান গ্রহণ করে।
আগে নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র ও যন্ত্রের মালিকদের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নিবন্ধন করতে হতো। সংশ্লিষ্ট নিয়মের আওতায় বিশেষ অনুমতি এবং করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাও ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে নির্দিষ্ট অনুমতির জন্য ২০০ ডলারের কর তুলে দেওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। আদালতের রায়ের পর বিচার বিভাগ সিদ্ধান্ত নেয়, একই ধরনের পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োগনীতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় নিবন্ধনবিধি আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা হবে না।
এই পরিবর্তনের তাৎপর্য হলো, নির্দিষ্ট শ্রেণির আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নিবন্ধনসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা কিছু ক্ষেত্রে শিথিল হতে পারে। তবে কোন অস্ত্রের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইন, প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তাই নতুন সিদ্ধান্তকে সব ধরনের অস্ত্র কেনার অবাধ অনুমতি হিসেবে ব্যাখ্যা করা সঠিক হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকবিষয়ক ফেডারেল সংস্থা জানিয়েছে, অস্ত্রের নিবন্ধনবিধি প্রয়োগের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এলেও সহিংস অপরাধ দমনে তাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। অস্ত্র কেনার সময় প্রয়োজনীয় পটভূমি যাচাই এবং কেন্দ্রীয় ক্রয়সংক্রান্ত ফরমের বাধ্যবাধকতাও বহাল রয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট নিবন্ধনবিধি প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্তকে আগ্নেয়াস্ত্র কেনার সব আইনি শর্ত তুলে নেওয়া হিসেবে দেখা যাবে না।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের আইন কার্যকর নয়। প্রায় ১৫টি অঙ্গরাজ্যে সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের জন্য নিজস্ব আইন অনুযায়ী অনুমতি বা নিবন্ধনের শর্ত থাকতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান বদলালেও কোনো অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব বিধান অনুযায়ী অস্ত্রের মালিকদের অতিরিক্ত শর্ত পূরণ করতে হতে পারে। অস্ত্রের মালিকানা, পরিবহন, ব্যবহার এবং সংরক্ষণসংক্রান্ত নিয়মও স্থানভেদে আলাদা হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অস্ত্রের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ও অনুমতির নিয়মকে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বাধা হিসেবে সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, আইন মেনে অস্ত্র রাখতে ইচ্ছুক নাগরিকদের জন্য অযথা জটিলতা কমানো প্রয়োজন। অন্যদিকে অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা শিথিল হলে নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রের ওপর সরকারি নজরদারি কমতে পারে এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নাগরিকের অস্ত্র রাখার অধিকার এবং জনসাধারণকে সহিংসতা থেকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য। যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রসংক্রান্ত আইন নিয়ে ফেডারেল সরকার, অঙ্গরাজ্য এবং আদালতের ক্ষমতার সীমা নিয়েও বহুদিন ধরে মতপার্থক্য রয়েছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই আইনি বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।
তবে নতুন নীতির বাস্তব প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে আদালতের রায়ের পরিধি, কেন্দ্রীয় সংস্থার নির্দেশনা এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর নিজস্ব আইনের ওপর। কোনো অস্ত্রের নিবন্ধন বা অনুমতি প্রয়োজন কি না, তা যাচাই না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্যে কঠোর অস্ত্র আইন রয়েছে, সেখানে কেন্দ্রীয় নিয়মের পরিবর্তন মানেই স্থানীয় নিয়মের অবসান নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে নির্দিষ্ট কিছু আগ্নেয়াস্ত্রের কেন্দ্রীয় নিবন্ধনবিধি প্রয়োগে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু পটভূমি যাচাই, ক্রয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অঙ্গরাজ্যভিত্তিক বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। তাই সিদ্ধান্তটির প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনার বিস্তারিত বিবেচনা করা জরুরি।




