সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইলিনয়ে আগাম ভোটের কেন্দ্র বাড়ল, নির্বাচনের আগে ভোটার উপস্থিতিতে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিতউত্তর ক্যারোলাইনায় ভয়ংকর ঝড়ের হানা, উত্তাল সমুদ্র ও বন্যার শঙ্কায় পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশরমজানের সাজসজ্জা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা, খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের সমান অধিকার দাবিরোববার সন্ধ্যায় হেলিকপ্টার থেকে নেমে হোয়াইট হাউসে ফিরলেন ট্রাম্প, পুতিন-শি বৈঠকনিউইয়র্কে চাকরির সুযোগ: আগামীকাল নিয়োগ মেলায় সরাসরি দেখা মিলবে নিয়োগদাতাদের

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

রমজানের সাজসজ্জা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা, খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের সমান অধিকার দাবি

রমজানের সাজসজ্জায় সরকারি অর্থ ব্যয় নিয়ে ডিয়ারবর্নের মেয়র ও নগর প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা, সমান ধর্মীয় স্বীকৃতি দাবি করেছেন সাংবাদিক মার্গট ক্লিভল্যান্ড।

রমজানের সাজসজ্জা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা, খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের সমান অধিকার দাবি
রমজানের সাজসজ্জা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা, খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের সমান অধিকার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরে রমজান উপলক্ষে সরকারি অর্থে আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জা করা হলেও খ্রিষ্টানদের ইস্টার এবং ইহুদিদের পাসওভার উৎসবের জন্য একই ধরনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগে শহরটির মেয়র আবদুল্লাহ হাম্মুদ ও নগর প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা হয়েছে। সাংবাদিক ও আইনবিষয়ক লেখক মার্গট ক্লিভল্যান্ডের করা মামলায় সরকারি অর্থের ব্যবহার, ধর্মীয় সমতা এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। শহর কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে সব ধর্মের মানুষের প্রতি সমান আচরণের অঙ্গীকার করেছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সরকারি অর্থের নিরপেক্ষ ব্যবহার এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর সমান নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার বাদীপক্ষের বক্তব্য, কোনো একটি ধর্মের উৎসবকে সরকারি উদ্যোগে বিশেষভাবে তুলে ধরা হলে অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রেও ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা উচিত। অন্যদিকে, ডিয়ারবর্ন প্রশাসনের বক্তব্য, শহরটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সব নাগরিকের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মামলাটি ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মিশিগানের পূর্বাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলার বাদী মার্গট ক্লিভল্যান্ড এবং বিবাদী হিসেবে রয়েছে ডিয়ারবর্ন নগর কর্তৃপক্ষ ও মেয়র আবদুল্লাহ হাম্মুদ। মামলাটি নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, এটি কেবল উৎসবের সাজসজ্জা নিয়ে প্রশাসনিক মতবিরোধ নয়; বরং সরকারি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ধর্মীয় বৈষম্য হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও আদালতের সামনে তোলা হয়েছে। তবে মামলা দায়ের হওয়া মানেই বাদীপক্ষের অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেছে বা বিবাদীরা আইন ভঙ্গ করেছেন, এমন নয়।
মামলার পেছনের ঘটনাটি শুরু হয় ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে। বাদীপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় ডিয়ারবর্নের বিভিন্ন স্থানে রমজান উপলক্ষে আলোকিত ব্যানার এবং অর্ধচন্দ্রাকৃতির একটি বড় আলোকসজ্জা স্থাপন করা হয়। শহরের জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গায় এসব সাজসজ্জা দেখে ক্লিভল্যান্ড প্রশ্ন তোলেন, একই সময়ে খ্রিষ্টানদের ইস্টার এবং ইহুদিদের পাসওভার উৎসবের জন্য কেন তুলনীয় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

ক্লিভল্যান্ডের বক্তব্য, তিনি রমজানের সাজসজ্জা বন্ধ করার দাবি জানাননি। বরং তাঁর দাবি ছিল, অন্য ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোকেও একই ধরনের সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হোক। এ কারণে তিনি নগর কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগ করেন এবং সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তা জানার জন্য তথ্য চাওয়ার আবেদন করেন।

মামলার নথিতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের যে হিসাব তুলে ধরা হয়েছে, তা নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে আলোকিত ব্যানার তৈরিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার এবং শহরের একটি পার্কে বড় অর্ধচন্দ্রাকৃতির আলোকসজ্জা স্থাপনে প্রায় ৫ হাজার ডলার ব্যয় করা হয়। সব মিলিয়ে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় বিনিময় হার অনুযায়ী কয়েক লাখ টাকার সমপরিমাণ।

