ঢাকাকে বদলাতে চান প্রধানমন্ত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিলেন কড়া বার্তা
ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নগর ভবনে মতবিনিময় সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, আন্তরিকতা ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য অর্জনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, আন্তরিকতা ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন করা অংশ এবং নবনির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনে যান। সেখানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। পরে তিনি সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় নগর পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকাকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করে তোলার জন্য সবার আগে প্রয়োজন ইতিবাচক চিন্তা, পরিবর্তনের ইচ্ছা এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার মানসিকতা। দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে নগরীর পরিবেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর বক্তব্যে নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর রাখার দায়িত্ব শুধু কোনো একটি বিভাগ বা ব্যক্তির নয়। নগরের বিভিন্ন সেবা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেরই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে। তাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার পাশাপাশি কাজের প্রতি আন্তরিকতা বজায় রাখতে হবে। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে তার প্রভাব সমাজ ও দেশের ওপরও পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকার পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের উন্নয়ন নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। রাস্তাঘাটে ময়লা জমে থাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, জলাবদ্ধতা এবং অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার মতো সমস্যাগুলো নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ও জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নগর পরিচালনায় দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার বিষয়টি এ কারণেই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
নগর ভবন পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক কার্যক্রম সম্পর্কে একটি তথ্যচিত্র ও উপস্থাপনা দেখেন। এ আয়োজনের মাধ্যমে সংস্থাটির কার্যক্রম এবং নগরসেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এরপর তিনি নগর ভবনের মিলনায়তনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. শহিদুল হাসান। প্রধানমন্ত্রীর নগর ভবন পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভার খবর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন করা অংশ এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীতে নাগরিকদের জন্য উন্নত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উদ্যানের আধুনিকায়নের মাধ্যমে এলাকাটিকে সবুজ ও নাগরিক বিনোদনের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার উদ্যোগের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কী ধরনের পদক্ষেপ নেন, তা নগরবাসীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। তবে শহরের পরিবেশে বাস্তব পরিবর্তন আনতে ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর পাশাপাশি ধারাবাহিক কাজ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।





