সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জাপানে টয়োটার অত্যাধুনিক কারখানা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সঙ্গে ছিলেন জুবাইদানিউইয়র্কে ৩৪ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি, স্বামীর ১৮ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, স্ত্রীর ছয় মাসইরান উত্তেজনার মধ্যেই পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারী ব্রেট সিলভিয়াকে সরালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথবাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক বাধা দূর করতে রাষ্ট্রদূতের জোরালো আহ্বানকংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে শুরু হতে পারে চার বড় তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার আবেদন কমেছে, তবে নতুন চাকরি তৈরির গতি নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার আবেদন কমে তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে, তবে নতুন চাকরি তৈরির গতি এখনো সীমিত।

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব সহায়তা কেন্দ্রে আবেদনকারীরা।
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব সহায়তা কেন্দ্রে আবেদনকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদন কমেছে। দেশটির শ্রম বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রথমবার বেকার ভাতার আবেদন করেছেন প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার মানুষ। এর আগের সপ্তাহে সংশোধিত হিসাবে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার। নতুন এই সংখ্যা জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, দেশটিতে এখনো ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে না। তবে নতুন চাকরি তৈরির গতি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের অবস্থা বোঝার জন্য বেকার ভাতার আবেদনের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। কোনো কর্মী চাকরি হারালে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তিনি বেকার ভাতার জন্য আবেদন করতে পারেন। তাই আবেদনের সংখ্যা বাড়লে অনেক সময় কর্মী ছাঁটাই বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অন্যদিকে আবেদন কমে গেলে বোঝা যেতে পারে, চাকরি হারানোর ঘটনা তুলনামূলক কম হচ্ছে। তবে শুধু এই তথ্য দিয়ে পুরো চাকরির বাজারের অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার আবেদন ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম রয়েছে। চলতি বছর সাপ্তাহিক আবেদনের সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়ায়নি। টানা সাত সপ্তাহ ধরে এই সংখ্যা ২ লাখ বা তার নিচে রয়েছে। চার সপ্তাহের গড় আবেদনও কমে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫০-এ নেমেছে। এক সপ্তাহের ওঠানামার চেয়ে চার সপ্তাহের গড় দিয়ে শ্রমবাজারের সামগ্রিক প্রবণতা বোঝা সহজ হয়।

তবে বেকার ভাতার আবেদন কম থাকলেই যে চাকরির বাজার শক্তিশালী হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের চাকরিতে ধরে রাখলেও নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্কতা দেখাচ্ছে। ফলে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাঁদের জন্য নতুন কাজ খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। অর্থনীতিবিদেরা এ ধরনের পরিস্থিতিকে কম কর্মী ছাঁটাই এবং কম নিয়োগের শ্রমবাজার হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে গড়ে প্রায় ৬৮ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৯ হাজার। গত বছরের তুলনায় চাকরি তৈরির গতি কিছুটা উন্নত হলেও আগের কয়েক বছরের তুলনায় তা এখনো দুর্বল। ফলে কর্মসংস্থানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষকদের নজর রয়েছে।

উচ্চ সুদের হার, বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে ভোক্তাদের ব্যয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করছে। এসব বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই চাকরির বাজারে একদিকে ছাঁটাই কম থাকলেও অন্যদিকে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি সীমিত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা নতুন চাকরি খুঁজছেন, চাকরি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন কিংবা পরিবারের খরচ চালানোর জন্য স্থায়ী আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য নিয়োগের বর্তমান পরিস্থিতি জানা দরকার। তবে বেকার ভাতার আবেদন কমেছে বলে সবার জন্য চাকরি পাওয়া সহজ হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। কাজের সুযোগ পেশা, দক্ষতা, অবস্থান এবং নিয়োগদাতার চাহিদার ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশের পাঠকদের জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের খবর প্রাসঙ্গিক। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এই সাপ্তাহিক বেকার ভাতার তথ্য থেকে বাংলাদেশের চাকরির বাজার বা প্রবাসী আয়ের ওপর সরাসরি কী প্রভাব পড়বে, তা নির্ধারণ করা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ আগামী ৬ নভেম্বর অক্টোবর মাসের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা রয়েছে। সেই প্রতিবেদনে নতুন চাকরির সংখ্যা ও বেকারত্বের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। তখন বোঝা সহজ হবে, সাপ্তাহিক বেকার ভাতার আবেদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি চাকরি তৈরির গতিতেও উন্নতি হয়েছে কি না।  যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন কমে যাওয়া কর্মী ছাঁটাইয়ের চাপ কম থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু নতুন চাকরি তৈরির গতি সীমিত থাকায় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়।

ট্যাগ: বেকারত্বকর্মসংস্থানআমেরিকারঅর্থনীতিপ্রবাসীবাংলাদেশি

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।