অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের পক্ষে ট্রাম্পের ২৭৭ মিলিয়ন ডলারের প্রচারব্যয়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তায় বিপুল অর্থ ব্যয় করছে ট্রাম্পের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো। তবে এই বিজ্ঞাপন নির্বাচনের ফল কতটা বদলাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিজ্ঞাপন প্রচার জোরদার করা হয়েছে। এর লক্ষ্য ভোটারদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মোকাবিলা করা এবং কংগ্রেসের দুই কক্ষে দলের অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করা।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রধান রাজনৈতিক তহবিল ম্যাগা ইনকরপোরেটেড সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে প্রায় ২৭৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে, যারা রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিজ্ঞাপন প্রচারে অর্থ ব্যয় করছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এত বড় অঙ্কের অর্থ ঢালার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ম্যাগা ইনকরপোরেটেড ‘নো গোয়িং ব্যাক’ নামের একটি গোষ্ঠীকে ২০০ মিলিয়ন ডলার এবং ‘সেফটি অ্যান্ড অ্যাফোর্ডেবিলিটি’ নামের আরেকটি গোষ্ঠীকে ২৫ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজ্ঞাপন প্রচারে অর্থ ব্যবহার করছে। তবে তহবিল স্থানান্তর এবং বিজ্ঞাপনে ব্যয় একই হিসাব নয়। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট তিনটি গোষ্ঠী ২৫৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিজ্ঞাপন ব্যয় করেছে।
এই অর্থ ব্যয়ের পেছনে রয়েছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেসের সমর্থন থাকলে তাঁর প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং বিভিন্ন সরকারি পদে মনোনয়ন নিশ্চিত করার কাজ সহজ হতে পারে। বিপরীতে, বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কোনো একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের নীতির ওপর নজরদারি এবং তদন্ত বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।
নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন, অপরাধ ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, পেট্রলের দাম, বাড়িভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ নির্বাচনী প্রচারের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাটরা এসব ব্যয়ের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিজেদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, অভিবাসননীতি ও নিরাপত্তাবিষয়ক অবস্থান তুলে ধরছেন।
নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোর একটি টেক্সাসের সিনেট আসন। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে বড় অঙ্কের বিজ্ঞাপন ব্যয় হচ্ছে। ট্রাম্প-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো প্যাক্সটনের পক্ষে প্রচারে অর্থ দিয়েছে। এই ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে বিজ্ঞাপন ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের পরিচিতি বাড়াতে পারে, তবে শুধু বেশি অর্থ ব্যয় করলেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হয় না।
প্রচারের সময় নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর কৌশলও আলোচনায় এসেছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে বিজ্ঞাপন বাড়ানোর ফলে প্রচার চালানোর সময় কমে যায়। একই সময়ে অনেক প্রার্থী ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিজ্ঞাপনের জন্য প্রতিযোগিতা করায় টেলিভিশন ও অন্যান্য প্রচারমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের খরচ বেড়ে যেতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের জন্য এখন আগের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও প্রচারের কার্যকারিতা প্রত্যাশামতো নাও হতে পারে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর হাতে এখনো প্রচারের জন্য অর্থ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাগা ইনকরপোরেটেডের তহবিলে ১৬৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি অবশিষ্ট ছিল। এই অর্থ নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে আরও বিজ্ঞাপন বা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। ট্রাম্প নিজেও নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক প্রচার কার্যক্রমে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তবে তাঁর ঘোষিত মোট ব্যয়ের মধ্যে বিজ্ঞাপন ছাড়াও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, সমাবেশ এবং অন্যান্য নির্বাচনী কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই নির্বাচনে শুধু রিপাবলিকানদের পক্ষেই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থক গোষ্ঠীগুলোও বিজ্ঞাপন, প্রচার এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কাজে অর্থ বিনিয়োগ করছে। ফলে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অর্থের ভূমিকা বাড়লেও ফল নির্ভর করবে ভোটারদের পছন্দ, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় সমস্যা এবং ভোটদানের উপস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।
কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ট্রাম্প-সমর্থিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর বড় অঙ্কের ব্যয় রিপাবলিকানদের নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে বিজ্ঞাপনের এই বিপুল বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ৩ নভেম্বরের ভোটের ফলই নির্ধারণ করবে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে কোন দল কতটা শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।

ফ্লোরিডায় আগাম ভোট ট্রাম্পের, সব রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা জানালেন

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে বিতর্ক, বৈধ ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৮ কাউন্টিকে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের দাবি বিচার বিভাগের





মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।