তথ্য জানার আবেদনের মাধ্যমে পাওয়া নথি এবং বাদীপক্ষের উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যয়ের কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ জানা গেলেই যে বৈষম্যের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তা নয়। সরকারি অর্থ কোন উদ্দেশ্যে, কোন নীতিমালার আওতায় এবং কী ধরনের সাংস্কৃতিক বা নাগরিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যয় করা হয়েছে, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

বিতর্কের আরেকটি বিষয় হলো ডিয়ারবর্ন পুলিশ বিভাগের প্রতীকসংবলিত রমজানের বিশেষ পোশাক তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ। বাদীপক্ষের দাবি, পুলিশ বিভাগের সরকারি পরিচয়চিহ্ন ব্যবহার করে রমজান উপলক্ষে বিশেষ পোশাক বিক্রি করা হয়েছিল। এ ঘটনাকেও ধর্মীয় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণ হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা বা বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সব তথ্য এখনো প্রকাশ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাই পোশাক বিক্রির ঘটনাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং তার আইনি তাৎপর্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
ক্লিভল্যান্ডের অভিযোগ, তিনি ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল নগরীর আইন কর্মকর্তার কাছে ইস্টার ও পাসওভার উৎসবের জন্য সমান স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, তা জানতে লিখিতভাবে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই বার্তার কোনো উত্তর পাননি। পরবর্তী সময়েও তিনি নগর পরিষদের সদস্যদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানান।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ক্লিভল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য নগর পরিষদের সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পেলেও পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন। এরপরও তাঁর অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ আদালতের পর্যালোচনায় নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।

বিতর্কটি আরও জোরালো হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। মামলার নথি অনুযায়ী, ওই সময় রমজান উপলক্ষে শহরের সড়কবাতিতে নতুন অর্ধচন্দ্র ও তারার আলোকসজ্জা স্থাপন করা হয়। মেয়র হাম্মুদ এ উদ্যোগকে শহরের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের বক্তব্য, এর বিপরীতে ইস্টার, পাসওভার বা অন্য খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্মীয় উৎসবের জন্য তুলনীয় কোনো সরকারি আলোকসজ্জা বা ব্যানার স্থাপন করা হয়নি। এই পার্থক্যকেই ধর্মীয় সমতার প্রশ্নে মামলার অন্যতম ভিত্তি করা হয়েছে।
এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানের কথা সামনে এসেছে। প্রথম সংশোধনীতে সরকারকে কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা বা ধর্মীয় স্বাধীনতায় অযৌক্তিক বাধা দেওয়া থেকে বিরত রাখার নীতি রয়েছে। চতুর্দশ সংশোধনীতে আইনের সমান সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, সরকারি অর্থ ও সম্পদ ব্যবহার করে একটি ধর্মের উৎসবকে বিশেষভাবে তুলে ধরা এবং অন্য ধর্মের জন্য সমতুল্য সুযোগ না দেওয়া এসব সাংবিধানিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

তবে সরকারি স্থানে ধর্মীয় প্রতীক বা উৎসবের সাজসজ্জা থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অসাংবিধানিক হয়ে যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির উদ্দেশ্য, ব্যবস্থাপনার ধরন, ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পদ্ধতি এবং অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি আচরণ—এসব বিষয়ের ওপর আইনি মূল্যায়ন নির্ভর করতে পারে। তাই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে কোনো পক্ষকে আইনভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক হবে না।
এই মামলার সঙ্গে জড়িয়ে এসেছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নগর পরিষদের সভায় মেয়র হাম্মুদ ও খ্রিষ্টান যাজক টেড বারহামের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও। সভায় বারহাম ওয়ারেন অ্যাভিনিউয়ের একটি সড়কের নামকরণ নিয়ে আপত্তি জানান। ওই নামকরণে আরব বংশোদ্ভূত সংবাদপত্রের প্রকাশক ও সম্পাদক ওসামা সিবলানির নাম যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ছিল।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওই সভায় মেয়র বারহামকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, তিনি শহরে বসবাস করলেও মেয়র হিসেবে তাঁকে এখানে স্বাগত জানানো হচ্ছে না এবং তিনি শহর ছেড়ে গেলে তাঁর চলে যাওয়া উদ্‌যাপনে শোভাযাত্রা করা হবে। বক্তব্যটি মামলায় ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিরূপ আচরণের অভিযোগের প্রাসঙ্গিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই মন্তব্যের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

