সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইয়েমেনের তাইজে পানির সংকটে ঝুঁকিতে ১৬ লাখ শিশুর জীবন ও ভবিষ্যৎ এখনকানাডার পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, আদালতে খাদ্য আমদানিকারকের মামলাট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে রিচার্ড পেটি, মধ্যবর্তী ভোটের আগে গ্রিনভিলে রিপাবলিকানদের শক্তি প্রদর্শনমহা নবমীতে উত্তরার পূজামণ্ডপে ভারতীয় হাইকমিশনার, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন দীনেশ ত্রিবেদীদাবানলের ক্ষত শুকানোর আগেই ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা বাড়ছে এবার

মহা নবমীতে উত্তরার পূজামণ্ডপে ভারতীয় হাইকমিশনার, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী

মহা নবমীতে ঢাকার উত্তরার সর্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, উৎসবের আনন্দ ভাগ করে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা দেন তিনি।

মহা নবমীতে উত্তরার পূজামণ্ডপে ভারতীয় হাইকমিশনার, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী
মহা নবমীতে উত্তরার পূজামণ্ডপে ভারতীয় হাইকমিশনার, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহা নবমীতে রাজধানীর উত্তরার সর্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি উত্তরার সর্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে অংশ নিয়ে পূজার আনন্দ উপভোগ করেন। এ সময় তিনি উৎসবের আনন্দ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেন।

উত্তরার এই পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশে এবার অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বর্ণিল পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে বলেও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, সম্প্রীতি গড়ে তুলতে হলে সমাজের সব মানুষের মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপে তিনি শুধু হাইকমিশনার হিসেবে আসেননি, বরং পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে এসেছেন। তাঁর এই বক্তব্য উৎসবের সামাজিক ও মানবিক তাৎপর্যকে তুলে ধরে। ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করে।

পরিদর্শনকালে পূজামণ্ডপের পরিবেশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। উৎসবের বাকি আনুষ্ঠানিকতাও বাংলাদেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর এই বক্তব্যে ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব উঠে আসে।

দুর্গাপূজা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি। তবে এর আবেদন শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পূজাকে ঘিরে শিল্প, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, পারিবারিক মিলন এবং সামাজিক যোগাযোগেরও বিস্তৃত পরিসর তৈরি হয়। বিভিন্ন বয়সের মানুষ পূজামণ্ডপে সমবেত হন, প্রতিমা দর্শন করেন এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

মহা নবমী দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন দেবী দুর্গার মহিষাসুরবধের স্মৃতি বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। অন্যায়, অশুভ শক্তি ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে দিনটির তাৎপর্য রয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিশেষ পূজা, মন্ত্রপাঠ, হোমযজ্ঞ, আরতি এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি প্রতিমার সৌন্দর্য, মণ্ডপসজ্জা এবং ঐতিহ্যবাহী আয়োজন উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সন্ধ্যায় বিভিন্ন স্থানে মহাআরতি ও অন্যান্য ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবমীর পূজা সম্পন্ন হয়।

এ বছরের দুর্গোৎসব ঘিরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার উত্তরার পাশাপাশি রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো উৎসবের ব্যাপ্তি আরও বাড়িয়ে তোলে।

ভারতীয় হাইকমিশনারের এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন দুর্গোৎসবের শেষ পর্যায়ে এসে ভক্তদের মধ্যে বিজয়া দশমীর প্রস্তুতি চলছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রসঙ্গ বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে। ধর্মীয় উৎসবে একে অন্যের প্রতি শুভেচ্ছা জানানো, আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা সামাজিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যেও এই সহাবস্থান ও সম্প্রীতির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। উৎসবের আনন্দ যেন নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছর মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে বজায় থাকে, সেটিই তাঁর বক্তব্যের মূল তাৎপর্য। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতা বাড়ানো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দুর্গাপূজার মতো উৎসব তাৎপর্যপূর্ণ। দুই দেশের বাংলাভাষী মানুষের মধ্যে বহু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিল রয়েছে। দুর্গাপূজা সেই অভিন্ন ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের উৎসবে অংশগ্রহণ মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।

মহা নবমীতে উত্তরার সর্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উপস্থিতি উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাকে সামনে এনেছে। তাঁর বক্তব্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎসবের এই বার্তা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখার প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছে।


ট্যাগ: #দুর্গাপূজা #মহানবমী #দীনেশত্রিবেদীউত্তরাধর্মীয়সম্প্রীতিসামাজিকসম্প্রীতি

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।