সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মৃত্যুর গুঞ্জনের মাঝেই নতুন ছবিতে হাজির কিম জং উন, বিশ্বজুড়ে তোলপাড়পদত্যাগের পর নাহিদকে ইশরাকের কড়া জবাব, মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গননাইন-ইলেভেনের অভিযুক্তদের বড় ধাক্কা, সমঝোতা ফেরানোর আবেদন খারিজ করল যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতস্যান্ডি হুকের সেই ২০ শিশু আজ ভোটার হতো, ভাগ্য কেড়ে নিল বন্দুকের গুলিট্রাম্পের নতুন আইনি চাল! ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট কি পারবেন না যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত খুলতে?

নাইন-ইলেভেনের অভিযুক্তদের বড় ধাক্কা, সমঝোতা ফেরানোর আবেদন খারিজ করল যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত খালিদ শেখ মোহাম্মদসহ তিন অভিযুক্তের আবেদন খারিজ করায় বাতিল হওয়া সমঝোতা আর ফিরল না, বিচারপ্রক্রিয়া এগোনোর পথ খুলল নতুন করে।

নাইন-ইলেভেনের অভিযুক্তদের বড় ধাক্কা, সমঝোতা ফেরানোর আবেদন খারিজ করল যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত
নাইন-ইলেভেনের অভিযুক্তদের বড় ধাক্কা, সমঝোতা ফেরানোর আবেদন খারিজ করল যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তাঁর দুই সহযোগীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ২০২৪ সালে করা একটি সমঝোতা চুক্তি পুনর্বহালের উদ্দেশ্যে তাঁরা এই আবেদন করেছিলেন। ওই চুক্তি কার্যকর থাকলে দোষ স্বীকারের বিনিময়ে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতো। আদালতের ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবরের সিদ্ধান্তে চুক্তি বাতিলের সরকারি পদক্ষেপ বহাল থাকল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আবারও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন খালিদ শেখ মোহাম্মদ, মুস্তাফা আল-হাওসাউই এবং ওয়ালিদ বিন আতাশ। তাঁদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ থাকা আর আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। এই মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাই করা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের দুটি ভবনে আঘাত হানে। আরেকটি বিমান ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে আঘাত করে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এসব ঘটনায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন। হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলে।

এই হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদকে ২০০৩ সালে পাকিস্তানে আটক করা হয়। পরে তাঁকে কিউবার গুয়ান্তানামো বে সামরিক আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয় ২০০৮ সালে। একই মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে সামরিক আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চালানোর চেষ্টা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন, প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা এবং সামরিক কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা নিয়ে বিরোধের কারণে মামলাটি বারবার বিলম্বিত হয়েছে।

২০২৪ সালে সামরিক প্রসিকিউটর এবং গুয়ান্তানামোর সামরিক আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায়। চুক্তির মূল শর্ত ছিল, তাঁরা অভিযোগ স্বীকার করবেন এবং এর বিনিময়ে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পাবেন। চুক্তিটি কার্যকর হলে মামলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তির সম্ভাবনা তৈরি হতো। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিচারিক জটিলতা কমিয়ে ভুক্তভোগীদের পরিবারকে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগও সৃষ্টি হতে পারত।

কিন্তু তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ওই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ১১ সেপ্টেম্বরের মতো ভয়াবহ হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হাতেই থাকা উচিত। চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। হামলায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও মতভেদ দেখা দেয়। কেউ কেউ মনে করেন, অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা বজায় রেখে পূর্ণাঙ্গ বিচার হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে কিছু পরিবার মনে করে, সমঝোতার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি হলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে পারত।

চুক্তি বাতিলের পর অভিযুক্তদের আইনজীবীরা আদালতে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। সামরিক আদালতের এক বিচারক প্রথমে মত দেন, অস্টিনের চুক্তি বাতিলের ক্ষমতা ছিল না। সামরিক কমিশনের আপিল আদালতও একপর্যায়ে সেই অবস্থান সমর্থন করেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক ফেডারেল আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ দুই-এক ভোটে সিদ্ধান্ত দেয়, চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রে অস্টিন তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমার মধ্যে ছিলেন। এই রায়ের ফলে সমঝোতা পুনর্বহালের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

এরপর খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তাঁর দুই সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, প্রতিরক্ষামন্ত্রী চুক্তি বাতিল করে প্রযোজ্য সামরিক আইন লঙ্ঘন করেছেন। তাঁদের মতে, সমঝোতা চুক্তি ছিল মামলার দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। কিন্তু ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর সর্বোচ্চ আদালত তাঁদের আবেদন শুনতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে এবং বাতিল হওয়া চুক্তি পুনর্বহালের আইনি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

আদালতের এই সিদ্ধান্তকে অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার রায় হিসেবে দেখা যাবে না। সর্বোচ্চ আদালত মূলত মামলাটি পর্যালোচনার আবেদন গ্রহণ করেননি। ফলে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনাও বহাল রয়েছে। তবে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।

মামলাটির সবচেয়ে জটিল দিকগুলোর একটি হলো অভিযুক্তদের কাছ থেকে নেওয়া জবানবন্দি ও অন্যান্য প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা। তাঁদের কয়েকজনকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার গোপন আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতনমূলক পদ্ধতি প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে খালিদ শেখ মোহাম্মদের ওপর পানিতে ডুবিয়ে নির্যাতনের অনুকরণমূলক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে পূর্ববর্তী প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংগৃহীত প্রমাণ বিচারক গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে আইনি বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তি বিচারকে আরও বিলম্বিত করতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিচার শুরুর তারিখ ২০২৮ সালের জুনে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তারিখ নির্ধারিত হওয়া মানেই ওই সময় বিচার নিশ্চিতভাবে শুরু হবে, এমন নয়। প্রমাণ, আইনি আবেদন এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তকে হামলার শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা মনে করেন, সমঝোতা বাতিলের ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মামলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের একটি অধ্যায় শেষ হলেও মূল বিচার এখনো বাকি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার, প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা এবং মৃত্যুদণ্ডের প্রশ্ন সবকিছুই পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে। প্রায় এক চতুর্থাংশ শতাব্দী ধরে চলা এই মামলার পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং হামলার শিকার পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।


ট্যাগ: খালিদশেখমোহাম্মদযুক্তরাষ্ট্রসর্বোচ্চআদালতনাইনইলেভেনবিশ্বসংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।