সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইয়েমেনের তাইজে পানির সংকটে ঝুঁকিতে ১৬ লাখ শিশুর জীবন ও ভবিষ্যৎ এখনকানাডার পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, আদালতে খাদ্য আমদানিকারকের মামলাট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে রিচার্ড পেটি, মধ্যবর্তী ভোটের আগে গ্রিনভিলে রিপাবলিকানদের শক্তি প্রদর্শনমহা নবমীতে উত্তরার পূজামণ্ডপে ভারতীয় হাইকমিশনার, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন দীনেশ ত্রিবেদীদাবানলের ক্ষত শুকানোর আগেই ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা বাড়ছে এবার

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে রিচার্ড পেটি, মধ্যবর্তী ভোটের আগে গ্রিনভিলে রিপাবলিকানদের শক্তি প্রদর্শন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে উত্তর ক্যারোলাইনায় সমাবেশে যোগ দিলেন ট্রাম্প, পাশে ছিলেন কিংবদন্তি গাড়ি দৌড়বিদ রিচার্ড পেটি।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে রিচার্ড পেটি, মধ্যবর্তী ভোটের আগে গ্রিনভিলে রিপাবলিকানদের শক্তি প্রদর্শন
ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে রিচার্ড পেটি, মধ্যবর্তী ভোটের আগে গ্রিনভিলে রিপাবলিকানদের শক্তি প্রদর্শন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রচার জোরদার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে ২০ অক্টোবর উত্তর ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের গ্রিনভিল শহরে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মোটরগাড়ি দৌড় প্রতিযোগিতার কিংবদন্তি রিচার্ড পেটি। গুরুত্বপূর্ণ এই সফরকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান শিবিরে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বেড়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোট সামনে রেখে সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করা, ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে জনসমর্থন জোরদার করাই ছিল এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার গ্রিনভিলের পিট-গ্রিনভিল বিমানবন্দরে পৌঁছান ট্রাম্প। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় তাঁর নির্বাচনী সমাবেশ। সফরে রিচার্ড পেটির উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। পেটি উত্তর ক্যারোলাইনার বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় মোটরগাড়ি দৌড় প্রতিযোগিতার ইতিহাসে অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক জীবনে অসংখ্য সাফল্য অর্জনের কারণে তিনি ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রচারের সংযোগও সামনে এসেছে।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ক্ষমতাসীন দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত রাজনৈতিক সমর্থনের একটি বড় পরীক্ষা। প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারের নীতির প্রতি জনগণের মনোভাব নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে ট্রাম্পের প্রচারাভিযান শুধু প্রার্থীদের পরিচিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তাঁর প্রশাসনের নীতির প্রতি সমর্থন ধরে রাখার প্রচেষ্টাও এতে যুক্ত হয়েছে।

উত্তর ক্যারোলাইনা এবারের নির্বাচনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর রয় কুপারের বিরুদ্ধে। বর্তমান সিনেটর থম টিলিস পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি ঘিরে দুই দলের প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। এই আসনের ফলাফল সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে হোয়াটলির পক্ষে ট্রাম্পের প্রচারাভিযান রিপাবলিকানদের বৃহত্তর নির্বাচনী কৌশলের অংশ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপে হোয়াটলির তুলনায় কুপার এগিয়ে ছিলেন। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে সমাবেশে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে তাঁর দল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করতে পারে। জরিপের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেও দলের কর্মী ও সমর্থকদের মনোবল ধরে রাখা।

সমাবেশে ট্রাম্প শুধু সিনেট নির্বাচন নয়, প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন নিয়েও কথা বলেন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী লরি বাকহাউট ও জেনিফার বালকমের পক্ষে সমর্থন চান। বাকহাউট ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডন ডেভিসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে বালকমের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমি অ্যাগার। ট্রাম্পের বক্তব্যে এই দুই প্রার্থীর নাম উল্লেখ করার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে দলটি গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে জয় নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতে চাইছে।

নির্বাচনী প্রচারে অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতিও আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তার নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এমন প্রতিশ্রুতি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারে, কিন্তু অর্থের উৎস, বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিয়ে স্পষ্টতা না থাকলে তা নিয়ে সংশয়ও তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের ঘোষণাকে নিশ্চিত অর্থপ্রাপ্তি হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবেই বিবেচনা করা জরুরি।

সমাবেশে সরকারের অর্থ অপচয় ও জালিয়াতি শনাক্তে জনসাধারণকে উৎসাহিত করার একটি কর্মসূচির কথাও সামনে আসে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণার বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, সন্দেহজনক সরকারি জালিয়াতির বিষয়ে তথ্য দিয়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া বা উল্লেখযোগ্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করলে তথ্যদাতারা সর্বোচ্চ ত্রিশ হাজার ডলার পুরস্কার পেতে পারেন। তবে কর্মসূচির নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এটি নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপব্যবহার মোকাবিলায় প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরার একটি উদ্যোগ।

ট্রাম্পের সমাবেশে প্রতিবাদকারীদের উপস্থিতিও দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজন প্রতিবাদকারী বক্তব্য চলাকালে বাধা দেন। তাঁদের মধ্যে একজন জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ঘটনাটি দেখায়, নির্বাচনী প্রচারে সমর্থকদের উৎসাহের পাশাপাশি সরকারের নীতির বিরোধিতাও সক্রিয় রয়েছে। জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রিচার্ড পেটির উপস্থিতি সমাবেশটিকে বাড়তি পরিচিতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদদের সমর্থন নির্বাচনী প্রচারে জনদৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। তবে কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির উপস্থিতি নিজে থেকেই নির্বাচনী ফল নির্ধারণ করে না। ভোটারদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রার্থীদের যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর তাঁদের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।

গ্রিনভিলের সমাবেশ ট্রাম্পের নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তর ক্যারোলাইনার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে রিপাবলিকানদের অবস্থান শক্তিশালী করা, সমর্থকদের ভোটদানে উৎসাহিত করা এবং অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে জনসমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা এতে স্পষ্ট। তবে নির্বাচনের ফল কী হবে, তা নির্ধারণ করবে ভোটারদের রায়। সমাবেশে উপস্থিতি কিংবা নেতাদের আত্মবিশ্বাসকে চূড়ান্ত বিজয়ের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনই জানিয়ে দেবে, ট্রাম্পের প্রচারাভিযান রিপাবলিকানদের জন্য কতটা কার্যকর হয়েছে এবং কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।


ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পরিচার্ডপেটিযুক্তরাষ্ট্রমধ্যবর্তীনির্বাচনউত্তরক্যারোলাইনানির্বাচনীসমাবেশ

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।