সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা মানেই জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে প্রতারণা: প্রধানমন্ত্রীমধ্যপ্রাচ্যের পথে আরও এক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি, ইরান ঘিরে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনাগ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে প্রাণ হারালেন ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশী, শোকের ছায়া পরিবারেমধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সতর্কতা, বারো দেশে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা মার্কিন নাগরিকদেরমধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র, ইরান সংঘাত নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গ্রিন কার্ডের পথে বড় বাধা, আট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আবেদন স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে আটটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত সব বাংলাদেশি অভিবাসী বা সব কর্মভিসাধারীর ওপর প্রযোজ্য নয়।

গ্রিন কার্ডের পথে বড় বাধা, আট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আবেদন স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
গ্রিন কার্ডের পথে বড় বাধা, আট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আবেদন স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরিতে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে আটটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। গত ৮ অক্টোবর ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল এবং ক্যাপজেমিনির মাধ্যমে করা নতুন ও অপেক্ষমাণ কিছু কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ এসব প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি বা পিইআরএমের আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করেছে। 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অনিয়ম এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারল্যান্ড এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতিও বিষয়টি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অনেকেই তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্য বিশ্লেষণ ও অন্যান্য পেশায় কাজ করেন। তাঁদের কেউ কেউ নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করেন। তাই কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের নিয়মে পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবীদের পরিকল্পনাও প্রভাবিত হতে পারে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ঘোষিত স্থগিতাদেশটি নির্দিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠানের পিইআরএম কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত প্রত্যেক বাংলাদেশি, সব এইচ-১বি ভিসাধারী কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীর আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি। কারও আবেদন এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে তাঁর নিয়োগকর্তা, আবেদনের ধরন এবং প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থার ওপর।

পিইআরএম হলো যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়া। কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে প্রথমে দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না বা বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হয়েছে। এই ধাপ শেষ হওয়ার পর সাধারণত নিয়োগকর্তা বা আবেদনকারীকে পরবর্তী অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

অর্থাৎ, পিইআরএম প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়া মানেই কারও গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। আবার আবেদন আটকে গেলে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই পরিণতি হবে, এমন কথাও বলা যায় না। যাঁদের আবেদন ইতিমধ্যে অন্য ধাপে পৌঁছেছে, তাঁদের পরিস্থিতি নতুন আবেদনকারীদের থেকে আলাদা হতে পারে।

শুধু এই স্থগিতাদেশের কারণে সব এইচ-১বি ভিসাধারীর বৈধ অবস্থান বাতিল হয়েছে—এমন কোনো তথ্য ঘোষণায় নেই। এইচ-১বি হলো নির্দিষ্ট শর্তে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের কাজ করার অনুমতি দেওয়ার একটি ব্যবস্থা। অন্যদিকে পিইআরএম কর্মভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়ার একটি ধাপ। দুটি বিষয় এক নয়।

তবে যাঁদের এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, তাঁদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে জটিল করতে পারে। তাঁদের নিজস্ব আবেদন, ভিসার মেয়াদ এবং অন্য কোনো বৈধ বিকল্প আছে কি না, তা অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

প্রযুক্তি খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ ও স্থায়ীভাবে ধরে রাখার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পিইআরএম আবেদন গ্রহণ বা প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মীর স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা পিছিয়ে যেতে পারে। তবে কতজন কর্মী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাঁদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি এবং স্থগিতাদেশ কত দিন থাকবে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশিত হয়নি।

মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ ১৫ অক্টোবর রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রকাশিত বক্তব্যে সতর্ক করেছেন, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ডের সুযোগ সীমিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত আন্তর্জাতিক প্রতিভা ধরে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য হলো, মার্কিন কর্মীদের সুযোগ ও নিয়োগব্যবস্থার নিয়ম রক্ষা করা প্রয়োজন। 

যাঁরা সংশ্লিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন বা সেখানে চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন, তাঁদের প্রথমে নিয়োগকর্তার মানবসম্পদ বিভাগ ও অভিবাসন আইনজীবীর কাছ থেকে লিখিতভাবে নিজের আবেদনের অবস্থা জানা উচিত। পিইআরএম আবেদন জমা হয়েছে কি না, শ্রম সনদ অনুমোদিত হয়েছে কি না এবং পরবর্তী অভিবাসন ধাপ শুরু হয়েছে কি না—এসব তথ্য যাচাই করা জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সব তথ্য বিশ্বাস না করে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ ও নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সিদ্ধান্তকে সব বাংলাদেশি অভিবাসীর গ্রিন কার্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না।

ট্যাগ: গ্রিনকার্ডযুক্তরাষ্ট্রঅভিবাসনকর্মভিত্তিকগ্রিনকার্ডপ্রযুক্তিখাতবিদেশিকর্মী

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।