সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের আগুন, প্যারিস-মার্সেইয়ে দাঙ্গা-লুটপাটে চাপে সরকার, বাড়ছে জনঅসন্তোষজেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন আলোচক চান ট্রাম্প, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপযুক্তরাষ্ট্রের আট অঙ্গরাজ্যে পরীক্ষাগারে তৈরি মাংস নিষিদ্ধ, খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে বিতর্কনিউইয়র্কের পাতালরেলে গুলিতে তরুণ নিহত, শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মেয়র মামদানিট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবে বিতর্ক, নিউ মেক্সিকোর নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ করার দাবি

নিউইয়র্কের পাতালরেলে গুলিতে তরুণ নিহত, শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মেয়র মামদানি

নিউইয়র্কের ব্যস্ত পাতালরেল স্টেশনে গুলিতে প্রাণ হারালেন ২৬ বছরের নিরাপত্তাকর্মী ড্যারেল রদ্রিগেজ। ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি।

নিউইয়র্কের পাতালরেলে গুলিতে তরুণ নিহত, শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মেয়র মামদানি
নিউইয়র্কের পাতালরেলে গুলিতে তরুণ নিহত, শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের ব্যস্ত পাতালরেল স্টেশনে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী ড্যারেল রদ্রিগেজ। শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ম্যানহাটনের সপ্তম অ্যাভিনিউ ও পশ্চিম ৫৩তম সড়কের কাছের পাতালরেল স্টেশনে এ প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে। এ হত্যাকাণ্ডে শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরটির মেয়র জোহরান মামদানি। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিহত তরুণের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের ওপর তাঁর আস্থার কথা তুলে ধরেন।

ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটেছে, যখন বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নগরের গণপরিবহনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দিনের ব্যস্ত সময়ে স্টেশনে গুলির ঘটনা সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

নিহত রদ্রিগেজ ব্রঙ্কস এলাকার ইউনিভার্সিটি হাইটসের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ম্যানহাটনের একটি দপ্তর ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিচিত ব্যক্তিরা তাঁকে শান্ত স্বভাবের তরুণ হিসেবে স্মরণ করেছেন।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর প্রায় ১২টা ২০ মিনিটে স্টেশনটির ই ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে দুই বা তিনজন পুরুষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। তদন্তকারীদের বর্ণনায়, তর্কবিতর্ক প্রথমে প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়ে একটি স্টেশনে থামা ট্রেনের ভেতরে গড়ায় এবং পরে আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে। একপর্যায়ে গুলির ঘটনা ঘটে। তবে বিরোধের সূত্রপাত কী নিয়ে হয়েছিল, তা তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি।

গুলিতে রদ্রিগেজের বুকে আঘাত লাগে। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশি তদন্ত শুরু হলে ওই স্টেশন দিয়ে চলাচলকারী কিছু ট্রেনকে সাময়িকভাবে না থেমে এগিয়ে যেতে হয়। ফলে যাত্রীদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। ব্যস্ত নগরের গণপরিবহনে এমন ঘটনা প্রত্যক্ষ করা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মেয়র মামদানি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই গুলির ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও ক্ষুব্ধ। তাঁর বক্তব্যের সারকথা হলো, নিউইয়র্কের প্রতিটি বাসিন্দার প্রতিটি ট্রেন ও প্রতিটি পাতালরেল প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ থাকার অধিকার রয়েছে। নগরের পাঁচটি প্রশাসনিক অঞ্চলে যেখানেই মানুষ যাতায়াত করুন না কেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, নগরে বন্দুক সহিংসতা দূর করতে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। নিহত ব্যক্তির স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করার বিষয়ে পুলিশের সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।

ঘটনার পর নগরের পাতালরেলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে মামদানি এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেননি। তিনি তদন্তকারী পুলিশের ওপর আস্থার কথা বললেও নিরাপত্তা জোরদারে কী অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেননি। ফলে গণপরিবহনে নিরাপত্তা বাড়াতে প্রশাসন নতুন ব্যবস্থা নেবে কি না, সে বিষয়ে অপেক্ষা রয়ে গেছে।

পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। প্রকাশিত বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর পরনে ছিল লাল রঙের পোশাক, কালো হাতকাটা জ্যাকেট এবং মুখে কালো আবরণ। তাঁকে সর্বশেষ সপ্তম অ্যাভিনিউ ধরে উত্তর দিকে চলে যেতে দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে কেবল পোশাকের বর্ণনার ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি এবং ঘটনার পেছনের কারণও নিশ্চিত হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অপরাধের উদ্দেশ্য বা দায় সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

নিহতের প্রতিবেশী ও বন্ধুরা তাঁকে শৈশব থেকেই চেনেন বলে জানিয়েছেন। তাঁদের স্মৃতিতে রদ্রিগেজ ছিলেন শান্ত, হাসিখুশি এবং অন্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা একজন তরুণ। তাঁর এক বন্ধু সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁকে কখনো অন্যদের ভয় দেখাতে বা অকারণে রাগ করতে দেখেননি। পরিবারটির জন্য এই মৃত্যু যে গভীর আঘাত, তা তাঁদের বক্তব্য ও শোক প্রকাশের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রদ্রিগেজের যমজ ভাইও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ফিরে আসছেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

এদিকে, চলতি বছরে নগরের পাতালরেল ও বাসব্যবস্থায় প্রাণঘাতী সহিংসতার হিসাবও আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এ পর্যন্ত গণপরিবহনে এটি সপ্তম হত্যাকাণ্ড; গত বছরের একই সময় পর্যন্ত সংখ্যাটি ছিল চার। একই সঙ্গে পরিবহন কর্তৃপক্ষের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মহামারিকাল বাদ দিলে গত ১৫ বছরের মধ্যে চলতি বছর পাতালরেলব্যবস্থার তুলনামূলক নিরাপদ বছরগুলোর একটি। অর্থাৎ, সামগ্রিক অপরাধ পরিস্থিতি ও গণপরিবহনে নির্দিষ্ট ধরনের সহিংসতার প্রবণতা এক নয়; দুটি বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো চলমান। সন্দেহভাজন ব্যক্তির গ্রেপ্তার, বিরোধের প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাড়াতে নগর প্রশাসনের পদক্ষেপ এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। মেয়র মামদানির শোক ও ক্ষোভের বক্তব্যের পাশাপাশি নগরবাসীর প্রত্যাশা, অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে, দায়ী ব্যক্তি শনাক্ত হবেন এবং গণপরিবহনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ট্যাগ: নিউইয়র্কজোহরানমামদানিপাতালরেলতরুণহত্যা

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।