ইরানের শর্তে হরমুজ প্রণালী খুলতে পারে ছয় দিনে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ তেহরানের শর্ত পূরণ হলে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে পারে।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর প্রস্তাব এখনো বহাল রেখেছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উপস্থাপিত সাত দিনের প্রস্তাব এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাবের বিষয়ে কিছু মন্তব্য দিয়েছে, যা ইরান পর্যালোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এরপর সপ্তম দিনে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইরানের অন্যতম শর্ত
ইরানের প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ করা।
তেহরানের দাবি, এসব বিষয়ে সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার পথ তৈরি হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করতে চায়। এই বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্যের অন্যতম কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। সংঘাতের আগে বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। তাই প্রণালীটি পুনরায় নিরাপদে চালুর সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাজার ও বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সমঝোতার পথে অনিশ্চয়তা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও দুই দেশের মধ্যে এখনো সব শর্তে সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত ঘোষণা নেই। ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।





