সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে রব শ্মিটের সতর্কবার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক প্রশ্নমাস্কের স্পেসএক্স-টেসলা একীভূতকরণের আলোচনা, সম্ভাব্য মূল্য ছাড়াতে পারে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারইয়েমেনের তাইজে পানির সংকটে ঝুঁকিতে ১৬ লাখ শিশুর জীবন ও ভবিষ্যৎ এখনকানাডার পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, আদালতে খাদ্য আমদানিকারকের মামলাট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে রিচার্ড পেটি, মধ্যবর্তী ভোটের আগে গ্রিনভিলে রিপাবলিকানদের শক্তি প্রদর্শন

কানাডার পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, আদালতে খাদ্য আমদানিকারকের মামলা

কানাডার পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই।

কানাডার পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, আদালতে খাদ্য আমদানিকারকের মামলা
কানাডার পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, আদালতে খাদ্য আমদানিকারকের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে দেশটির নিউ জার্সিভিত্তিক খাদ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গেলের্ট গ্লোবাল গ্রুপ। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে মামলাটি দায়ের করে। প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো একটি আইন ব্যবহার করেছে। সেই আইনের প্রয়োগ কতটা বৈধ, তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই।

মামলাটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয় নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কতটা বিস্তৃত, তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। মামলাকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রশাসন যে আইনের ভিত্তিতে শুল্ক আরোপ করেছে, সেটির প্রয়োগে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আদালত এখনো মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

গেলের্ট গ্লোবাল গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের একটি খাদ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে খাদ্যপণ্য আমদানি করে মার্কিন বাজারে সরবরাহ করে। কানাডা থেকে পনির আমদানি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার একটি অংশ। নতুন শুল্কের কারণে আমদানির ব্যয় বেড়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই বাড়তি ব্যয় ব্যবসার মুনাফা কমানোর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা ও ভোক্তাদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মামলাটি পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটিকে সহায়তা করছে অলাভজনক আইনি সংগঠন লিবার্টি জাস্টিস সেন্টার। সংগঠনটির বক্তব্য, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক আরোপ ও বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মৌলিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। কংগ্রেস নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিতে পারে, কিন্তু সেই ক্ষমতা সীমাহীন নয়। তাই পুরোনো একটি আইন ব্যবহার করে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের বৈধতা আদালতের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছে মামলাকারী পক্ষ।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ১৯৩০ সালের শুল্ক আইন, যা স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন নামে পরিচিত। এই আইনের ৩৩৮ ধারায় বিদেশি কোনো দেশ মার্কিন বাণিজ্যের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলে নির্ধারিত হলে প্রেসিডেন্টকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার বিরুদ্ধে এই বিধান ব্যবহার করেছে। তবে এই ধারার প্রয়োগের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এর বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি।

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক বাণিজ্যনীতি অনুসরণ করছে। বিশেষ করে দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন উৎপাদকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব বাণিজ্যিক বাধার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে কানাডার পণ্যে শুল্ক আরোপের বিরোধীরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের সরবরাহব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে।

মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা। মামলাকারী পক্ষের অভিযোগ, কানাডীয় পনিরকে শুল্কের তালিকায় যুক্ত করার পর মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে শুল্ক আদায় শুরু করা হয়। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে নতুন পণ্যের ক্ষেত্রে ৩০ দিনের অপেক্ষার বিধান রয়েছে। এ কারণে শুল্ক কার্যকরের প্রক্রিয়া আইনসম্মত ছিল কি না, তা আদালতের বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এটি মামলাকারী পক্ষের অভিযোগ; আদালত এখনো এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় দেয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির আরও দাবি, শুল্কের কারণে তাদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মামলার নথির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি শুল্ক পরিশোধ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই বাড়তি ব্যয় আমদানিকারকের পাশাপাশি সরবরাহকারী, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ পর্যন্ত কিছু পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তবে ভোক্তাদের ওপর প্রকৃত প্রভাব কতটা হবে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দুই দেশের খাদ্যশিল্প, কৃষি, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে আন্তসীমান্ত নির্ভরতা রয়েছে। এক দেশের উৎপাদিত পণ্য অন্য দেশে প্রক্রিয়াজাত হয়ে আবার বাজারে ফিরে আসার ঘটনাও ঘটে। ফলে আমদানি শুল্ক বাড়লে একই পণ্য সরবরাহের একাধিক ধাপে অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হতে পারে। এ কারণে বাণিজ্যনীতি নিয়ে বিরোধের প্রভাব শুধু আমদানিকারকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; উৎপাদক ও ভোক্তারাও এর প্রভাব অনুভব করতে পারেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এর আগেও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে আগের মামলাগুলোর রায় বর্তমান বিরোধের সরাসরি নিষ্পত্তি নয়। কারণ এবারের মামলায় ১৯৩০ সালের শুল্ক আইনের ৩৩৮ ধারার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আদালতকে তাই সংশ্লিষ্ট আইনের ভাষা, প্রয়োগের শর্ত এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ আলাদাভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। আগের কোনো রায়ের ভিত্তিতে বর্তমান শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

গেলের্ট গ্লোবাল গ্রুপের মামলায় শুল্ককে বেআইনি ঘোষণা, শুল্ক আদায় বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের অর্থ ফেরতের মতো প্রতিকার চাওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আদালত এসব আবেদন মঞ্জুর করেছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক বাতিল বা অর্থ ফেরতের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রচার করা যাবে না। মামলা দায়েরের অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট পক্ষ তাদের আইনি দাবি আদালতে উত্থাপন করেছে; দাবি গ্রহণযোগ্য কি না, তা নির্ধারণ করবেন আদালত।

এই মামলার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আদালত যদি মামলাকারী প্রতিষ্ঠানের যুক্তি গ্রহণ করে, তাহলে পুরোনো আইনের ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান গ্রহণযোগ্য হলে একই আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে নতুন আইনি নজির তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে এসবই সম্ভাব্য পরিণতি; চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কোনো পক্ষের জয় নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করা যায় না।

কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে নতুন মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, নির্বাহী ক্ষমতা এবং আমদানিকারকদের ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বকে সামনে এনেছে। এখন নজর থাকবে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। মামলার শুনানি ও রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৩০ সালের আইন ব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কতটা আইনি ক্ষমতা রাখে।

ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রকানাডাবাণিজ্যযুদ্ধআমদানি_শুল্কআদালতে_মামলা

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।