মেয়র হাম্মুদ আগে এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার জবাবে বলেছেন, তাঁর মন্তব্যকে ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে বিরোধের পরিবর্তে একটি পুরো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি বিরূপ মনোভাব হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিয়ারবর্নে খ্রিষ্টান, ইহুদি এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষও স্বাগত। ফলে একদিকে বাদীপক্ষ প্রশাসনের আচরণকে বৈষম্য হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে মেয়র ব্যক্তিগত বিরোধ ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি আচরণকে আলাদা করে দেখানোর অবস্থান নিয়েছেন।
শহর কর্তৃপক্ষও মামলা দায়েরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবস্থান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ধর্ম, জাতিগত পরিচয় বা সামাজিক পটভূমি নির্বিশেষে সব বাসিন্দাকে ন্যায্যতা ও সম্মানের সঙ্গে সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। শহরটির বৈচিত্র্যময় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সমালোচনা ও আক্রমণ বাড়ছে বলেও প্রশাসনের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব বক্তব্য মামলার অভিযোগের চূড়ান্ত জবাব নয়; আদালতে কোন তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপিত হয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
নগর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাল্টা যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা-ও এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ। আরব আমেরিকান সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদনে শহর কর্মকর্তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বড়দিন এবং নববর্ষের সাজসজ্জায় প্রায় ৪ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়েছে। এতে আলোকসজ্জা, সরঞ্জাম, রক্ষণাবেক্ষণ, বড়দিনের গাছ এবং যিশুর জন্মদৃশ্যসংবলিত প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানানো হয়। একই বক্তব্যে রমজানের সাজসজ্জায় ব্যয়ের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫০০ ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তথ্য মামলার অভিযোগের বিপরীতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তৈরি করে। তবে দুই ধরনের উৎসবের ব্যয় তুলনা করার সময় কোন খরচগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কোন সময়সীমা ধরা হয়েছে এবং উৎসবগুলোর জন্য বরাদ্দ কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে, তা যাচাই করা দরকার। বড়দিনের সাজসজ্জায় বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে—এমন তথ্য একাই ইস্টার ও পাসওভারের জন্য সমান সুযোগ ছিল কি না, সেই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর দেয় না। একইভাবে রমজানের সাজসজ্জায় অর্থ ব্যয়ের তথ্য একাই ধর্মীয় বৈষম্য প্রমাণ করে না।
ডিয়ারবর্নে বড়দিনের সাজসজ্জা, বড়দিনের গাছ, শিশুদের জন্য ইস্টার উপলক্ষে ডিম খোঁজার অনুষ্ঠান এবং যিশুর জন্মদৃশ্য প্রদর্শনের মতো কর্মসূচি রয়েছে বলেও শহর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। ফলে শহরটি খ্রিষ্টানদের কোনো উৎসবই পালন করে না—এমন বিস্তৃত দাবি তথ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। মূল বিরোধটি হলো, বাদীপক্ষ যে ধরনের সরকারি ব্যানার, আলোকসজ্জা ও ধর্মীয় প্রতীকের স্বীকৃতি চেয়েছে, সেই সুযোগ সব ধর্মের জন্য সমতুল্যভাবে দেওয়া হয়েছে কি না।

মামলায় বাদীপক্ষ আদালতের কাছে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘোষণা, ভবিষ্যতে ধর্মীয় বৈষম্যমূলক নীতি বন্ধ করার নির্দেশ এবং আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও আইনজীবীর খরচ চেয়েছে। আদালতের প্রকাশ্য নথি অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মামলাটি দায়ের করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের জন্য সমন জারি করা হয়। প্রকাশ্যে পাওয়া নথিতে মামলার দায়েরের তথ্য নিশ্চিত হলেও, এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত রায় হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, ডিয়ারবর্নের এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সরকারি নিরপেক্ষতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক সামনে এনেছে। রমজান উপলক্ষে সাজসজ্জা করা নিজে থেকেই অন্য ধর্মের প্রতি বৈষম্যের প্রমাণ নয়; আবার একটি ধর্মের উৎসব উদ্‌যাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেই অন্য ধর্মের মানুষের সমান আচরণ পাওয়ার প্রশ্ন অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায় না। সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা, নাগরিকদের আবেদন বিবেচনার পদ্ধতি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি প্রশাসনের আচরণ—সবকিছুই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

এখন মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে আদালতে উপস্থাপিত নথি, নগর কর্তৃপক্ষের জবাব এবং উভয় পক্ষের আইনি যুক্তির ওপর। তাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভুল অবস্থান হলো, ডিয়ারবর্নের মেয়র ও নগর প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগে মামলা হয়েছে, শহর কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে, এবং অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা এখনো আদালতের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয়নি।


ট্যাগ: ডিয়ারবর্নআবদুল্লাহ হাম্মুদমার্গট ক্লিভল্যান্ডযুক্তরাষ্ট্রের সংবাদধর্মীয় স্বাধীনতারমজানের সাজসজ্জাখ্রিষ্টান অধিকারইহুদি অধিকারসরকারি অর্থ ব্যয়ফেডারেল আদালতধর্মীয় বৈষম্যমিশিগান

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।