ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলা, এক রাতে ১,০১৫টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি রাশিয়ার, বিদ্যুৎহীন ২০ হাজার
রাশিয়ার দাবি, এক রাতেই ইউক্রেনের ১,০১৫টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে হামলার পর প্রায় ২০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এক রাতেই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ১,০১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর রাত থেকে ১৮ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে এসব ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানায় মস্কো। তবে এই সংখ্যাটি রাশিয়ার সরকারি দাবি; স্বাধীনভাবে এর সম্পূর্ণ সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন হামলা
রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ড্রোন হামলার পর বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। আঞ্চলিক গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেঙ্কোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে ১৪৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। হামলার ধ্বংসাবশেষের কারণে কিছু স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ানিনো এলাকায় দুটি ট্রান্সফরমার সাবস্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে প্রায় ৫০টি বহুতল আবাসিক ভবনের আনুমানিক ২০ হাজার বাসিন্দা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে পড়েন। জরুরি কর্মীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেন।
তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আগুন
ড্রোন হামলার সময় সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং আশপাশের এলাকায় তেল স্থাপনা, গুদাম ও অন্যান্য অবকাঠামোতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনাল এবং অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান Ozon-এর একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান VK-এর একটি ডেটা সেন্টারেও হামলার খবর পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ঘটনার পরও তাদের পরিষেবা সচল ছিল। হামলার কারণে সেন্ট পিটার্সবার্গের বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার পর জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামতের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন এবং স্থানীয় পরিষেবাগুলোতে সাময়িক অসুবিধা তৈরি হয়।
এ ধরনের হামলায় ড্রোন ধ্বংসের সংখ্যা ছাড়াও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবার ওপর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, ট্রান্সফরমার এবং জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের নতুন উত্তেজনা
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়ার দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
১৮ অক্টোবরের ঘটনাগুলো দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের ব্যাপকতা এবং জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে। তবে প্রতিটি হামলায় কতটি ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, কতটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছিল এবং কতটি ধ্বংস করা হয়েছে—এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সব সময় সম্ভব হয় না।
সারসংক্ষেপ: রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক রাতে ১,০১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে। লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে হামলার পর প্রায় ২০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েন। তেল স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামোতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।





