সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মৃত্যুর গুঞ্জনের মাঝেই নতুন ছবিতে হাজির কিম জং উন, বিশ্বজুড়ে তোলপাড়পদত্যাগের পর নাহিদকে ইশরাকের কড়া জবাব, মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গননাইন-ইলেভেনের অভিযুক্তদের বড় ধাক্কা, সমঝোতা ফেরানোর আবেদন খারিজ করল যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতস্যান্ডি হুকের সেই ২০ শিশু আজ ভোটার হতো, ভাগ্য কেড়ে নিল বন্দুকের গুলিট্রাম্পের নতুন আইনি চাল! ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট কি পারবেন না যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত খুলতে?

পদত্যাগের পর নাহিদকে ইশরাকের কড়া জবাব, মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন

প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর নাহিদ ইসলামের সমালোচনার জবাবে কঠোর অবস্থান জানালেন ইশরাক হোসেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়েও দিলেন নতুন বার্তা।

পদত্যাগের পর নাহিদকে ইশরাকের কড়া জবাব, মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন
পদত্যাগের পর নাহিদকে ইশরাকের কড়া জবাব, মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন
মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে উপস্থিত হওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, তাঁর কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় মাদকের ভয়াবহতা ও তা প্রতিরোধের বিষয়টি যথাযথভাবে আলোচনায় আসেনি। বিষয়টি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাতে নিজের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ করে একটি বক্তব্য দেন ইশরাক। সেখানে তিনি লেখেন, নাহিদ ইসলামকে তিনি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ধারক হিসেবে কিছুটা হলেও ভাবতেন। কিন্তু তাঁর বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মাদকের মহামারি ও এর প্রতিকার নিয়ে আলোচনা না করে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ইশরাক।

ইশরাকের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হলে তিনি তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নাহিদকে উদ্দেশ করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকলে মামলা করা হোক, প্রয়োজনে তিনি কারাগারেও যেতে প্রস্তুত। তবে বক্তব্যের এই অংশকে ইশরাকের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখতে হবে; তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি এটি নয়।

ঘটনার সূত্রপাত রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে। গত ১৭ অক্টোবর ওই এলাকায় অভিযানে ইশরাক হোসেনকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র ছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর ভূমিকা, আগ্নেয়াস্ত্র বহনের যৌক্তিকতা এবং একজন সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক নির্মূলের উদ্যোগকে সামনে রেখেই তিনি ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, মাদকের বিস্তার ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ ছিল অভিযানটি। তিনি আরও দাবি করেন, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচু করেছিলেন। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা এবং ঘটনাটির আইনগত দিক নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের বিষয়।

ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক বাড়ার পর ১৯ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে তিনি নিজেই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা বা দলকে অস্বস্তিতে না ফেলতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, পদ ছাড়লেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে।

পদত্যাগের আগে তাঁর দায়িত্ব ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম দিকে ইশরাক এসব খবরকে গুজব বলে উল্লেখ করেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ফলে ঘটনাটির ধারাবাহিকতায় প্রথমে অস্বীকার, পরে পদত্যাগের ঘোষণা এবং সবশেষে নাহিদ ইসলামের সমালোচনার জবাব—তিনটি বিষয়ই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

অন্যদিকে, নাহিদ ইসলাম ১৯ অক্টোবর ইশরাকের পদত্যাগের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগের প্রসঙ্গও তুলেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, একজন প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন; এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহির বিষয়টিও সামনে আসা উচিত। এই মন্তব্য থেকেই ইশরাক ও নাহিদের মধ্যে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বাক্‌বিতণ্ডার প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হয়।

ইশরাকের পদত্যাগ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও ভিন্নমত দেখা গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এক পক্ষের মতে, সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছে এই সিদ্ধান্ত। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, মাদকবিরোধী উদ্যোগের মতো বিষয়ে কোনো জনপ্রতিনিধি সরাসরি উদ্যোগ নিতে গিয়ে বিতর্কে পড়লে কঠোর সিদ্ধান্তের মুখে পড়ার নজির তৈরি হতে পারে। তবে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় সরকারি দায়িত্ব ও আইনগত সীমারেখা মানার প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। মাদক প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক বা সামাজিক ঐকমত্য থাকতে পারে; কিন্তু সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, তা আইনসম্মত ও জবাবদিহিমূলক হওয়া দরকার। একইভাবে, কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্কের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রমাণ, তদন্ত ও প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পর নাহিদ ইসলামকে দেওয়া তাঁর কড়া জবাব রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্ন, সরকারি দায়িত্বে জবাবদিহি এবং বিরোধী রাজনীতির বক্তব্য সবকিছু এখন একই আলোচনায় এসে মিলেছে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত, আইনি পদক্ষেপ কিংবা নতুন বক্তব্য এলে ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।


ট্যাগ: ইশরাকহোসেননাহিদইসলামবাংলাদেশরাজনীতিমাদকবিরোধীঅভিযান

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।